somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বউ পিটানো.....!!

০২ রা মে, ২০১৫ রাত ৯:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আদিম সমাজের অর্ধনগ্ন মানুষগুলোকে দেখেছেন হয়তো বিভিন্ন মুভির সুবাধে।
পুরুষ'রা তাদের লিঙ্গ আড়াল করে রাখতো গাছের পাতা বা ছাল দিয়ে।
নারীদের ক্ষেত্রেও ছিলো একই অবস্থা।
তবে কোনো কোনো আদিম সমাজে নারীদের বুকের বিশেষ অংশটিও ঢেকে রাখতে দেখা যায়।
এই সমাজে নারীদের তেমন মূল্যায়ন না করা হলেও তাদের নির্যাতন করা হতো না।
তারপরেও আমরা তাদের জানি বর্বর অসভ্য জাতি হিসেবে।

আর একটু এগিয়ে আসি।
হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর আগমনকালীন সময়।
আরবে এই সময়টাকে বলা হতো অন্ধকারচ্ছন্ন যুগ।
তখন মেয়ে শিশুদেরকে জীবন্ত কবর দেয়া হতো।
নারীদেরকে দাসী বা যৌনকর্মী হিসেবে বাজারে কেনাবেচা করা হতো।
হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এই অন্ধকার থেকে নারীদের মুক্তির পথ খুজে বের করেন।
সময়ের পরিবর্তনে জানা যায় নারীদেরকে ইসলাম ধর্ম দিয়েছে অনেক বেশি মর্যাদা ও সম্মান।

যখন ছোট ছিলাম।
দেখেছি আশে-পাশের পুরুষদেরকে,
যারা নিজের রাগ মেটানোর জন্য বউকে পিটাইতো।
অনেক সময় দেখা গেছে স্বামীর নির্যাতনে স্ত্রী মারা যেতে,
আবার কেউ কেউ নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করতে।
জহির রায়হানের "হাজার বছর ধরে" উপন্যাসে বউ পিটানো চিত্রটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।

সময়ের পরিবর্তন সভ্যতার উন্নয়ন।
শিক্ষা মানুষকে অন্ধকার থেকে মুক্তি দেয় এবং দিচ্ছে।
শিক্ষা শুধু শিক্ষিতজনকেই আলোকির করে না,
সেই আলোয় বিকশিত হয় পুরো সমাজ ব্যবস্থা।
আমি যাদেরকে আগে বউ পিটাতে দেখেছি,
তারা কিন্তু এখনো শিক্ষিত হয়নি।
তবে তারা এখন আর বউকেও পিটায় না,
এই যে বললাম, শিক্ষার আলো একজন দু'জনের মাধ্যমে সমগ্র সমাজ ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়ে,
সেটার প্রভাবেই তারা প্রভাবিত বা বলা যায় আলোকিত।

তবে এই পুরুষ শাসিত সমাজে দূর্বলের উপর সবলের নির্যাতন এখনো পুরো মাত্রায় বন্ধ হয়নি।
আর এই সমাজে নারীকেই গণ্য করা হয় দূর্বল প্রাণী হিসেবে।
এখনো দেখি স্বামীর নির্যাতন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য নারী'রা ছুটে আসে বিভিন্ন বিচারালয় বা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সেলে।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জানা যায় যে, একজনের প্রতি অপরজনের সন্দেহ বা অবিশ্বাস অথবা যৌতুকের বকেয়া আদায়ের জন্য এই নির্যাতন চলে।
এই নির্যাতন একেক শ্রেণীর মানুষ একেকভাবে করে থাকে।
অতি নিম্ম লেভেল থেকে সর্বোচ্চ লেভেল পর্যন্ত এই নারী নির্যাতন বিশেষ করে বউ নির্যাতন লক্ষণীয়।
নিম্ম শ্রেণীর মানুষ যে নির্যাতন করে দৈহিকভাবে,
উচ্চ শ্রেণীর মানুষ তা করে মানসিক টর্চারের মাধ্যমে।
এখন মনে প্রশ্ন জাগতে পারে,
শিক্ষার আলো কি তাহলে এই আধাঁর দূর করতে ব্যর্থ?
না, শিক্ষার আলো কখনো ব্যর্থ হয় না।
তবে দুর্জন বিদ্যান বলে একটি ব্যাপার আছে।
এই দুর্জন বিদ্যান নিজেরা যেমন বিবেক-মনুষ্যত্বহীন হয়,
তেমনিভাবে সমাজের চারিপাশকে তারা কলুষিত করে।
তাই তাদের আর তাদের চ্ছত্রছায়ায় থাকা মানুষগুলোকেই বউ পিটাতে দেখা যায়।

আদিম সমাজে কিন্তু এই ধরণের নির্যাতন ছিলো না।
তারপরেও আমরা সেই সমাজকে অসভ্য সমাজ হিসেবে জানি।
আরবের অন্ধকার যুগে নারীদের মূল্যায়ন না করলেও কিন্তু বউ পিটানোর দৃশ্য ছিলো না তখন।
কিন্তু এই যুগে সভ্যতার মুখোশ লাগিয়ে কিছু পুরুষ এমন সব কাজ করে যাচ্ছে যা অসভ্য যুগের মানুষগুলিও কখনো করেছে বলে জানা যায় নি।
এখনো কিছু পুরুষ নিজের স্ত্রীকে অর্ধাঙ্গিনী ভাবতে পারেনি।
তার সামনে আবির্ভূত হয় একজন শাসক হিসেবে।
বাইরে কারো সাথে ঝামেলা হলে ঘরে গিয়ে বউকে নির্যাতন করে তার প্রতিশোধ নেয়।
পুরুষ তার নিজের বিশাল বড় বড় ভুলগুলোও তার চোখে ধরা পড়ে না।
কিন্তু তার স্ত্রীর সামান্যতম ভুল আকাশের সমান বড় মনে হয়।
সেই পুরুষ একবারও ভাবে না, যে মেয়েটি তাকে বিশ্বাস করে তার নিজের মা-বাবা অর্থাৎ সকল আপনজন রেখে চলে এসেছে তার সাথে, তাকে সে কিভাবে অবিশ্বাস করে?
কিভাবে তার দেহে-শরীরে আঘাত করে?
এখনো অনেক পুরুষ বিয়ে করে শুধুমাত্র তার দেহ ভোগ করার জন্য।
বিয়েটাকে নেয় ভোগের লাইসেন্স হিসেবে।
দেহের তুলনায় মনের গুরুত্ব তাদের কাছে ক্ষীণ।
বউয়ের চাওয়া-পাওয়া,
ভালো লাগা খারাপ লাগা তাদের কাছে অর্থহীন।
এই একবিংশ শতাব্দীতে এসেও সেই আদিম যৌন খেলায় তাদের সহধর্মিণীর মতামত বা ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা বা মূল্যায়ন করা হয় না।
তারপরেও ঘুরেফিরে সকল দোষে দুষ্ট করা হয় নিজের বউকেই।

এই পুরুষ শাসিত সমাজে এখনো অনেক পুরুষ নিজের বউকে পিটিয়ে কৃতিত্ব দেখায়।
আমি সেই সকল পুরুষ আর আদিম অসভ্য সমাজের বর্বর মানুষগুলির মাঝে বিশেষ কোনো পার্থক্য খুঁজে পাইনা।
তবে ধরণগত হালকা পার্থক্য আছে।
আদিম সমাজের মানুষগুলো ছিলো মুখোশহীন অসভ্য যদিও তারা এইভাবে বউ পিটাইতো না,
আর বর্তমানের এই শাসক শ্রেণীর পুরুষগুলো হচ্ছে মুখোশধারী অসভ্য।

তবে এটাও সত্য যে পুরুষ মানেই শাসক নয়,
বেশিরভাগ পুরুষ-ই বিশ্বাস করে তার স্ত্রী তার অর্ধাঙ্গিনী।
একজন ঘরের বাইরে বা দেশের বাইরে কঠোর পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করে,
আর অপরজন সংসার দেখে,
সন্তানদের লালন-পালন করে।
অথবা সেও তার স্বামীর সাথে অর্থ উপার্জন করে,
দু'জন মিলেই সন্তান লালন-পালন করে।
একে অপরকে বিশ্বাস করে।
কারণ বিশ্বাস হচ্ছে ভালোবাসার মুল শক্তি এবং সুখের অন্যতম মন্ত্র।
আর প্রকৃত ভালোবাসা তাদের সংসারেই বিরাজ করে।

কাজেই বলা যায়, বউকে পিটানো বা কোনো টর্চার করার মাঝে কোনো কৃতিত্ব নেই।
যা আছে, তা হচ্ছে অসভ্যতা, বর্বরতা, হীনতা ও মনুষ্যত্বহীনতা।
আসুন নিজেদের স্বার্থে এই অসভ্যতার বেড়াজাল থেকে বের হয়ে আসি এবং প্রকৃত মানুষ হই।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আম্লিগ যদি আসে তাহলে ....... :(

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৬



বিএনপি। আপনারা ১৭ বছর ঘরে থাকতে পারেন নাই কিন্তু এখন যদি আবার আম্লিগ ফিরে আনেন তাহলে আপনারা তো দূরের কথা আপনার বাড়ির মাটিও থাকবে না। আপনার ঘর-দরজা থাকবেনা। শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাঝে মাঝে তব দেখা পাই, চিরকাল কেন পাই না?

লিখেছেন ঋণাত্মক শূণ্য, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫২

বিল গেটস এর নামে একটা কথা প্রচলতি আছে; জানি না কথাটা বিল বলেছে কি না, তবে আমার কাছে মাঝে মাঝে কথাটা সত্য মনে হয়। কথাটা এমনঃ আমি কোন কাজ করবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশের দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য একটি কাকতাড়ুয়া মডেল–২০২৬ নীতিপত্র প্রস্তাবনা দৃশ্যমান জবাবদিহি, নাগরিক নজরদারি ও AI প্রযুক্তিনির্ভর অনিয়ম প্রতিরোধ ব্যবস্থা

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:০৮


বাংলাদেশে দুর্নীতি ও অনিয়ম মোকাবিলায় প্রচলিত ব্যবস্থার একটি বড় অংশ হলো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পরে তদন্ত ও শাস্তি।
কাকতাড়ুয়া মডেল–২০২৬-এর দর্শন হবে তার পাশাপাশি অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই প্রতিরোধমূলক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের ওপর হামলা নিন্দনীয়- কিন্তু নীতির মাপকাঠি কি সবার জন্য এক?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৩


বাঁধনের ওপর হামলা নিন্দনীয়- কিন্তু নীতির মাপকাঠি কি সবার জন্য এক?

আজমেরী হক বাঁধন ইতালিতে হেনস্তা ও হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই- আগস্টের আন্দোলনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রাক্টরগাজি → চাঁদগাজী → সোনাগাজী → জেনারেশন৭১ কে নিয়ে দুটি কথা।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৯


ব্লগার গাজী সাহেব জ্ঞানী কিন্তু তিনি কট্টরপন্থী তাঁর ছেড়া টাইপের মানুষ তবে আলাপচারীতার লোক হিবেবে উনি খারাপ না। আপনি যদি ওনার সংগে হিজড়া রানূ-র মতো জ্বীহুজুর জ্বীহুজুর বলেন এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

×