somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উপহার

২১ শে মে, ২০১৫ রাত ১২:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অন্ধকারে এখন চোখ সয়ে এসেছে। একটু আগে সোহানী রান্নাঘরে মোমবাতি খুঁজে এসেছে। অন্ধকারে হাতড়ে খুঁজতে গিয়ে পরে সোহানীর মনে হয়েছে গত তিনমাস ধরে ঘরের জন্য মোম কেনা হয় না। এপার্টমেন্টএর সোসাইটি থেকেও আগে জানানো হয়নি জেনারেটর নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা। সোহানী এসব সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে দক্ষিণের জানালাটার কাছে এসে দাঁড়ালো। সামনের রাস্তাটাও বেশ নিরিবিলি। যেভাবে বাতাসের বেগ বাড়ছে, ঝড় আসার একটা ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। জানালাটা বন্ধ করতে যাবে এমন সময় বেজে উঠলো সোহানীর ফোন। রাকিব ফোন করেছে।
- কোথায় তুমি?
-লিফটে আটকা পড়েছি।
-ওহো জেনারেটর তো নষ্ট! আচ্ছা তোমার কাছে কেয়ারটেকারের নাম্বার আছে না? ফোন দাও ওকে।
-ফোন দিয়ে পাচ্ছিনা।সুইচড অফ।তুমি একটু নীচে যাও জলদি।
-আচ্ছা।এক্ষুনি যাচ্ছি।
সোহানী দরজা খুলে থমকে দাঁড়ালো। অন্ধকারে রাকিব দাঁড়িয়ে আছে।
- রাকিব, তুমি কিভাবে আসলে?
কোনো কথা না বলে রাকিব নিঃশব্দে ঘরে এসে দরজা বন্ধ করলো।
পকেট থেকে লাইটার বের করে জ্বালালো সে।
সোহানী মুখটা দেখে চমকে উঠলো।আড়াই বছর আগের খুব পরিচিত একটা মুখ।
অভ্র! হ্যাঁ অভ্রকে রাকিব ভেবে ভুল করেছে সে!
তুমি?এতবড় সাহস তোমার! আমার ঘরে ঢুকেছো! অন্ধকার ছাপিয়ে সোহানীর কণ্ঠস্বর শোনা গেলো।
হ্যাপি বার্থডে সোহানী! খুব বেশি একটা সময় নেবো না আমি তোমার। তোমার জন্য একটা সামান্য উপহার আমার তরফ থেকে।
হাত বাড়িয়ে অভ্রর হাত থেকে ছোট বাক্সটা নিলো সোহানী।
-আচ্ছা সোহানী, তুমি আমাদের বিষয়ে কখনো রাকিবের কাছে আলাপ করোনি?
-তুমি আর আমি ভালো বন্ধু ছিলাম। আমাদের বিষয়ে ওর কাছে গোপন রাখতে হবে এমন কিছু আসলে নেই। কিন্তু আমার যখন বিয়ের কথা চলছিলো, তখন আমার প্রতি তোমার বন্ধুত্বের থেকে একটু বেশি কিছু আচরণ আমার কাছে অসহ্য ঠেকছিলো। তাই তোমার সাথে আমি আড়াই বছর ধরে যোগাযোগ বন্ধ রেখেছিলাম।
-বাহ! হাসব্যান্ডের সাথে তো তোমার দারুণ বোঝাপড়া! কিছুই তো গোপন করোনি দেখছি।
-না তার প্রতি অবশ্য আমার শ্রদ্ধাবোধও নেই। অফিসের এক সহকর্মীর সাথে তার গোপন সম্পর্কের কথা জেনে গিয়েছি আমি।
-সোহানী, আমি বেশি সময় নিবোনা বলেছিলাম। রাকিব অফিস থেকে ফিরলো বলে।
অভ্র চলে যাওয়ার পর সোহানী সিঁড়ি দিয়ে নামতে যাবে, এমন সময় রাকিব পেছন থেকে এসে সোহানীর চোখ চেপে ধরে বলল,
-সোহানী আসলে ফোনে আমি যে লিফটে আটকা পড়ার কথা জানালাম,সেতা বানানো ছিলো।
ঘরের দরজার কাছে এসে রাকিব সোহানীর চোখ থেকে হাত সরিয়ে নিলো।
ঘর ভর্তি অনেক মানুষ। টেবিলে একটা বড় ব্ল্যাক ফরেস্ট কেক রাখা। সোহানীর যেটা খুব প্রিয়। বুঝতে আর বাকী রইলো না। এসবই ওর জন্য রাকিবের প্ল্যান।
সব গেস্ট চলে যাওয়ার পর অন্যসব উপহারের র্যা পিং খোলার আগে সোহানী অভ্রর দেওয়া বাক্সের ঢাকনা খুলে একটা ভাজ করা চিঠি পেলোঃ-
সোহানী,
তোমাকে সায়মা নামের যে মেয়েটা ফোন দিয়ে রাকিবের সাথে অফিসের সহকর্মীর বিষয়ে প্রতিনিয়ত তথ্য দিতো, সে আসলে আর কেউ না, আমার প্রেমিকা। যে খুব শীঘ্রই আমার স্ত্রী হতে যাচ্ছে। আমার কথাতেই তোমাকে ফোন দিতো সায়মা। আমি তোমাকে সুখী দেখতে চাইনি। কিন্তু এটাও চাইনি যে তুমি সবসময় আমাকে ঘৃণা করো। এক না একদিন তুমি আমার ঘৃণ্য চাল সম্পর্কে জানতে পারতে। কিন্তু আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। তাই নিজেই তোমাকে সব জানিয়ে দিলাম। রাকিবই তোমার জন্য সব থেকে যোগ্য।
ইতি তোমার বন্ধু
অভ্র

হাতমুখ ধুয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হয়েছে রাকিব। সোহানীকে প্রশ্ন করলো রাকিব।
-তোমাকে আমি কখন ফোন দিয়ে নামতে বলেছিলাম! তুমি দেরি করলে কেন? প্ল্যানটা তো পণ্ড হয়ে যেতো একটু হলে...
কোন কিছু না বলে সোহানী রাকিবকে জড়িয়ে ধরলো। কাঁদতে কাঁদতে বললো, আমি কী জানতাম সবার এতো কিছু প্ল্যানের কথা?
কথাটার মানে বুঝতে না পারলেও রাকিব সোহানীর কান্নাভরা চোখের অনন্ত সৌন্দর্যের দিকে বিহ্বলের মত তাকিয়ে রইলো...
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ: ইসলামপন্থী, ধর্মনিরপেক্ষ, নাকি রাজনৈতিক বাস্তববাদী?

লিখেছেন Sujon Mahmud, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৮

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত প্রশ্নগুলোর একটি হলো—তিনি কি সত্যিই ইসলামপন্থী ছিলেন, নাকি ইসলামকে মূলত রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×