somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

এরশাদ বাদশা
জীবনের সব রঙিন মূহুর্তগুলো এখন শুধুই দুই এনজেল এর মাঝে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। তারা হাসলে আমি হাসি..তাদের বিন্দুমাত্র কষ্টে ভীষন ব্যথিত হই.. ব্যস্ততা যদিও দেয়না অবসর..তবু এক আধ টুকরো অবসরের মুহুর্তগুলো রাঙিয়ে দেয় ওরা দুজন..দে আর মাই ওয়ার্ল্ড..দে আর মাই ডটার..দ

স্বপ্নচোর- ২য়পর্ব

০২ রা মে, ২০০৮ রাত ১:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জানালা দিয়ে বাইরে তাকালো জয়। মুরাদপুরের এই বস্তিতে সকাল হয়ে গেছে অনেক আগেই। ছাপোষা মানুষগুলো বেরিয়ে গেছে জীবিকার সন্ধানে। যাদের কোনো কাজ নেই তারা এদিক-ওদিক বসে অলস সময় কাটাচ্ছে। জয় গুনে দেখেছে, মোট বাহান্নটা ঘর আছে এই বস্তিতে। তার মধ্যে তিনটে বাদে অধিকাংশই ছালা-টালা দিয়ে কোনোরকমে দাঁড় করানো। সেই তিনটে ঘরের একটা হচ্ছে, বস্তির মালিকের লোক কাসিমের, যে এখানকার হর্তা-কর্তা। দ্বিতীয়টা নিশিকন্যা পারুলের, বুভুক্ষ লোকদের মনোরঞ্জন করে যে ভালোই ইনকাম করে। আর অন্য ঘরটা জয়ের, লোক ঠকানো যার কাজ।
অন্য ঘরগুলোর তুলনায় এই তিনটা ঘর মোটামুটি ভালো। ছালার বদলে বেড়া, ভেতরে সিঙ্গেল খাট, চারখুঁটিঅলা একটা টেবিল, মোটামুটি এই হলো ঘরের আসবাব। তবে সবচাইতে বড় ব্যাপার হচ্ছে, ঘরগুলোতে ইলেকট্রিসিটি আছে। তাই পাঁচশো টাকা ঘর ভাড়ার সাথে এর জন্য আলাদা একশো টাকা গুনতে হয় ওদের।
হাতমুখ ধুয়ে রেডি হয়ে নিল জয়, বেরুতে হবে আজ, অনেকদিন বসে থেকে টাকার টান পড়ে গেছে। দু’মাসের ঘরভাড়া বাকি পড়ে গেছে। তাছাড়া কালুর বউটার অপারেশনের জন্যও অনেক টাকার দরকার।

রাস্তার মোড়ে মদিনা হোটেলে ঢুকল জয় নাস্তা করার জন্য। ওকে দেখেই রোজকার মতো সালাম দিল ফখরুদ্দিন, হোটেলের মালিক। তারপর প্রতিদিনের মতো কুশল জিজ্ঞেস করল, জয় অপেক্ষা করতে লাগলো কখন সেই কথাটা বলবে ফখরুদ্দিন,যেটা বলার জন্য এতো ধানাই-পানাই।
‘চাকরি-বাকরি হলো কিছু?’ বলল ফখরুদ্দিন।
‘এই, চেষ্টা করছি, হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ।’
‘কতোবার বললাম তোমাকে, এই দেশে তোমার মতো আইএ পাশ ছেলের চাকরি হবে না, কতো গ্রাজুয়েট রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে। ওসব চাকরির ধান্ধা বাদ দাও, চাক্তাইয়ে আমার চালের আড়তে ম্যানেজার হিসেবে জয়েন করো, ওখানে তোমার মতো একটা ছেলের খুব দরকার। জানোই তো, আজকাল বিশ্বাসী লোক পাওয়া কতো মুশকিল।’
জানি চান্দু, জানি, তোমার মতলব জানি, মনে মনে বলল জয়। প্রথমে চালের আড়তের ম্যানেজার, তারপর তোমার মেয়ের ম্যানেজার। ‘তুমহারি মকসদ জিন্দেগিমে পুরি নেহি হোগি’। ওই ‘কালো মোষটাকে’ মরে গেলেও বিয়ে করছিনা আমি।
মুখে বলল-‘ভেবে দেখি।’

খেতে খেতেই সেদিনের ঘটনা মনে পড়লো ওর। ফখরুদ্দিন সেদিন ওকে বাড়িতে দাওয়াত করেছিলো। জয় জিজ্ঞেস করেছিলো কী উপলক্ষ। ‘এমনিই, তেমন কিছুনা, বাইরে বাইরে ঘুরো, কী খাও, না খাও, দুটো ভালো-মন্দ খাবে।’
জয় তখন বুঝতে পারেনি এই জামাই আদরের মানে কী। তবে সত্যি সত্যিই যে ফখরুদ্দিন জামাই আদর করার জন্যই ওকে ডেকেছিলো, ও ভুলেও তা কল্পনা করেনি।
ফখরুদ্দিনের বউ ওকে পাঁচ সেকেন্ড পরপর যেভাবে বাবা বাবা করছিলো, জয়ের মনে হচ্ছিলো আসলেই সে মহিলার জন্মদাতা পিতা নয়তো!
হাতে বানানো নানান রকমের পিঠা, দোকান থেকে আনা হরেক রকম নাস্তা দিয়ে আপ্যায়ন করা হলো ওকে। জয় তখনো জানেনা পর্দায় এতোক্ষণ শুধু ছবির পাত্র-পাত্রীদের নাম দেখানো হচ্ছিলো। আসল অভিনয় শুরু হলো এর পরেই।
ক্রমশ.....
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মে, ২০১০ বিকাল ৪:১৭
১৩টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাদা নীল জার্সি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪২


গায়ে ভাই রে সাদা নীল জার্সি
গন্ধ বাতাসে উম্মুখ হয়ে আছি;
কখন হবে- কণ্ঠ নালীর মিছিল-
তারপর- তারপর- সজোরে কিক
গোল- গোল শব্দটা আনন্দ মুখর!
আমার জার্সির রঙগুলো আত্মহারা
রাতজাগা পাগলাপাড়া ফুটবল খেলা
নয়ন জলে টলমলে- স্মৃতির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাইরে এসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

এসো, বৃত্তবদ্ধ খাঁচা ছেড়ে বাইরে এসো,
কল্পনাতীত উদাত্ত আকাশে চোখ পেতে
দুজনে বসি ঘাস গালিচাতে আজ পাশাপাশি ,
দেখ, পুস্প-ফলে বৃক্ষদের একাগ্র তপস্যা
দেখ, পূর্নিমাকে অর্থ দেয় বিপরীত অমাবশ্যা ।

দেখ, সাপ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×