somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

এরশাদ বাদশা
জীবনের সব রঙিন মূহুর্তগুলো এখন শুধুই দুই এনজেল এর মাঝে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। তারা হাসলে আমি হাসি..তাদের বিন্দুমাত্র কষ্টে ভীষন ব্যথিত হই.. ব্যস্ততা যদিও দেয়না অবসর..তবু এক আধ টুকরো অবসরের মুহুর্তগুলো রাঙিয়ে দেয় ওরা দুজন..দে আর মাই ওয়ার্ল্ড..দে আর মাই ডটার..দ

স্বপ্নচোর-৮ম র্পব

০৭ ই জুন, ২০০৮ বিকাল ৪:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সেই দিনটির কথা মনে পড়লো জয়ের, যেদিন আলোর সাথে কাটিয়েছিলো জীবনের সবচাইতে সুন্দর মুহূর্ত।
সেদিন ছিলো আলোদের স্কুলের বিদায় অনুষ্ঠান। জয়ও গিয়েছিলো, আলো ওকে দাওয়াত করেছিলো।
অনুষ্ঠান শেষ হয়ে যাবার পর আলো ওকে বলেছিলো অপেক্ষা করতে। কাঁচা রাস্তা ধরে হাঁটছিলো ওরা। সময়টা বর্ষাকাল হওয়ায় আলো সাথে করে ছাতা এনেছিলো।
‘স্কুলের পাট তো চুকিয়ে ফেললি, এখন?’ বলল জয়।
‘মানে?’
‘মানে আর কি, আমাদের গ্রামে একটা মেয়ে যখন হাইস্কুলের গন্ডি পেরোয়, সে তখন পুরোপুরি বিয়ের উপযুক্ত।’
‘তাতে কি হলো?’
‘হয়নি, তবে হবে। লাল টুকটুকে শাড়ি, মাথায় টিকলি দিয়ে সোজা শ্বশুরবাড়ী।’
‘অ্যাঁ! বয়েই গেছে, এখনো ঢের দেরি।’ কথাটা বলেই কেমন যেন গম্ভীর হয়ে গেলো আলো।
‘কি, চুপ হয়ে গেলি যে, চিন্তা ঢুকে গেলো মাথায়? অতো চিন্তা করিসনা, তোকে যে বিয়ে করবে সে খুব ভাগ্যবান, এবং আমার বিশ্বাস সে তোকে অনেক সুখে রাখবে।’
‘জ্যোতিষি হয়ে গেছিস?’
‘পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ে, ঘরকন্নার কাজে যথেষ্ট পারদর্শী, দেখতে খুব সুন্দর, নম্র-ভদ্র; ভালো বর পাবার জন্য এতোগুলো গুণ কি যথেষ্ট নয়?’
জয় দেখলো আলোর চোখের কোলে পানি টলটল করছে, কিছুটা অবাক হলো ও, বললো-‘আলো, তুই কাঁদছিস!’
‘জয়, তুই কি কোনদিনই বুঝবিনা?’
‘কিসের কথা বলছিস?’
আলো আর কোন কথা বললনা। জয় আসলে বুঝতে পেরেছিলো, আলো কি বলতে চায়। যে স্বপ্ন ও মনে মনে লালন করে আলো তা মুখে শুনতে চেয়েছিলো।
বুঝেও না বোঝার ভান করেছিলো ও। মাতৃহারা, বাবা থেকেও নেই, আত্মীয়-স্বজনেরা যাকে মনে করে পরগাছা,সে কি করে মুখ খোলার দুঃসাহস করে। তাই মনের মধ্যে সযত্নে লালিত সেই স্বপ্নকে গলা টিপে হত্যা করেছিলো ও।
এরপর চুপচাপ, নীরবে হাঁটতে লাগলো ওরা। ওদের মনের ভেতর জমতে থাকা বিষন্নতা যেন মেঘ হয়ে আকাশে ভেসে উঠলো, পুরো আকাশ ঢেকে গেলো কালো মেঘে। দুজনেই ওরা আকাশের দিকে তাকালো, কেউ কিছু বলার আগেই ঝমঝম করে নামলো শ্রাবণের ফল্গুধারা। আলো তাড়াতাড়ি করে হাতের ছাতা খুলে বললো-‘জয়, আয় ভেতরে।’ আসলো জয়, দুটো কিশোর-কিশোরী খুব কাছাকাছি হলো। ছাতার বাটে ধরা আলোর হাতের উপর আলতো করে হাত রাখলো জয়, সারা শরীর কাঁপছিলো ওর , কারণ এত কাছে আর কখনোই আসেনি ও আলোর।
বৃষ্টির বেগ ক্রমেই বাড়তে লাগলো। মাথাটাই যা একটু রক্ষা পাচ্ছিলো, গা ভিজে যাচ্ছিলো দুজনেরই। তারপর এক দমকা হাওয়া এসে উড়িয়ে নিয়ে গেলো হাতের ছাতা। জয় ত্বরিতগতিতে পা বাড়াতে যাচ্ছিলো ছাতা উদ্ধারের জন্য, ওর হাত ধরে ফেললো আলো, ‘যাবিনা, দাঁড়া।’
ওর দিকে তাকালো জয়, দেখলো- আলো বৃষ্টি মানবী হয়ে গেছে। ওর চোখে এক অন্যরকম দৃষ্টি, সে দৃষ্টির মানে বোঝে জয়। ওর চোখের ভাষা বলছে- ‘আর কোনদিন কি একসাথে বৃষ্টি ভেজা হবে?’
দাঁড়িয়ে থাকলো ওরা। বর্ষণমুখর বিকেলে ফাঁকা রাস্তায় একজোড়া কবুতরের মতো ভিজল ওরা, ভেজালো নিজেদের কষ্ট, অক্ষমতা, গ্লানি।
জয়ের ভাবনার সুতো ছিঁড়ে গেলো, কারণ বৃষ্টির ছোট ছোট ফোঁটা ওর গায়ে পড়তে শুরু করেছে। ওর আশে-পাশে মানুষের ভীড় আস্তে আস্তে কমতে শুরু করলো। বৃষ্টি কি শহরের মানুষের কাছে অচ্ছুত হয়ে গেছে ? ভাবলো জয়। সাথে সাথে ভাবনাটা বাতিলও করে দিলো। কারণ- এ শহরের মানুষ ছোটার উপর থাকে, তাদের আয়েশ করে বৃষ্টিতে ভেজার মতো সময় কোথায়?

চলবে....
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মে, ২০১০ রাত ২:৪৫
২৫টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাদা নীল জার্সি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪২


গায়ে ভাই রে সাদা নীল জার্সি
গন্ধ বাতাসে উম্মুখ হয়ে আছি;
কখন হবে- কণ্ঠ নালীর মিছিল-
তারপর- তারপর- সজোরে কিক
গোল- গোল শব্দটা আনন্দ মুখর!
আমার জার্সির রঙগুলো আত্মহারা
রাতজাগা পাগলাপাড়া ফুটবল খেলা
নয়ন জলে টলমলে- স্মৃতির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাইরে এসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

এসো, বৃত্তবদ্ধ খাঁচা ছেড়ে বাইরে এসো,
কল্পনাতীত উদাত্ত আকাশে চোখ পেতে
দুজনে বসি ঘাস গালিচাতে আজ পাশাপাশি ,
দেখ, পুস্প-ফলে বৃক্ষদের একাগ্র তপস্যা
দেখ, পূর্নিমাকে অর্থ দেয় বিপরীত অমাবশ্যা ।

দেখ, সাপ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×