somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধর্মান্ধতা ও ইসলামেরnপিছিয়ে পড়া,nপর্ব-১n

১৮ ই জানুয়ারি, ২০১৬ সকাল ৯:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ধর্মান্ধতা একটি বাঙ্গালীর
একটি জাতীয় সমস্যা বটে ।
ধর্মান্ধতার দুটি খারাপ দিক
আছে-
১। দেশ পিছিয়ে যায়
২। ধর্ম পিছিয়ে যায় ।

একটি ধর্মান্ধ জাতি কখনো
উন্নতির দেখা পায়না আবার
ধর্মান্ধতা ধর্মকে কলুষিত
করে ।
কারন ধর্মান্ধতা মানে হচ্ছে
মূর্খতা,অজ্ঞতা ।
অজ্ঞতা কখনো মুক্তি দিতে
পারেনা,
শুধু ডোবাতে পারে ।

ধর্মান্ধতার ফলে দেশ
কিভাবে ডুবছে সেটা
এই সিরিজের আলোচ্য
বিষয় না ।
আমি এখানে তুলে ধরবো
ধর্মান্ধতা কিভাবে ইসলামকে
ডোবাচ্ছে ।
এই কথা তুলে ধরতে গিয়ে
আপনাতেই দেশের কথা
চলে আসবে কারন এদেশের
৯০% মানুষ মুসলমান ।
ধর্ম ও রাষ্ট্র তাই পরস্পর
সম্পর্কযুক্ত ।।

আমার আব্বা কোনো
মাওলানা বা মুফতি না,
উনি একজন স্কুল শিক্ষক,
এখন অবসরপ্রাপ্ত ।
ছোটবেলায় আব্বা আমাকে
নিয়ে নামাযে দাঁড়াতো,
ইকামাত,আযান,সূরা
সবকিছুই আব্বার কাছ
থেকে শিখেছি কিন্তু আব্বা
কখনো ধর্মান্ধতার শিক্ষা
দেয়নি ।
আমার ঘুম ভাঙতো
আব্বার কোরআন শরীফ
পড়ার শব্দে,উনি ফজরের
নামায শেষ করে প্রতিদিন
কোরআনের কিছু আয়াত
পাঠ করতেন ।
আমার আব্বা,
একজন মুসলমান কিন্তু
ধর্মান্ধ নয় ।।

আব্বা কোনদিন আমাদের
ধর্মান্ধতার শিক্ষা দেয়নি ।
তিনি বলেন-
৫ ওয়াক্ত নামায পড়বা
আর সত্‍ থাকবা তাহলে
আল্লাহ খুশি হবেন ।
মনে রাখবে,
বিদ্ধান লোকের ঘুম আর
বলদের রাতভর ইবাদাত
থেকে উত্তম ।

আব্বার এই ধরনের বাণী
ছোটবেলা থেকেই শুনে
আসছি কিন্তু ধর্মান্ধতার
গন্ধ পাইনি ।

ধর্মান্ধতা আসলে কী ?
সহজ কথায় ধর্মান্ধতা
হচ্ছে অজ্ঞানতা,অসত্‍,
মূর্খতা,ভয় ইত্যাদির
সম্মিলিত রূপ ।

বাংলাদেশে যে ৯০%
মুসলমান আছে তার ৮০%
ভাগই ধর্মান্ধতা ।
এদের যেমন ধর্ম সম্পর্কে
স্পষ্ট ধারণা নেই তেমনি
জ্ঞানের অভাব আছে ।

জ্ঞানের অভাবের কারনেই
ধর্মান্ধতার সৃষ্টি ।
আমরা মনে করি,
কোরআন,হাদীস বলে কিছু
নেই ।
পাড়ার মসজিদ,মাদ্রাসার
যে প্রধান উনিই কোরআন,
উনিই হাদীস ।
উনি যা বলবেন সেটাই ।
অথচ হাদীসে আছে-
জ্ঞান অর্জনের জন্য সুদূর
চীন দেশে যাও ।

চীন দেশে যাওয়া লাগেনা
যদি আমরা ঘরে থাকা
কোরআন ও হাদীসের
পাতাগুলি ভালো করে পড়ি ।
সত্যি কথা বলতে কি,
আমরা সেদিকে ফিরেও
তাকাইনা ।

আমার সামনে ধর্মান্ধতা
দেখলে আমি তার প্রতিবাদ
করি ।
আমি একজন মুসলিম ।
ধর্মান্ধতা দিয়ে ইসলামকে
কলুষিত করে আখের
গোছাবেন,এটা অন্যরা
মানলেও আমি পারিনা ।
ঘটনাটা খুলেই বলি-
কোনো এক জুম্মার দিন
একজন আল্লাহওয়ালা ও
বেহেশতী পাছার অধিকারী
হুযুর মসজিদে হারাম-হালাল
নিয়ে বেশ খানিকক্ষণ বক্তব্য
রাখলেন ।
তিনি যা বলেছিলেন এক
কথায় তা হচ্ছে-
"হারাম খেয়ে যতোই ইবাদাত
করেন আল্লাহ কবুল করবেনা,
হারাম টাকা দিয়ে হজ্জও হবেনা,
যতোদিন আপনার শরীরে
হারাম খাবার থাকবে আল্লাহ
আপনার প্রতি অসন্তুষ্ট
থাকবেন ।"

অতি সুন্দর কথা বলেছেন
হুযুর ।
আমি আবার এইসব ব্যাপারে
মাথা উঁচু করে থাকি কারন
আমার আব্বা কোনদিন
হারাম কিছু করে আমাদের
খাওয়াননি ।
আমার কয়েকজন আপার
চাকরী হয় নাই শুধু
আব্বার কারনে,আব্বা
ঘুষ দিয়ে চাকরী নিবেন না ।
এইরকম একটা মানুষের ছেলে
আমি ভাবতেই ভালো লাগে ।
যা হোক,
ঐদিন নামাযের শেষে
আমি হুযুরের কাছে প্রশ্ন
করলাম ।
ভরা মজলিসেও করতে
পারতাম তবে তাতে আমার
প্রতি একধরনের আক্রমণ
হতে পারে বিধায় করিনি ।
হুযুরকে একা পেয়ে
বললাম-
হুযুর,
আমার একটা প্রশ্ন ছিল ।

হুযুরঃ
কি বলো ।

আমিঃ
হুযুর আপনি বললেন যে
হারাম খাবার শরীরে থাকলে
আল্লাহ অসন্তষ্ট হন এবং
যতোই ডাকাডাকি করুক
ইবাদাত কবুল হয় না ।

হুযুরঃ
হ্যা,সেটাই ।

আমিঃ
তাহলে হুযুর যারা হারাম
পথে আয় করে অঢেল
টাকার মালিক হয়েছে ।
তারা যে আপনার প্রতিষ্ঠানে
দান করতেছে,আপনি তা
মাদ্রাসার কাজে ব্যবহার
করছেন,খাচ্ছেন,খাওয়াচ্ছেন-
এগুলো কি হালাল ?

আমার কথা শুনে হুযুর
প্লাস্টিক হয়ে গেলেন ।।

এখানে ধর্মান্ধতা কোনটা ?

হুযুর ধর্মান্ধ নয় ।
হুযুর সত্যটা জানেন কিন্তু
ইনিয়ে বিনিয়ে মিথ্যাটা
বলেন ।
ধর্মান্ধ হচ্ছে মসজিদ ভরা
মানুষগুলি যারা হা করে
এইসব মিথ্যা গিলতে থাকে ।

আফসোস এদের দেখে,
একটা শ্রেষ্ঠ ধর্মকে উলট
পালট করে খাচ্ছে অথচ
কারো টুঁ শব্দ নেই ।

যারাই পাপী,যারাই অসত্‍,
যারাই হারামখোর,যারাই
সুদখোর,যারাই ঘুষখোর-
আমি তাদেরকেই দেখি
মাওলানাদের লুঙ্গি উঁচু
করে পাঁছা চুমাচুমি করতে ।
কোনো ভাল মানুষ কখনো
পাছা চুমাচুমি করেনা ।
ভাল মানুষ কোরআন,
হাদীস চুমাচুমি করে,
পাছা না ।।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্যাটারিচালিত রিকশা , তিন-চাকার যানবাহন ব্যবস্থাপনা, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষা এবং সিসা-দূষণরোধ বিষয়ে একটি সমন্বিত নীতিগত প্রস্তাব।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮


বাংলাদেশের নগর ও শহরতলির পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজি-বাইক ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক তিন-চাকার যান ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের যাত্রীদের জন্য অপেক্ষাকৃত কম খরচের পরিবহন, বিপুলসংখ্যক চালক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:০৭



ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি কেনা ও নির্মাণের টাকা কোথা থেকে এসেছিল-এই প্রশ্নটা মাঝেমধ্যেই অনলাইনে ঘুরেফিরে আসে। উত্তরটা আসলে লুকিয়ে নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয় - দরকার বিকল্প সরকার

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪



জামাতকে সংগঠন হিসেবে নিখুঁত বলা যায়, আলেম হতে হলে দীর্ঘদিন পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয় - মানে নেতা হবার আগে অবশ্যই পড়াশোনা করতে হবে, বিএনপি-লীগের এমন কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেলাশেষে

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

বাসায় আত্নীয় আসলে চলে যাবার সময় কিংবা তাদের বাড়ী থেকে ফেরার সময় ঘরের ছোট সদস্যের হাতে টাকা গুঁজে দেবার যে চল ছিল নিশ্চই আমরা কম বেশি সবাই সেটা সাথে পরিচিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসংখ্য মানুষের স্বপ্নের নায়িকা যিনি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১২



একদিন যে বিয়েকে ঘিরে ছিল পাঁচতারকা হোটেলের ঝলমলে আলো, ক্যামেরার অসংখ্য ফ্ল্যাশ আর শত মানুষের করতালি, সেই সংসারের আকাশেই কয়েক বছরের মধ্যে জমেছিল বিচ্ছেদের মেঘ। ১৯৮৭ সালের মে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×