somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

এরশাদ বাদশা
জীবনের সব রঙিন মূহুর্তগুলো এখন শুধুই দুই এনজেল এর মাঝে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। তারা হাসলে আমি হাসি..তাদের বিন্দুমাত্র কষ্টে ভীষন ব্যথিত হই.. ব্যস্ততা যদিও দেয়না অবসর..তবু এক আধ টুকরো অবসরের মুহুর্তগুলো রাঙিয়ে দেয় ওরা দুজন..দে আর মাই ওয়ার্ল্ড..দে আর মাই ডটার..দ

স্বপ্নচোর- ৬ষ্ঠ র্পব

২৬ শে মে, ২০০৮ রাত ১:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘড়ি দেখল জয়, একটা বেজে দশ। কখন যে বেলা গড়িয়ে গেছে টেরই পায়নি ও, পেটে ছুঁচোর নাচন শুরু হওয়ায় টনক নড়ল। পেট পুজো করতে হবে, তবে তার আগে একটু ষ্টেশনরোড যেতে হবে। প্রীতম আছে কিনা দেখা দরকার, অনেকদিন ওর সাথে দেখা হয়নি।
গিয়ে দেখল ঠিকই বসে আছে প্রীতম রেলওয়ে ভবনের বেঞ্চিতে। ওকে দেখেই হাতের বস্তাটা রেখে উঠে দাঁড়াল।
‘আইসসুনা বদ্দা, এতদিন খডে ডুব মারি আছিলা যে?’।’ ( এসেছো বড়্দা, এতোদিন কোথায় ডুব মেরে ছিলে?’)
‘নারে, তা আর পারছি কই, দেখ চলে এলাম তোকে দেখতে।’ হেসে বলল জয়।
‘ভালা গইরজো, এহন চল ওটলত।’(ভালো করেছো, এখন চলো হোটেলে।)
‘কেন, খুব খিদে লেগেছে বুঝি?’ হেসে বলল জয়।
‘লাইগ্গি মাইনি, ভুগে ফেডর আঁতুরি-গুতুরি উদ্দা বাইর অই যার!’ (লেগেছে মানে, খিদেয় পেটের নাড়ি-ভুড়ি সহ বেরিয়ে যাচ্ছে!)
একবার এক রাজনৈতিক দলের জনসভায় কিছুক্ষণের জন্য দাঁড়িয়ে ছিল জয়, তখনই প্রীতমকে দেখতে পায় ও, অবাক হয়ে দেখে ছেলেটা খুব মন দিয়ে বক্তৃতা শুনছে। উদোম গা, কালি-ঝুলি মাখা চেহারায় অপার মায়া। সভা শেষ হওয়া পর্যন্ত ছেলেটা ছিলো, জয়ও থেকে যায় ওর সাথে কথা বলার জন্য।
‘তোমার নাম কী ভাই?’ জিজ্ঞেস করে জয় ওকে।
‘ডাক নাম পিচ্চি, আছল (আসল) নাম প্রিতম।’
‘কী করো তুমি?’
‘খাগজ তুয়াই বেচি।’ (কাগজ কুড়িয়ে বেচি।)
‘তার মানে টোকাই?”
‘অয়অ।’ (হ্যাঁ)

তারপর ওর জীবন কাহিনি শুনলো জয়। মনোযোগী শ্রোতা পেয়ে প্রিতমও বললো সব। আর দশটা টোকাইয়ের মতো ওর গল্পটাও সাধারণ এবং সাদামাটা। তবে জয়ের কাছে মোটেও তা মনে হলোনা, ওর নিজের জীবনের সাথে সাদৃশ্য খুঁজে পেল প্রিতমের জীবনের। বাবা মারা যাওয়ার পর মা আবার বিয়ে করেন। সৎ বাবার সংসারে মাত্র দশদিন টিকেছিলো ও, তারপর ওই মদখোর লোকটা মারতে মারতে একদিন তাড়িয়ে দেয় ওকে। লোকটা যখন ওকে লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছিল, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিল ওর মা, একবারও ওকে বাঁচানোর জন্যও এগিয়ে আসেনি, বলেনি- আমার সোনা মানিক ব্যাথা পাচ্ছে, ওকে আর আঘাত করোনা। চলে আসার সময় প্রীতম মায়ের চোখের দিকে তাকিয়েছিল অপরীসীম ঘৃণা নিয়ে।

জয়ের মনে প্রশ্ন জেগেছিলো, দশমাস দশদিন জঠরজ্বালায় কি জ্বলেনি ওই মহিলা? নিজের মধ্যে কি সযত্নে লালন করেনি আপন সন্তানকে?
করেছিলো, হয়তো বাধ্য হয়েই। নিজের শরীর থেকে প্রীতমকে আলাদা করার পর, কাঁচি দিয়ে নাড়ি কাটার পর, হয়তো মায়ার যে বাঁধন, সেটাও কেটে দিয়েছিলো ওই রাক্ষসী। নয়তো কেন নিজের সুখের জন্য পৃথিবীর তাবৎ মায়ের মুখে চুনকালি লাগালো সে।
বলতে বলতে কেঁদেছিলো প্রীতম, হয়তো জমাট বাঁধা অশ্রুর আগল খুলে গিয়েছিলো। আর জয়, জমতে জমতে পাথর হয়ে যাওয়া ওর সব দুঃখগুলো প্রীতমের অশ্রুর সাথে মিশে গলতে শুরু করেছিলো, তাই ওকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছিলো সেও। দুই ভাগ্য বিড়ম্বিত মানুষ নিজেদেরকে হালকা করে নিয়েছিলো সেদিন।

চলবে.....
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মে, ২০১০ রাত ২:৪৩
৮টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বৃষ্টি দিনের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৫



টিভি বা পত্রপত্রিকায় আবহাওয়া'র খবর নিয়ে নিউজ হয়-
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের পূর্বাভাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইন দ্যা শ্যাডোস অব ইল্যুশন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৮



রাজধানীর নিঝুম আবাসিক এলাকার তিনতলা ফ্ল্যাটের শোবার ঘরটি তখন ক্রাইম সিন টেপে ঘেরা। ধুলো জমে থাকা এয়ার কন্ডিশনারের শব্দের মাঝে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে রক্তের হালকা সোঁদা গন্ধ।

পিবিআই ইনভেস্টিগেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মস্তিষ্ক কাজ করার আগেই যখন উত্তর চলে আসে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৭


মস্তিষ্ক কাজ করার আগেই যখন উত্তর চলে আসে

একসময় কোনো প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে মানুষকে ভাবতে হতো। বই খুলতে হতো, লাইব্রেরিতে যেতে হতো, কারও সঙ্গে আলোচনা করতে হতো, ভুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্বাবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ-পর্ব ৪

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:১৬


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি ।
একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট
[link|https://www.somewhereinblog.net/blog/ali2016/3039397|১ম পর্বে থাকা গবেষনাটির পটভুমির লিংক – পর্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারের ছয় মাসের পোস্টমর্টেম....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:১০



সরকারের ছয় মাসের পোস্টমর্টেমঃ সমর্থনের জায়গা থেকেই কিছু কঠিন কথা.....

ছয় মাস খুব দীর্ঘ সময় নয়- কিন্তু একটি সরকারের দিকনির্দেশনা, নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতার কিছুটা ধারণা পাওয়ার জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×