ছোট বেলায়
শবে'বরাত ছিল আমি
ও আমার
সমবয়সীদের কাছে
উত্সবের দিন ।
আমি,রাসেল,মহাব্বাত,
রসুল আমিন,খলিল,
ফিরুজ আমরা সংঘবদ্ধ
দল ছিলাম,
হাসিবও পরে যোগ দিতো ।
শবে'বরাতের দিন
সন্ধ্যার পর থেকেই
শুরু হতো আমাদের
আনন্দ ।
ঈশারের আযান দিলেই
গোসল করতে খালে
নেমে যেতাম ।
একসাথে অনেক মানুষ
গোসল করতাম ।
মজাই ছিল অন্যরকম ।
শবে'বরাতের সময়
আমরা সারারাত মসজিদে
অবস্থান করতাম ।
নামায,জিকিরে আমরা
মুখরিত থাকতাম ।
কে কয় রাকায়াত নামায
পড়তাম তা নিয়ে হতো
প্রতিযোগীতা ।
কে বেশি পড়তে
পারে তা নিয়ে
চলতো হাড্ডাহাড্ডি
লড়াই ।
হাসি-ঠাট্টাও করতাম ।
খলিল,আমি আর
রসুল আমিন ফাজলামি
বেশি করতাম ।
একবার তারাবির
নামাযের সময় হুযুরের
ফোনে ১৪৫ টি মিসকল
দিয়েছিলাম আমি আর
রসুল আমিন
সে কথা আরেকদিন
হবে ।
ক্লান্তি আসতো না
আমাদের ।
তবে মাঝে মাঝে
প্রস্রাব করতে বাইরে
যেতে হতো ।
তখন ওযু করতে
হতো সেই ফাঁকে একটু
ঘুরাঘুরিও হতো ।
তারপর শেষরাতের
দিকে মাইকে গজল
গাইতাম আমরা ।
মহাব্বাতের কন্ঠে মায়া
আছে,ও বেশি গাই তো ।
তারপর রোযা রাখার
জন্য খেতে বাড়ি যেতাম ।
খেয়ে দেয়ে এসে
ফজরের নামায পড়তাম ।
সকাল বেলা উঠে
আমরা ঘুরতে বেরোতাম
আর বাড়ি বাড়ি চলতো
সুজি আর রুটি
বানানোর ধুম ।
অন্যেরা রোযা থাকলেও
আমি পারতাম না ।
এক ঘুরলি দিয়ে বাড়ি
এসে রাঁন্নাঘরে যেতেই
রোযা ভঙ্গ হতো
সারাদিন অনেক
ভিক্ষুক আসতো ।
তাদের ঐদিন চালের
পরিবর্তে রুটি আর
সুজি দিতাম ।
সন্ধ্যাবেলায় ইফতারের
আগে প্রতিবেশীদের
বাড়ি থেকে রুটি
আর সুজি আসতো,
আমরাও দিতাম ।
এখন বড় হয়েছি ।
সুজি আর রুটির সেই
শবে'বরাত অনেক
আগেই হারিয়ে গেছে
কিন্তু স্মৃতির পাতায়
সেই দিনগুলি এখনো
আছে,থাকবে ।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





