একুশে গ্রন্থমেলার প্রস্তুতি হিসাবে বাংলা একডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জমান খান এক সংবাদ সম্বেলনে বলেন “ আমরা চাই প্রকাশকর এমন কিছু বই প্রকাশ না করুন, যেটা উসকানিমুলুক । আর এ ধরনের কিছু করা হলে অঘটন ঘটে যেতে পারে ।” গত বছর বইমেলা থেকে এখন পর্যন্ত তিনটি ঘটনা ঘতেছিল । এক, রোদেলা প্রকাশনীর স্টল বন্ধ করে দেওয়া । দুই, অভিজিৎ রায়ের হত্যাকাণ্ড । তিন, ৩০ সেপ্টেম্বর দুটি প্রকাশনায় একই সাথে হামলা, যাতে জাগ্রতি প্রকাশনীর ফয়সল আরেফিন দীপন নিহত হন। তাই এবারের বইমেলায় দুই শতাধিক সিসি ক্যামেরা ও বিপুল সংখ্যক পুলিশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে । কিন্তু প্রশ্নটা হল
• উসকানি কে নির্ধারণ করবে ?
• কে বা কারা এই মানদণ্ড তৈরি করেছে?
• কারা এই শনাক্তকরনের দায়িত্ব পালন করবে ?
প্রকাশনার ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা আসলে চিন্তার স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রনের রূপ । আজ অনেকে যুক্তি ও তথ্য দিয়ে উসকানিমুলুক লেখা রাষ্ট্রের অনাচারের বিরুধে, সমাজে প্রচলিত পশ্চাৎধারণা ও বিশ্বাসের বিরুধে লিখছে । প্রচলিত চিন্তা ও শক্তির বিরুধে দাঁড়ানোর উস্কানির কেবল তরুণদের বিষয় নয়, যেকোন স্বাধীন চিন্তাশীল লেখক ও বুধিজিবির দায়িত্ব হচ্ছে এই চালাঞ্ছ অব্যাহত রাখা । একজন বুধিজিবি কিসের উসকানি দেবেন ? তার উত্তরে বলতে পারি, কাজী মোতাহার হসেন বিংশ শতাব্দির কুড়ির দশকের শিখা গোষ্ঠীর দ্বিতীয় বার্ষিক প্রতিবেদনে বুধির মুক্তি আন্দোলন কি, তা তিনি ব্যাখ্যা করে লিখেছিলেন------
“আমার চক্ষু বুঝিয়া পরের কথা শুনিতে চাই না
বা শুনিয়া মানিয়া লইতে চাই না
আমার চাই চোখ মেলিয়া দেখিতে
সত্যকে জীবনে প্রকৃতভাবে অনুভব করিতে।”
এক কথায় আমরা বুধিকে মুক্ত রাখিয়া প্রশান্ত জ্ঞান দৃষ্টি দ্বারা বস্তু জগত ও ভাবজগতের বেপারদি প্রত্যক্ষ করিতে ও করাইতে চাই । লেখকের কাজ হচ্ছে সব ধরনের সাবধানবাণীকে অগ্রাহ্য করে যারা ভক্তির মোহ আবরণে সত্যকে চাপিয়ে রাখতে চায়, তাদের বিরুধে উসকানি দেওয়া ।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১২:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



