somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হাসিমুখের জিজ্ঞাসার জবাব...

০৬ ই এপ্রিল, ২০০৬ রাত ৯:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যারা কনটেক্সট বুঝতে চান, তারা এই পোস্ট এবং মন্তব্য পড়ে নিন:
Click This Link

হাসিমুখ, এখন নতুন বিতর্ক শুরু করার ইচ্ছা ছিল না, কারন আমি নতুন কিছু বলতেই, রেসিস্টিভ রিডিং করেন অনেকে এবং অর্থহীন মন্তব্য করেন, ব্যক্তিগত আক্রমনের বন্যা বইয়ে দেন... এবার সেরকম কিছু হবে না আশা করেই রিলাক্টেন্ট আমি কে খুঁচিয়ে দেখি কতদূর বের করতে পারি:

আপনার বেশ কয়েকটা প্রশ্নের উত্তরের জন্য একটা ব্যপার মাথায় রাখতে হবে:
আল কোরআন অনেকগুলো বক্তৃতা/বক্তব্যের সমষ্টি। যখন যেই আয়াতটুকু প্রয়োজন হতো মানুষের জন্য, তাই পাঠানো হত রাসূল (সা) এর কাছে, বক্তৃতার ভঙ্গিতে।
বক্তব্যের বিষয়বস্তুর উপর নির্ভর করে বিভিন্ন সময়ে আল্লাহ নিজের পরিচয়ের কথা বলেছেন। যেগুলোকে "গুণাবলী" বলছেন, সেগুলোই তো আল্লাহর পরিচয়! মানুষের জন্য নিজের গুণাগুণ গাওয়া খাটে না, কারন মানুষ পরিবর্তনশীল। আপনি আজকে সত্যবাদী, নিরহংকার মানুষ, আপনার খুব বেশি দিন লাগবে না মিথ্যাবাদী অহংকারী হতে... মানুষ "ফলেবল", আল্লাহ তা নন। আল্লাহ "অল পারফেক্ট"। তিনি "বদলে" যাবেন না। যেই দুর্বলতা দিয়ে তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন সেই দুর্বলতা তাঁর নেই... আল্লাহ "প্রাউড" কিন্তু "অ্যারোগেন্ট" নন। আল্লাহ প্রাউড, কারন তার সেই অধিকার আছে, মানুষের নেই, মানুষ ভবিষ্যতের কথা বলতে পারে না। আল্লাহ অ্যারোগেন্ট নন, অথর্্যাত, তিনি প্রাউড হলেও, ক্ষমতার অপব্যবহার করেন না কখনও, তিনি দয়ালু, সুবিচারক... এগুলো সব আল্লাহর পরিচয়ের অংশ...
দেখুন একজন মানুষের জন্য আল্লাহর যত গুণ সব কিছু একই সত্ত্বায় কল্পনা করা কঠিন। আল্লাহ মানুষকে ভালবাসেন, একই সাথে তিনি পাপীদের কঠিন শাস্তি দেয়ার কথা বলেন। এ দু'টো গুণ বেশির ভাগ মানুষ সেল্ফ কনফ্লিক্টিং মনে করেন, একই সত্ত্বায় কল্পনা করতে পারে না। আবার "মহান" আর "প্রাউড" এ দু'টোকেও আত্মবিরোধী মনে করেন। এরকম বহু গুণ আছে আল্লাহর যেগুলো একই সত্ত্বায় কল্পনা করতে মানুষের কষ্ট হয়, নিজের সীমাবদ্ধতার জন্য। এ জন্যই যুগে যুগে মানুষ বহু দেবতার দিকে ঝুঁকে পড়ে, যেখানে এক এক দেবতাকে এক এক রোল ডিস্ট্রিবিউট করে দেয়া থাকে। মানুষের এই প্রবনতার কথা আল্লাহ স্রষ্টা হিসেবে জানেন, সে জন্যই এই বার বার বলা, মনের গভীরে বদ্ধমূল করে দেয়ার জন্য, উপলব্ধির জন্য। আর কনটেক্সট অনুযায়ীও নির্ভর করে। আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ মানুষকে কৃতজ্ঞ হতে আহবান করেছেন, তার প্রাপ্য প্রশংসা তাঁকে দিতে বলেছেন এবং সাথে সাথে এটাও মানুষকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, নিজে নিজে প্রশংসিত, মানুষ তাঁর প্রশংসা না করলে তাঁর "পরিচয়ের" একটুও অদল বদল হবে না।

"সঠিক মস্তিষ্ক চচর্া" যারা করে তাদেরও টিকেট আছে। আমি কিন্তু এই ব্লগে কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমন করিনি একবারও, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমন পেয়েছি অনেক। প্রমান পাচ্ছি না, সঠিক মস্তিষ্ক চচর্া কেউ করেন।

সে যাক, এখানে মনে করিয়ে দিচ্ছি, আল্লাহ তাদেরকেই সম্বোধন করছেন, যারা "অন্যরা" করে, এটা ছাড়া অন্য যুক্তি দেখায় না... ইসলামে মাথা খাটাতে আহবান করা হয়, অন্ধভক্তি না... অন্য ধর্মলম্বিরা্ও যদি আল্লাহর শত কথার জবাবে শুধু এ কথা বলে, আমি ভেবে দেখব না, বাপ দাদার ধর্ম ছাড়া আমার পক্ষে সম্ভব না, তাহলে, তাদের ক্ষেত্্েরই কথাটা প্রযোজ্য। দেখুন অনেক মুসলিম কিন্তু অনৈসলামিক অনেক প্রথা বাদ দেয় না, "বাপ দাদার প্রথা" হিসেবে বা "সামাজিক প্রথা" হিসেবে (যেমন কিছু কিছু দেশের অনার কিলিং), সেই হিসেবে সে সব মুসলিমদের প্রতি্ও এখানে আহবান করা হয়েছে।

আনুষ্ঠানিকতা ফরজ কারন, ইসলামের প্রতিটা আনুষ্ঠানিকতা এক একটা আনুষ্ঠানিক ট্রেইনিং, জাগতিক জীবনে সিগনিফিকেন্স প্রচুর, মানুষের নিজের জন্যই। আমি রোজার উদাহরন দিয়ে তাই বলেছি। আর সত কাজের সংজ্ঞা কি? এক এক মানুষের কাছে তো সত কাজের সংজ্ঞা এক এক রকম তাই না?

এবার আসি চাঁদ সূর্যের কথায়। শুধু চাঁদ সূর্য না, আল্লাহ প্রতিটা সৃষ্টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন। পিপড়া, মাকড়শা, মৌমাছি এসব কিছুকে খুটিয়ে দেখতে বলেছেন... কেন? এগুলো সব কিছুই আল্লাহর সৃষ্টির--> আল্লাহর মাহাত্মকে প্রমান করে... বৈজ্ঞানিক দিকে দৃষ্টি আকর্ষন করে বলছেন? আল্লাহ বলেছেন, তিনি সব কিছুকে নিয়মের মধ্যে রেখেছেন, তিনি নিয়মের স্রষ্টা। এখন যুগে যুগে মানুষ কি সেই নিয়মটা খুঁজে বের করার চেষ্টাই করছে না বিজ্ঞানের মাধ্যমে? (কোরআনের বহু আয়াত আছে, যেখানে একটা সৃষ্টির কথা বলে আল্লাহ বলেছেন, "এসব চিন্তুশীল লোকদের জন্য নিদর্শন"... বিজ্ঞানীরা তো চিন্তাশীল তাই না?) ফিজিক্সের আইন বলেন আর কেমিস্ট্রির ল বলেন, সব কিছুর প্রত্যাবর্তক আল্লাহ... এটাই মানুষকে বলছেন তিনি... অসুবিধা কোথায় বুঝলাম না...
এসবের দিকে আল্লাহর দৃষ্টি আকর্ষনের আর্ও একটা কারন আছে... সাধারনত কেউ বা কিছু কে "ক্রেডিবল" বা "অথেনটিক" প্রমানের জন্য একটা বা কয়েকটা কারনই যথেষ্ট, তাই না? স্কুল কলেজ গুলো তে ম্যাথসের সূত্র গুলো সূত্র হিসেবেই শিখানো হয়, প্রতিটা সূত্র আর আলাদা করে প্রমান করতে হয় না। পাঠ্যবইয়ে আছে, তাই সেটা ক্রেডিবল, তাই না? ঠিক তেমনি বিজ্ঞানীরা যখন দাবী করেন, তারা একটা এক্সপেরিমেন্ট করে নির্দিষ্ট একটা ফলাফল পেয়েছে, তখন কি আমরা প্রত্যেকে একই এক্সপেরিমেন্ট করে সেগুলো নিজেরা প্রমানের চেষ্টা করি? না, ক্রেডিবিলিটি প্রমান হয়ে গেলে শুধু নি:শর্তভাবে মেনে নেই।
কোরআন মানুষকে স্রষ্টা ও সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা শুরু করানোর জন্য বিভিন্ন সময় এসব দিকে রেফারেন্স টানে। এর একটা ব্যপার নিয়েই গভীর ভাবে চিন্তা করলেই কোরআনের ক্রেডিবিলিটি প্রমানিত হয়ে যাবে... ব্যস, এরপরে আর প্রতিটা কথা আলাদা ভাবে প্রমানের দরকার নেই। দেখুন, আখিরাতের মত ব্যপারের কোন প্রমান নেই, শুধু "ক্রেডিবল, বিশ্বাসযোগ্য" একজন বলেছেন, সেটাই প্রমান। এক এক জন মানুষ এক এক আয়াত পড়ে অনুপ্রানিত হন...

3 নম্বরের উত্তর: লেখক স্রষ্টা।
তাঁর ইনটেনশন? মানুষের জন্য যেই টেকনিক কাজ করে সেই টেকনিক কাজে লাগানো। ভাল কাজের প্রতিদান আর খারাপ কাজের প্রতিফল ছাড়া কি মানুষ ভাল কাজ করে বলুন? একজন ঘোর নাস্তিক্ও ভাল কাজ করে নিজের মনের কাছে পরিষ্কার থাকার আশায়... সেটা্ও তো একটা রি্ওয়ার্ড তাই না? এটা মানুষের স্বাভাবিক প্রবনতা... "ইন্টেলেকচুয়ালি দুর্বল" এবং সবলদের...
খুব ইন্টেলেকচুয়ালি দুর্বলদের আর কিভাবে আপনি ভাল কাজ করাবেন? সবাই কে ইন্টেলেকচুয়ালি সবল করা তো অসম্ভব... মানুষের অসত কাজ করার যেই সীমাহীন ক্ষমতা, সেই ক্ষমতার অপব্যবহার আপনি আর কিভাবে বন্ধ করবেন?

আশা করি আপনার প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। আপনি ইসলাম সম্পর্কে কিছু স্পীচ শুনতে পারেন আমার লিংক গুলো থেকে ইউসুফ এস্টেস এর সাইটে গিয়ে। কিছু জিজ্ঞাসার চমৎকার জবাব পাবেন...
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
২৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৬)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০১



সূরাঃ ১৬ নাহল, ৯৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৯৩। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে এক উম্মাত (একজাতি) করতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দান করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×