
অলিম্পিক পদক অধরাই থেকে গেছে বাংলাদেশের। এবারও ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো শহরে মর্যাদাপূর্ণ এ ক্রীড়া মহাযজ্ঞে হতাশা নিয়েই দেশে ফিরেছেন দেশের ৭ ক্রীড়াবিদ। এরপরও বাংলাদেশের নাম উচ্চারিত হবে এখন সবার মুখে মুখে। সেই গর্বটা এনে দিয়েছেন মার্গারিটা মামুন। রাশিয়ার হয়ে রিও অলিম্পিকে অংশ নিয়ে রাজশাহীর ক্রীড়াশৈলীতে মেয়ে এবার স্বর্ণপদক জিতেছেন। মেয়েদের শারীরিক কসরত ও মনোমুগ্ধকর কলাকৌশল প্রদর্শনের মাধ্যমে সবার হৃদয় কেড়েছেন, চোখ ঝলসে দিয়েছেন সুন্দর দেহবল্লরীর ক্রীড়াশৈলীতেও। মহিলাদের রিদমিক জিমন্যাস্টিক্সে অলরাউন্ড ফাইনালে ৭৬.৪৮৩ পয়েন্ট স্কোর করে স্বর্ণ জেতেন রিটা। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ হিসেবে বিবেচিত অলিম্পিকে বাংলাদেশের নামটাও গৌরবময় একটি অবস্থান পেয়ে গেল।
ছন্দময়তা, নিপুণ কারুকার্য, মনোলোভা শরীরি কলাকৌশল ও আকর্ষণীয় দেহবল্লরীর মোহনীয় ভঙ্গিময় প্রধান বিষয় রিদমিক জিমন্যাস্টিক্স। এমন একটি ইভেন্টে বিচারকদের মন জয় করা এবং দর্শকদের বিমুগ্ধ করা বেশ কঠিন কাজ। কিন্তু রিটা সেটাই করতে পেরেছেন। রাজশাহীর মেয়ে রিটা যখন সঙ্গীতের তালে ঝঙ্কার তুলছেন, অলিম্পিক পার্ক তখন মুগ্ধ। দর্শকদের করতালিতে মুখরিত। লড়াই শেষেও একই চিত্র। রাশিয়ার অগণিত দর্শকের হাততালির অভিবাদন গ্রহণ করেলেন রিটা দু’হাত তুলে। রুশ মা আন্নার কাছেই মার্গারিটার জিমন্যাস্টিক্সে হাতে খড়ি। বাবা রাজশাহীতে জন্ম নেয়া আবুল্লাহ আল মামুন পেশায় মেরিন ইঞ্জিনিয়ার। ফাইনালে নজর কাড়া লড়াই জমে উঠল দুই রাশানের মধ্যেই। বাংলার বাঘিণীর প্রতিদ্বন্দ্বী তারই স্বদেশী ইয়ানা। অথচ লড়াইটা হতে পারত বাংলাদেশ আর রশিয়ার মধ্যে জন্মভূমির টানে লাল সবুজের পতাকার প্রতিনিধি হয়েই রিও অলিম্পিক খেলতে পারতেন রিটা। কিন্তু সেটা হয়ে উঠেনি নানা প্রতিকূলতায়। কোচ তাকে ডাকেন ‘দ্য বেঙ্গল টাইগার’ নামে।
রিটা আরও উৎফুল্ল এ কারণে যে নান্দনিক এ ইভেন্টে জয়ের আনন্দটা বাংলাদেশেও সমানভাবে প্রভাব ফেলেছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এটা জেনে খুব খুশি যে বাংলাদেশের অনেক ভক্ত আমাকে সমর্থন করছে। আমি বাংলায় ১ থেকে ১০ পর্যন্ত গুনতে পারি। যখন ছোট ছিলাম, আমার বাবা আমাকে বাংলা শেখাতেন; কিন্তু আমি সব ভুলে গেছি।’ জুনিয়র পর্যায়ে একবার বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার চিন্তাও করেছিলেন রিটা। তিনি এ বিষয়ে বলেন, ‘আমার দ্বৈত নাগরিকত্ব ছিল, তাই আমি জুনিয়র হিসেবে একটি প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমি সবসময় রাশিয়ায় থেকেছি আর অনুশীলন করেছি দেখে এরপর আমি রাশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করি।’
সুত্র জনকন্ঠ : প্রকাশিত : ২২ আগস্ট ২০১৬
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে আগস্ট, ২০১৬ ভোর ৪:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


