সক্রেটিস
সক্রেটিসের জন্ম ৪৭০
খিস্টাব্দে গ্রীসের এথেন্সে ।
তিনি জন্মেছিলেন এক
গরীব ঘরে ।
বেঁটে,বিশ্রী টাইপের চেহারার
এই মানুষটা পৃথিবীকে নাড়িয়ে
দিয়েছিলেন ।
ব্যক্তিগত ভাবে সক্রেটিসের
জীবনী আমি তীব্রভাবে
অনুসরণ করি ।
"কেন আমি মুহাম্মাদ (সঃ)
কে আদর্শ না মেনে সক্রেটিসকে
মানি"
উগ্র ধর্মপন্থীদের এ নিয়ে একটা
মাথা ব্যথা আছে ।
ইসলাম ধর্মে হওয়ার কারনে
আমি মনে করি-
সক্রেটিস আল্লাহর একজন
নবী ছিলেন ।
আমি আমার এ ধারণার
প্রতি কঠিন যুক্তিও দেখাতে
পারি ।
আল্লাহর নবী হওয়ার যে
গুণাবলি দরকার তার সবটাই
সক্রেটিসের মাঝে ছিল ।
উল্লেখ্য,নবী ও রাসূলের
মধ্যে কিন্তু পার্থক্য আছে ।
কি পার্থক্য সেটা যদি না
জানেন তাহলে বাজার থেকে
এখুনি চু চু নিপল কিনে এনে
চুষতে থাকেন ।
সক্রেটিস ছিলেন পৃথিবীর
শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের একজন ।
তাঁর শিক্ষাদান পদ্ধতি ছিল
সবার থেকে আলাদা ।
তিনি শিক্ষার বিনিময়ে
কোনো অর্থ নিতেন না ।
আমি কিছুদিন আগে
ভেবেছিলাম,
জানুয়ারী থেকে টিউশনি
শুরু করবো কিন্তু সক্রেটিসের
কথা ভেবে ছেড়ে দেই ।
আমি নিঃসন্দেহে সক্রেটিসের
চেয়ে ভাল জীবনযাপন করছি ।
তাহলে কেন আমি শিক্ষাকে
বিক্রি করে দিবো !
আমি যদি কিছু জেনে থাকি
তাহলে সেটা অন্যকে আপনাতেই
জানিয়ে দিবো ।
সক্রেটিস যেমনটি করতেন ।
তিনি রাঁস্তাঘাট,হাটবাজারে
যেখানেই লোক সমাগম
দেখতেন দাঁড়িয়ে পড়তেন ।
যারা নিজেদের জ্ঞানী ও
পন্ডিত ভাবতেন তাদের
কে প্রশ্ন করতেন-
জ্ঞান কী ?
তারা থতমত খেয়ে যেতো ।
সক্রেটিস ছিল একজন
সেরা তার্কিক ।তার তর্ক
করার স্টাইলটাও ছিল
আলাদা ।
তিনি প্রথমে শুনতেন তারপর
একের পর এক প্রশ্ন করতেন ।
প্রতিপক্ষকে তিনি নাজেহাল
করে ছাড়তেন ।
এতে করে তাঁর অনেক
শত্রু জন্ম নিলো ।
তবে তরুণ সমাজে তাঁর
জনপ্রিয়তা আকাশসম হলো ।
তিনি কোনো বই লিখে
যাননি তবে বই রেখে
গেছেন ।
তাঁর দুটি শ্রেষ্ঠ বই হচ্ছে-
প্লেটো ও এরিস্টটল ।
এই দুজনই সক্রেটিসের নিজ
হাতে গড়া শিষ্য ।
সক্রেটিস মূলত এদের
দ্বারাই পৃথিবী ব্যাপী
ছড়িয়েছেন ।
সক্রেটিস ছিলেন বিনয়ী ।
তাকে কেউ গালাগালি
দিলেও তার মুখে হাসি
থাকতো ।
তিনি কোনদিন কারো
প্রতি রাগ দেখাননি ।
তার স্ত্রীর নাম ছিল
জানথিপি ।
এই মহিলা সক্রেটিসকে খুব
জ্বালাতন করতেন তবু
সক্রেটিস কোনদিন রেগে
যাননি ।
বিবাহিত জীবনে জানথিপি
সক্রেটিসের সাথে খ্যাচর
খ্যাচর করলেও সক্রেটিসকে
তিনি প্রচন্ড ভালবাসতেন ।
সক্রেটিসের মৃত্যুর পর তিনি
পাগলের মতো হয়ে যান ।
সক্রেটিস ছিলেন গণতন্ত্রের
তীব্র সমালোচক ।
গণতন্ত্রকে তিনি অপছন্দ
করতেন ।
তাঁর ভাষ্যমতে-
"একমাত্র যোগ্য ও বিজ্ঞ
লোকদেরই রাষ্ট্রক্ষমতা
পাওয়ার যোগ্যতা থাকবে,
যে ইচ্ছা সে রাষ্ট্রক্ষমতায়
বসাটা অনুচিত..."
সক্রেটিসের ভাগ্য ভালো
যে তিনি আমাদের
বাংলাদেশে জন্ম নেননি ।
যদি নিতেন তাহলে
এতোদিনে ক্রসফায়ারে
অক্কা দিতেন ।
এই নিয়ে একটা লেখা
খুব শিঘ্রই লিখবো ।
যার শিরোনাম-
"সক্রেটিস যদি বাংলাদেশে
জন্ম নিতেন" ।।
সক্রেটিস তার সারাজীবন
একটি মাত্র কোট ব্যবহার
করেছেন ।
শীত,গ্রীষ্ম,বর্ষা সবসময়ই
তিনি একটি কোট পরেই
থাকতেন ।
তিনি সারাজীবন খালি
পায়ে থেকেন ।
গ্রীসের তীব্র তুষারপাতে
যখন সবাই জুতা পরেও
হাঁটতে পারেনি তখন তিনি
খালি পায়ে অনায়সে হেঁটেছেন !
তিনি বলেছেন-
"যারা কুতসিত মনের
অধিকারী তাদের বাহ্যিক
সৌন্দর্য্যের প্রয়োজন হয়,
মনের সৌন্দর্য থাকলে
বাহ্যিক সৌন্দ্যের প্রয়োজন
নেই"
৭২ বত্সরের জীবনে
তিনি কোনদিন কোন
ব্যাপারে ভেঙ্গে পড়েননি ।
সক্রেটিসের পরিবার অনেক
অভাবের ভেতর দিয়ে গিয়েছে
তবু কোনদিন তিনি অর্থের
বিনিময়ে শিক্ষা দেননি ।
ইচ্ছে করলে তিনি সেই
সময়ের শ্রেষ্ঠ ধনীদের
একজন হতে পারতেন ।
তাঁর কাজে অনেক রাষ্ট্র
শাসকদের লোভনীয় প্রস্তাব
এসেছিল ।
তিনি তাঁর সব ফিরিয়ে
দিয়েছেন একটি কথা দিয়ে-
"গ্রীসে খুব অল্প পরিমাণ
অর্থ দিয়ে আমি খেতে পারছি
আর খাওয়ার জন্য সুপানি
হিসেবে ঐ তো ঝর্ণা আছে ।
এতো টাকা দিয়ে আমি
কি করবো ?"
তিনি বলেছেন-
বাঁচার জন্য খাও,খাওয়ার
জন্য বেঁচোনা ।
সক্রেটিস তাঁর সময়ের
সব প্রথা,ভ্রান্ত বিশ্বাস,
অন্যায় শাসন,ঘুণে ধরা
সমাজ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে
দাঁড়িয়েছেন ।
তাঁর বিরুদ্ধে চলে যায়
দেশের নামিদামী লোকেরা ।
তাকে দোষী সাব্যস্ত করা
হয় তুচ্ছ বিষয়ে ।
তিনি তাঁর পক্ষে কাউকে
আদালতে আনেননি,
কাঁঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি
তাঁর প্রতিপক্ষকে এমনভাবে
ঘায়েল করে পাঁকড়াও করেন
যে তাঁরাও বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে ।
তবু প্রহসনের মাধ্যমে
সক্রেটিসকে হেমলক বিষপানে
হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ।
সক্রেটিস হাসি মুখে তা
মেনে নিয়েছিলেন এবং
বলেছিলেন-
"রাষ্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে
দাঁড়িয়ে আমি রাষ্ট্রদ্রোহী
হতে চাইনা ।"
সক্রেটিসকে তার অনুসারীরা
পালানোর সুযোগ করে
দিয়েছিলেন ।
তিনি তা ফিরিয়ে দেন
এবং বলেন-
"আমি যদি এখান থেকে
পালিয়ে যাই তাহলে মানুষ
আমার সব কথাকে মিথ্যা
ভেবে নিবে,আমাকে
অপরাধী ভাববে ।
নিজের মুক্তির জন্য আমি
তা করতে পারিনা ।"
এমন সুন্দর একটা মানুষকে
হেমলক বিষের বাটি তুলে
দিয়েছিলেন তাঁরই ছাত্র
ক্রিটো ।
ক্রিটো বেশ ইতস্তত বোধ
করলে সক্রেটিস তাকে
বললেন-
"তুমি যা করছো রাষ্ট্রের
হুকুমে করছো ।
রাষ্ট্রের হুকুমের বিরুদ্ধে
যেওনা ।"
বিষ পান করে তিনি
স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা
করতে লাগলেন এবং তাঁর
ছাত্র প্লেটো,এরিস্টলের সাথে
কথা বলছিলেন ।
ধীরে ধীরে বিষের ক্রিয়ায়
তার পা ভারী হয়ে আসতে
লাগলো ।
তিনি শুয়ে পড়লেন এবং
তাঁর শেষ বাক্য ছিল-
"একজন আমার কাছে একটা
মুরগী পেতো,তুমি তা দিয়ে
দিও ।"
ধ্যাত্ আমার চোখে পানি
চলে এসেছে ।
মনে হচ্ছিল,
আমি সক্রেটিসের পাশেই
আছি ।
সক্রেটিস আমার আদর্শ ।
সক্রেটিস ছিলেন দর্শন
চর্চাকারী ।
আর দর্শনকে বলা হয়
সকল জ্ঞানের উত্স ।
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দার্শনিক
সক্রেটিস তার জ্ঞানের
ছাপ পৃথিবীর পাতায় পাতায়
রেখে গেছেন ।
তাঁর সারাজীবন শেষে
তাকে বলা হয়েছিল একটা
বাক্য বলতে ।
তিনি বলেছিলেন-
Know Thyself
(নিজেকে জানো )
ভাল থাকুন সক্রেটিস ।
আমিও আপনার একজন
অনুগামী ছাত্র ।
যদি কখনো পারেন,
স্বপ্নে সে শিক্ষা দিয়ে যাবেন ।
আমি অপেক্ষায় থাকবো....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



