somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

##খন্ডপ্রেম ২ ##

১৪ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ৮:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৪/০৭/২০১৭
অনুরা চলে গেছে। ওদের নিজেদের বাড়ীতে। আমি বাড়ীতে ছিলাম না। কাজের জন্যে বাইরে থাকতে হয়েছিল বেশ কিছুদিন। আজ ফিরে এসে দেখলাম বাড়ী ফাঁকা। নীরব-নিথর হয়ে আছে সেই কোলাহলময় একতলার প্রশস্ত করিডোর, সেই কলতলা, গাড়ীবারান্দা আর রান্নাঘর। থমকে আছে আমার সামনে ওদের ঘরের বন্ধ দরজা। দরজা খুলে আমার ঘরে ঢোকার মুখে মনে পড়ল সেই চাবি এগিয়ে দেওয়ার কথা। আমি জানতাম ওরা চলে গেছে, মানতে পারিনি। ঘরের মধ্যে এক অবাক শূন্যতা। মানুষ মনে হয় এরকমই হয়। যখন থাকে তখন না থেকেও শূন্যস্থান অনুভূত হয় না আর যখন থাকে না। পরিপূর্ণ বাগান জুড়েও এক নিঃসীম শূন্যতা। আসলে শূন্যতা না দৃশ্যত বা বাস্তব, শূন্যতা মানে মনের আকাশে বৃষ্টিহীন শরতের ঘোলা মেঘ।আমার ঘরের কম্পিউটারের টেবিল, আলনা, চেয়ার সবকিছু অত্যন্ত গোছালো। হয়তো অনু করেছে কিংবা ওদেরই কেউ। আমি মাথা ঘামালাম না। এক অদ্ভূত শূন্যতায় আমি ডুবে গেছি। সেই পনের দিনে আমি থেমে গেছি। আমার রাগগুলো সব কান্নার রূপ ধরেছে, চিৎকারগুলো হয়ে গেছে নীরবতা। আমি নীরবে বসে আছি। কয়েক সেকেন্ড, মিনিট, ঘন্টা কিংবা অনেক্ষণ ,সময়টা অজানা। আস্তে আস্তে রাত নামছে। তেষ্টা পাচ্ছে, জল খাচ্ছি। তেষ্টা মিটছে না। এই তেষ্টা মেটার না। সেই অবাক প্রশ্নটা বারবার উঠে আসছে। ছোট্ট একটা প্রশ্ন অজানা উত্তর, কেন ? এই ছোট্ট শব্দ কিংবা প্রশ্নটার উত্তর আমি জানি না।
বেশ কয়েকদিন কেটে গেছে। অনুদের ঘরের সামনে আমি দাঁড়াইনি বা ঘরের ভেতরে যাইনি। ঘরটাতে হয়তো অনু নেই। আছে অনু অনু ছায়া কিংবা অনু অনু গন্ধ। ছোটবেলায় যেমন বাবার গামছায় বাবা-বাবা গন্ধ কিংবা মায়ের কাপড়ে মা-মা গন্ধ পেতাম, বৃষ্টিভেজারও আলাদা গন্ধ ছিল। তেমনি বাড়ীটাতে, ঘরগুলোতে অনু অনু ছায়া কিংবা গন্ধ ছড়িয়েছে। না, আমার হ্যালুসিনেশান হয়নি কিংবা আমি অনুকে দেখিনি একবারও। আমি অনুকে অনুভব করছি। চোখে না কিন্তু মনে। হয়তো অনেক বেশি নস্টালজিয়া দেখাচ্চি কিংবা ওরকমই হাস্যকর কিছু। তবে যুক্তির বাইরের কিছু জগৎ থাকে, কিংবা পেটভরে জলপান করার পরেরও কিছু তৃষ্ণা, সেটা জানে একমাত্র চাতক পাখি। আমার বৃষ্টিহীন মরুভূমিতে একবিন্দু বৃষ্টির অভাব আমি বুঝতে পারছি।
সকাল থেকে দুপুর, দুপুর গড়িয়ে রাত, রাত গড়িয়ে সকাল। অনুরা আমাদের পাশের ঘরে থাকত। রাত বিরেতে স্বপ্ন দেখে ঘুমের ঘোরে চিৎকার করে ওঠা, ভোরবেলা উঠে স্কুলে বেরোবার তাড়া, স্নান করতে যাবার নামে মায়ের সাথে কান্না করা কিংবা সন্ধ্যেই জলখাবার খাবার বায়না সবকিছুকে আমি অনুভব করছি আমার মন দিয়ে, পরম মমতায় ।আমি ভালবাসা না এক অদ্ভূত টান অনূভব করছি। আমার ওর ছেড়ে যাওয়া মনে নেই। মনে আছে সেই সাধারন চেহারা বা কালো কালো অগভীর দুটো চোখ।এটাকে হয়তো মায়া বলে। গুরুজনেরা বলে মায়া খারাপ। তাতে আর কি ? সিগারেটের গায়েও তো নীতিকথা লেখা থাকে কিংবা এলকোহলে। তাতে কি কিছু আসে যায় ? মায়া খারাপ জেনেও আমায় মায়াতে টানছে। বাড়ছে পতঙ্গের অগ্নিমুখী টান।
হয়তো আমি আবার মরুভূমি হয়ে যাব। আমার বুকের নদী শুকিয়ে সেখানে বালি চিক চিক করবে। আমার মন আগের মতন পাথর হয়ে যাবে। তবু একদা একবিন্দু জলের তৃষ্ণা মুরুভূমির বুকে হয়তো জেগেই থাকবে। হয়তো মরুভূমিগুলো মানুষের মতই হয়। অনাদিকালের না পাওয়া বহমান নদীকেও মরুভূমি করে দেয়।
অনুরা জানে না তাদের চলে যেতে নেই। তাদের মতন অতিসাধারণরাও কারও কারও কাছে অসাধারণ। তারা বুঝতে পারে না, কিছু দিগ্বিদিক ছুটন্ত, না বশ মানা পতঙ্গও তাদের জন্যে থেমে যায় আজীবন। তবুও অনুরা চলে যায়। কারও চোখের এক সমুদ্র জল, এক উষর মরুভূমি ভালবাসা কিংবা কারও সারা জীবনের থেমে যাওয়া কিংবা অপেক্ষার পরওয়া অনুরা করে না। তবু এই মানুষগুলো দূর আকাশে জ্বলা অনু নামক একটি সন্ধ্যাতারার আশায় প্রতিদিন অপেক্ষা করে আর তীব্র তেষ্টায় রোজ মরতে থাকে।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ৮:৫৩
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানবজমিন, পার্থিব, চক্র: শীর্ষেন্দুকে যেমন পড়লাম

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৯



শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় লেখা শুরু করেন সাধারণত খুব অদ্ভুতভাবে।

যেমন তিনি চক্র উপন্যাস শুরু করেছেন একটি সাপের দৃষ্টিকোণ থেকে। হঠাৎ পড়ে বোঝা যায় না তিনি কার কথা বলছেন, কী বলছেন। সাপ চলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন মসজিদের কাজ শুরু করলাম

লিখেছেন প্রামানিক, ২৫ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৬


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

আলহামদুলিল্লাহ্, নতুন মসজিদের কাজ আজ থেকে শুরু হলো। আজ সকাল দশটায় গ্রামের কয়েকজন ধর্মপ্রাণ উদ‍্যোগী মানুষ নিজ উদ‍্যোগেই মাটি কেটে দিয়েছে।

আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর পূর্বে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৯২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০



প্রিয় কন্যা আমার-
ফাজ্জা তোমার স্কুল বন্ধ। তুমি তোমার নানা বাড়ি গেছো। এবার অনেকদিন থাকবে নানা বাড়ি। নার্সারি থেকে কেজি ওয়ানে উঠলে। বেতন বেড়েছে। খরচ বেড়েছে। আমি নিশ্চিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসাহাসি থেকে সাফল্যের ইতিহাস: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৫২



এক সময় অনেক সমালোচনার মুখে ছিল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ (সাবেক বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১)। তখন অনেকেই বলেছিল, এত টাকা খরচ করে এসব করে কোনো লাভ হবে না। কিন্তু আজ ধীরে ধীরে সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×