somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটা নিরব ঘাতকের পূর্ণ ব্যবচ্ছেদ!!!

২৪ শে নভেম্বর, ২০২২ দুপুর ১:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



প্রারম্ভিক কিছু কথাঃ

''ঘাতক'' শব্দটা শুনলেই আমার মস্তিস্কে যে ভাবনাটার উদয় হয় সেটা হলো, নাঙ্গা তলোয়ার হাতে কোন একটা অবয়ব তীব্রবেগে আমার দিকে ছুটে আসছে! একটা দুঃস্বপ্নের মতো!! অনেকের মনে সেটা একে ৪৭ অটোমেটিক কিংবা নিদেনপক্ষে একটা ফুললি লোডেড পিস্তল বা রিভলভার হলেও হতে পারে। তবে ঘাতক মানেই যে সব সময়ে মনুষ্যাকৃতির কোন একটা কাঠামো হবে, তেমনটা না। মানবদেহের প্রতিটা অসুখই এক একটা বিভিন্ন মাত্রার ঘাতক। কিন্তু আমার পোষ্টের শিরোনামের ''নিরব ঘাতক'' বিষয়টা কি? নিরব ঘাতক হলো এমন কিছু অসুখ যেটা আমাদেরকে বুঝতেই দেয় না যে, সে একটা অসুখ। আমরা এটাকে আমাদের স্বাভাবিক জীবন-যাপনের একটা অংশ মনে করি। কিন্তু যখন সে পূর্ণমাত্রায় বিকশিত হয়, তখন বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই তেমন কিছু করার থাকে না। উদাহরন হিসাবে মৃগীরোগ বা হিস্টেরিয়ার (আধুনিককালে যেটাকে কনভার্সান ডিজঅর্ডার বলে) কথা বলা যায়। ট্রমাটিক নিউরোসিস বা সংক্ষেপে ট্রমাও এই তালিকায় আসে। লিস্ট লম্বা করলে পার্কিনসন্স কিংবা আলজাইমাসও চলে আসে! নিরব ঘাতকের আরেকটা বৈশিষ্ট্য হলো, এগুলোর আর্লী সিম্পটমগুলোকে নিয়ে হয় আমরা হাসি-ঠাট্টা করি অথবা ভুল ইন্টারপ্রেট করি; মোদ্দাকথা, গুরুত্ব দেই না।

২০১৮ সালে যখন আম্মার আলজাইমাস ধরা পড়েছিল তখন এই অসুখের আদ্যোপান্ত জানার জন্য নেট ঘাটতে ঘাটতে নেটের ছাল-বাকলা তুলে ফেললাম। আমার আত্মীয়-স্বজন আর বন্ধু-বান্ধবের মধ্যে ডাক্তারের সংখ্যা প্রচুর। তাদের সাথে যে কোনও আলাপেই অবধারিতভাবে আলজাইমাস প্রসঙ্গ চলে আসতো। হঠাৎ একদিন ভাবলাম, এটা নিয়ে একটা পোষ্ট দেই। খানিকটা লিখলামও। তারপরে বিভিন্ন কারনে অন্য অনেক অসমাপ্ত লেখার মতো এটাও চাপা পড়ে গেল। কিছুদিন আগে ব্লগার মিরোরডডল একটা পোষ্ট দিয়েছিল ভুলোমনের বিড়ম্বনা শিরোনামে। সেটা পড়ে আবার আংশিক লেখা পোষ্টটার কথা মাথায় আসলো। তারপরে আবার প্রচন্ড ব্যস্ততার মধ্যে ভুলে গেলাম।

এরই মধ্যে ব্লগে ফিচার লেখার প্রতিযোগিতার ডাক আসলো। ভাবলাম, এটাই কোনরকমে কিছু একটা দাড়া করায়ে ঝেড়ে দেই। কারন সেই আপ্তবাক্য….…...প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনই বড় কথা! কিন্তু ডেডলাইন ১৮ তারিখ দেখে হাল ছেড়ে দিলাম। আমার যা অবস্থা, তাতে এই সময়ের মধ্যে অন্ততঃ ফিচার লেখা সম্ভব না। তারপরে আবার দেখলাম, তারিখ বাড়ানো হয়েছে। বুঝতে পারলাম, ব্লগ টিম আসলে আমাকে না লেখিয়ে ছাড়বে না। :-B

যাক গে। নো মোর বক বক। আসল অংশে যাই বরং!!!


প্রথমেই একটা ভুল ধারনা দিয়ে শুরু করি। আমরা অনেকেই ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশকে একটা রোগ হিসাবে জানি, কিন্তু আদতে তা না।

ডিমেনশিয়া কোন রোগ না। বরং এটা মানুষের মনে রাখার, চিন্তা করার বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা-বিরুদ্ধ একটা সাধারণ শব্দ যা আমাদের দৈনন্দিন কাজকর্মে সমস্যা সৃষ্টি করে। অপরদিকে আলজাইমাস একটা নির্দিষ্ট মস্তিষ্কের রোগ যা কিনা ডিমেনশিয়ার সবচেয়ে প্রচলিত ধরন। এটাকে ডিমেনশিয়ার সাধারন বৈশিষ্ট্যগুলো দিয়েই প্রাথমিকভাবে ব্যাখ্যা করা হয় এবং সময়ের সাথে সাথে এটার অবনতি ঘটতে থাকে। আলজাইমাস রোগটা আমাদের মস্তিস্কের যে অংশটা শেখার সাথে সম্পর্কযুক্ত, সেটার উপর চড়াও হয়। তাই প্রাথমিক লক্ষণগুলির মধ্যে প্রায়ই স্মৃতিশক্তি, চিন্তাভাবনা এবং যুক্তির দক্ষতার পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। রোগের বিকাশের সাথে সাথে লক্ষণগুলি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে এবং এতে বিভ্রান্তি, আচরণের পরিবর্তন এবং অন্যান্য সমস্যাগুলোও যুক্ত হতে থাকে।

সুস্থ আর আলজাইমাসে রোগাক্রান্ত ব্রেইনের তুলনামূলক চিত্র



আলজাইমাস কেন হয়?

এই ব্যাপারে চিকিৎসা বিজ্ঞান এখনও সুনির্দিষ্ট কারনগুলো বের করার জন্য হাতড়ে বেড়াচ্ছে। এই রোগে মস্তিষ্কের কোষে এবং তার চারপাশে কিছু প্রোটিনের অস্বাভাবিক বিল্ড আপ লক্ষ্য করা যায়। এই প্রোটিনগুলোর একটা হলো, অ্যামাইলয়েড, যা মস্তিষ্কের কোষগুলোর চারপাশে প্লাক হিসাবে জমা হয়। টাউ নামের আরেকটা প্রোটিন মস্তিষ্কের কোষে জট তৈরি করে। যদিও ঠিক কী কারণে এই প্রক্রিয়াটি শুরু হয় তা জানা যায়নি, তবে বিজ্ঞানীরা এখন জানেন যে লক্ষণগুলি গোচরে আসার অনেক বছর আগে থেকেই এটা শুরু হয়। এর ফলে কি হয়? মস্তিষ্কের কোষগুলি প্রভাবিত হওয়ার সাথে সাথে মস্তিষ্কের কোষগুলির মধ্যে বার্তা বা সংকেত পাঠানোর সাথে জড়িত রাসায়নিক বার্তাবাহকগুলো (নিউরোট্রান্সমিটার নামে পরিচিত) হ্রাস পায়। একটি নিউরোট্রান্সমিটার, অ্যাসিটাইলকোলিন এর মাত্রা বিশেষ করে আলজাইমাস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মস্তিষ্কে কম থাকে। এতো গেল বৈজ্ঞানিক কচকচানি। মূল কথা হলো, এর ফলে সময়ের সাথে সাথে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ সঙ্কুচিত হয়, একটা বিশেষ অঞ্চলের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়। সাধারণভাবে প্রভাবিত প্রথমদিককার কোষগুলো স্মৃতির জন্য দায়ী। আরও পরে এটা অস্বাভাবিক আকারে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলকে প্রভাবিত করতে শুরু করে। এখানে উল্লেখ্য, প্রাথমিক লক্ষণগুলিতে স্মৃতির পরিবর্তে দৃষ্টি বা ভাষার সমস্যাও হতে পারে।

ছবিতে সংক্ষিপ্তাকারে দেখেন



কোন কোন কারনগুলো আলজাইমাস রোগের ট্রিগার হিসাবে কাজ করে?

আমার মতে, সাধারন মানুষের জন্য রোগটা কেন হয় জানার চাইতে কি কি কারনে হয় জানাটা বেশী জরুরী। চলেন, তবে জানি সেই ট্রিগারগুলো সম্পর্কে। প্রথমেই আসে বয়স, যেটা এই রোগে একটা বড় ফ্যাক্টর। ৬৫ বছর হওয়ার পর প্রতি ৫ বছরে এই রোগে আক্রান্তের ঝুকি দ্বিগুন হতে থাকে। তবে আমাদের যাদের বয়স এখনও ৬৫ ছোয় নাই, তাদের খুব বেশী খুশী হওয়ার কোন কারন নাই। বলা হয়ে থাকে, এই রোগের লক্ষণ দেখা দেয়া প্রতি বিশ জনের একজনের বয়স ৬৫ এর নিচে!!

পারিবারিক ইতিহাস আরেকটা কারন হিসাবে এসেছে।

যাদের ''ডাউন সিনড্রোম'' আছে, অর্থাৎ একটা অতিরিক্ত ক্রোমোজম নিয়ে যারা জন্মায়। মনে রাখতে হবে অতিরিক্ত কিছু মানেই সব সময়ে ভালো কোন বিষয় না।

সিভিয়ার হেড ইনজুরীর ইতিহাস আছে, এমন মনুষ্যসকল।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, হৃদরোগের সাথে সম্পর্কযুক্ত লাইফ স্টাইল দ্বারা পরিচালিত মানুষ যেমন, বিড়িখোড়, হস্তি-মানব কিংবা মানবী, ঘন ঘন মূত্র বিসর্জনকারী (বহুমূত্র), উচ্চ রক্তচাপ আছে যাদের (উদাহরন, আমাদের ব্লগ টিম) এবং উচ্চ কোলেস্টেরল সম্পন্ন মানব সন্তান। এগুলো ছাড়াও কিছু সর্বশেষ গবেষণার ফলাফল বলছে, হিয়ারিং লস, চিকিৎসা না করে পুষে রাখা বিষন্নতা, একাকীত্ব এবং বসে কাজ করা (অর্থাৎ যারা সারাদিন নড়াচড়া কম করে) ব্যক্তিবর্গও ভালো ঝুকির মধ্যে আছে।

কিভাবে বুঝবেন, আপনার আলজাইমাস রোগ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে?

এটা নিয়ে বলার আগে এর সাইন এবং সিম্পটম নিয়ে একটু বলি। এই রোগের লক্ষণগুলি বহু বছর ধরে আস্তে ধীরে গড়ে উঠে এবং দিন যতো গড়ায় ততোই সিভিয়ার হতে থাকে; আর ততোই এটা আমাদের মস্তিস্কের বিভিন্ন কার্যকলাপে নাক গলানো শুরু করে। এই প্রক্রিয়াটা অত্যন্ত ধীর এবং সময়সাপেক্ষ বলেই এটাকে ''নীরব ঘাতক'' আখ্যা দেয়া হয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় লক্ষনীয় ব্যাপারগুলো……... যেমন মনে করেন, ক্ষণিক আগে কি কথাবার্তা বলেছেন তা মনে করতে পারছেন না কিংবা খেই হারিয়ে ফেলছেন; কথাবার্তার মধ্যে কারো নাম, জায়গার নাম বা ঘটনা তৎক্ষনাৎ মনে করতে পারছেন না। কিছু কোথাও রেখে মনে করতে না পেরে সারা বাড়ি তোলপাড় করছেন; নতুন কিছু করতে বা চটজলদি কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না.......দোদুল্যমান অবস্থায় আছেন; বোঝার ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় প্রশ্ন বেশী করছেন ইত্যাদি।

ধীরে ধীরে মাধ্যমিক অবস্থায় যখন আসবেন, তখন দেখবেন........খুব পরিচিত কারো নাম বা তার পরিবারের অন্যান্য ঘনিষ্ঠদের নাম মনে করতে পারছেন না; ডিলিউশান বা বিভ্রম হচ্ছে; বা পরিবারের কেয়ারিং সদস্যদেরকেই সন্দেহ করে বসছেন! বক্তৃতা বা ভাষার সমস্যা (অ্যাফেসিয়া), ঘুমে সমস্যা, ঘন ঘন মেজাজের পরিবর্তন (মুড স্যুইং), হতাশা এবং ক্রমবর্ধমান উদ্বিগ্নতা দেখা দিতে পারে। হ্যালুসিনেশন হতে পারে; আবার বর্তমানের চেয়ে অতীত ঘটনা বেশী স্মরণ করা আর সেসব নিয়ে কথা বলা বেড়ে যেতে পারে। সবার যে সবগুলো দেখা দিবে, বিষয়টা এমন না। তবে এসবই খেয়াল করার মতো ব্যাপার।

আর সর্বশেষ পর্যায়ে এসে মাধ্যমিক পর্যায়ের সিম্পটমগুলো আরও সিভিয়ার হয়ে যাবে। কখনও কখনও আলজাইমাস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা ভায়োলেন্ট হয়ে উঠে। আশেপাশের সবাইকে সন্দেহের চোখে দেখা শুরু করে। এ'ছাড়াও খাবার গিলতে অসুবিধা হওয়ার ফলে খাওয়ার আগ্রহ কমে যাওয়া, ওজন হ্রাস পাওয়া, নড়াচড়াতে অসুবিধা হওয়া, পেশাব-পায়খানা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা, বাকশক্তি হ্রাস পাওয়া কিংবা একেবারেই বন্ধ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি সাধারন ঘটনা। আক্রান্ত ব্যক্তির হয়তো খাওয়া, পোষাক বদলানো, ওয়াশরুমে যাওয়া ইত্যাদি ব্যক্তিগত কাজে সাহায্যের দরকার হতে পারে এবং এক পর্যায়ে কোনরকমের সাহায্য ছাড়া করতেই পারে না।

সমস্যা হলো, কোন নির্দিষ্ট পরীক্ষার মাধ্যমে আলজাইমাস রোগের উপস্থিতি নির্ণয় করা এখনও সম্ভব না। সাধারন ডাক্তাররা (জিপি) বিভিন্ন রকমের টেস্ট করে সন্দেহ হলে এই রোগের বিষেশজ্ঞের কাছে রেফার করে থাকেন। সেখানেও বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার পরে নিশ্চিত হওয়া যায়। যেমন, একটা টেস্ট হলো ''মেন্টাল এবিলিটি টেস্ট'' বা ''কগনিটিভ এসেসমেন্ট'' যার মাধ্যমে রোগীর স্মৃতি, চিন্তার প্যাটার্ন ইত্যাদি পরীক্ষা করে দেখা হয়। এ'ছাড়া সিটি স্ক্যান, এমআরআই স্ক্যানও করা হয়। এই রোগের উপস্থিতি নিশ্চিত হতে অনেক সময়ে মাসের পর মাসও লেগে যেতে পারে।

এই রোগের অত্যাধিক সাইন এবং সিম্পটমের কারনে অনেকেই এই ভেবে হাল ছেড়ে দিতে পারেন যে, এটা নিয়ন্ত্রণ করা যেহেতু আয়ত্বের বাইরে, তাই এটা নিয়ে চিন্তা করার দরকার নাই। তারা বরং পরের লেখাটুকু মনোযোগ দিয়ে পড়েন। কিভাবে এটাকে ঠেকানো যায়।.............. বাকীটা আল্লাহ ভরসা!!!

প্রিভেনটিভ মেডিসিনে একটা বহুল প্রচলিত কথা আছে, ''প্রিভেনশান ইজ বেটার দ্যান কিউর।'' কোন একটা রোগের শরীরে বাসা বাধার আগেই তাকে ঠেকিয়ে দেয়া সবচাইতে বুদ্ধিমানের কাজ। বিষয়টা অনেকটা এইরকম যে, চোর বাসায় ঢুকলে কি করবো না ভেবে চোর যাতে করে কোনভাবেই ঢুকতে না পারে, সেই ব্যবস্থা করা। তাছাড়া, যেহেতু এই রোগটার বর্তমানে কোন প্রতিকার নাই, শুধুমাত্র এমন কিছু ওষুধ পাওয়া যায় যা সাময়িকভাবে উপসর্গ কমাতে পারে, তাই এটাকে ঠেকানোই সবচাইতে ভালো স্ট্র্যাটেজি!!

কিভাবে ঠেকাবেন?

খুব সোজা। ওজন কমান। শারীরিক আর সামাজিকভাবে সক্রিয় থাকেন। টেনশানমুক্ত জীবন-যাপন করেন। যেই জিনিস আপনার নিয়ন্ত্রণে নাই, সেটা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা কম করেন। ব্লগে প্রচুর পড়েন আর লিখেন। কপি-পেষ্ট করবেন না। ওতে কিন্তু কোন উপকার নাই। মৌলিক লেখা অথবা ফিচার লিখেন, তাতে করে আপনাকে প্রচুর পড়তে হবে। আর যতো পারেন দাবা খেলেন। এটা আপনার মস্তিস্কের জন্য খুবই উপকারী। এই বিষয়ে প্রচুর গবেষণা হয়েছে। এই সংক্রান্ত একটা ছবি দিলাম।



দাবা এমন একটা খেলা যেটাতে স্বল্প-মেয়াদী এবং দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতির ব্যবহার, গণনা এবং ভিজ্যুয়াল স্পেশাল (visual–spatial) সক্ষমতা আর সমালোচনামূলক চিন্তা…….এর সবই পাওয়া যায়। এটা সহজে শেখাও যায়। আর এটাতো স্বীকৃত যে, শিক্ষা এবং স্মৃতির সাথে জড়িত ইন্টেলেকচ্যুয়াল কার্যকলাপগুলো এই রোগের বিকাশের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভালো সুরক্ষা দিয়ে থাকে। একজন গবেষকের বক্তব্য হুবহু তুলে দিলাম, Effortful mental activity [such as chess] produces and strengthens synaptic connections and stimulates neurogenesis process. Thus, it promotes plastic changes in the brain that slow down the symptoms of dementia. এখন সিদ্ধান্ত আপনার।

আর খাবার? প্রচুর শাক-সব্জী আর ফলমূল খাবেন। ডিম, মাছ (সামুদ্রিক মাছ বেশী ভালো), বাদাম, হোল গ্রেইন, মুরগীর মাংস খাদ্য তালিকায় রাখবেন। চর্বিযুক্ত খাবার আর রেডমিট যতোটা কম পারেন খাবেন। একেবারেই না খেলে সবচেয়ে ভালো (যেমন আমি!)। ও হ্যা, মিষ্টিও কম খাবেন। চিনি একদম বাদ। দেখবেন জীবনটা কতো সহজ হয়ে গিয়েছে!!

শেষকথাঃ এই রোগের ভয়াবহতা খুব কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে। স্মৃতি শক্তি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া, সম্পূর্ণভাবে অন্যের উপর নির্ভরশীল এবং দুনিয়া ও পারিপার্শ্বিকতা সম্পর্কে একেবারেই চেতনাহীন একজন মানুষের বেচে থাকার কি আকুতি কিংবা সেটা আদৌ ছিল কিনা জানা আমার পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠে নাই। তবে প্রিয়জনেরা সেটার খুব একটা তোয়াক্কাও করে না কখনও। যমে-মানুষে এই যে টানাটানি, তাকে রোগে ক্লান্ত-বিদ্ধস্ত একজন মানুষ কিভাবে নেয়, সেটাও আমার জানা নাই। শুধু এইটুকু জানি যে, প্রচন্ড কষ্টে ধুকতে থাকা প্রিয়জনের যন্ত্রণা, কাতরতা চোখে দেখার মতো না। আবার কষ্টে ভুগে ভুগে প্রিয়জনের চির বিদায়ও মেনে নেয়ার মতো কোন বিষয় না। এই যে ডিলেমা, এটার থেকে মুক্তির একমাত্র উপায়, এই রোগ হওয়ার আগেই সাবধান হওয়া।

আপনারা এই রোগ থেকে দুরে থাকার চেষ্টা করেন আর প্রিয়জনদেরকেও দুরে রাখার চেষ্টা করেন। দোয়া করি, আপনাদের কারো যেন এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে না হয়। প্রিয়জনের এমন কষ্ট দেখলে বুক ভেঙ্গে যায়, বিশেষ করে সেই সময়ে, যখন চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া খুব বেশী কিছু করার থাকে না।

সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা আমাদের সহায় হোন।

রেফারেন্স সমূহঃ
Ref. 1
Ref.2
Ref.3
Ref.4
Ref.5
Ref.6
Ref.7

আমার এই ফিচার পোষ্টটা জানা-অজানা (বিবিধ) ক্যাটাগরীর জন্য।

শিরোনামের ছবির রেফারেন্স।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে নভেম্বর, ২০২২ সন্ধ্যা ৬:৪২
১৭টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন কিশোর মুক্তিযোদ্ধার চোখে স্বাধীনতা যুদ্ধে বুকাবুনিয়া.........

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০২ রা ডিসেম্বর, ২০২২ সকাল ১০:১৩

একজন কিশোর মুক্তিযোদ্ধার চোখে স্বাধীনতা যুদ্ধে বুকাবুনিয়া.........

অযত্নে অবহেলায় পড়ে আছে মহান মুক্তিযুদ্ধে নবম সেক্টরের অধীনস্থ বরগুনার বামনা উপজেলায় সাব-সেক্টর হেড কোয়ার্টার বুকাবুনিয়া এবং এখানকার মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ। এখানে নেই স্বাধীনতা পরবর্তী... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহ সাহেবের ডায়রি ।। ইয়াজিদি

লিখেছেন শাহ আজিজ, ০২ রা ডিসেম্বর, ২০২২ সকাল ১১:৫৮




ইয়াজিদিঃ ইয়াজিদিরা বিশ্বাস করে আদম (আ) সন্তানের সাথে বেহেশতি হুরের বিবাহের পরিণতিতে তাদের সৃষ্টি হয় আর অন্যান্য সকল ধর্মের মানুষদের সৃষ্টি হয়েছে আদম আর বিবি... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন বিশ্বকাপের রেফারি স্টিফানি ফ্রাপার্ট

লিখেছেন হাসান কালবৈশাখী, ০২ রা ডিসেম্বর, ২০২২ দুপুর ২:৩৪



কাতারে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি ম্যাচ পরিচালনা করলেন একজন নারী রেফারি।
এই ফরাসি নারী গ্রুপ-ই এর একটি কঠিন বাঁচা মরার খেলা কোস্টারিকা বনাম জার্মানির ম্যাচ সফলভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরেস্তারা তখন কোথায় ছিল?

লিখেছেন মোহাম্মদ গোফরান, ০২ রা ডিসেম্বর, ২০২২ বিকাল ৩:৩৭


প্রথমে ছোট্ট আয়াতকে অমানবিক ভাবে অপহরণ করা হয়। তারপর তার ছোট্ট গলাটাকে চেপে ধরা হয়। বেঁচে থাকার তীব্র আর্তনাদ একটুকুও মায়ার জন্ম দেয়নি পাষান কুকুরের বাচ্চাটির হৃদয়ে। (আমি দু:খিত কুকুরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জানা অজানা - হজ্জ বা ওমরা করার সময় সন্তান সম্ভবা মায়েদের সন্তান প্রসব

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০২ রা ডিসেম্বর, ২০২২ বিকাল ৫:২৮

সন্তান সম্ভবা মায়েদের সন্তান প্রসবের নির্দিষ্ট মুহূর্ত বা সময় যেহেতু আগে থাকতে বলা মুশকিল তাই অনেক সময় জরুরীভাবে যেখানে যে অবস্থায় আছে সেখানেই সন্তান প্রসব হয়ে যায়। প্লেনের টয়লেটে, রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×