somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

বিভক্ত আত্মা
সময় অনেক কম, কাজ অনেক বেশি। সংবাদ মাধ্যমের চেয়ে উৎকৃষ্ট এই সিটিজেন জার্নালে অন্তত চটি লেখক মার্কা লোক নেই-আমি এতেই সুখ অনুভব করছি। লিখতে শুরু করেছি-লিখতে লিখতেই হয়তো একদিন ফুড়িয়ে যাবো। তারপরেও সকল মানুষের কল্যান কামনা করেই যাবো

(ধর্মচর্চা এবং সাংবাদিকতা) ক্ষমা কর পিতা, ক্ষমা কর মাতা।

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১১:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ঈশ্বর ধর্মে বিশ্বাসীগনের প্রথাগত যুদ্ধ তথা মতবাদ শুধুই নিজেদের সম্প্রদায় বৃদ্ধি, শক্তির বৃদ্ধির নিমিত্তেই। যদিও সকল ধর্মই মানবতার কথা বলে, তথাপিও ধর্ম কখনই মানবতাকে রক্ষার নজীর স্থাপন করতে পারেনি। বরং মানুষ হত্যা করে কোন সম্প্রদায় বা গোত্রের বা অন্য ধর্মের অনুসারীদের ভীতি প্রদর্শনে লিপ্ত।
শত সহস্র বছর ধরে, ধর্মীয় যুদ্ধ, দখল ইত্যাদি যুদ্ধ দাঙ্গায় নানান বিধি প্রয়োগ করা রয়েছে। শত্রুপক্ষের কাছে আত্মসমর্পনের কথাও রয়েছে। জীবন বাঁচানোর জন্য সাময়িকভাবে মিথ্যা বলা, প্রতারনার আশ্রয় নেওয়া, নিজ নিজ ধর্মে নিষিদ্ধ খাদ্য ভক্ষনেও সমর্থন করা হয়েছে।
অর্থাৎ ধর্ম কারও না কারও মতবাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে মানুষকে ব্যবহার করেছে। সেখানে মানবতাবাদীর কথা বলা হলেও বস্তুত: তা কোনও ব্যক্তি বা সম্প্রদায়ের আধিপত্য বৃদ্ধি বৈত অন্য কিছু নয়। তাই, মতবাদ অনুসারি ব্যক্তি এবং সম্প্রদায়কে রক্ষার জন্য সকল অনাচারকেও আশ্রয় প্রদান করা হয়েছে।
অবশ্য ধর্মাধর্মীর যুক্তি তর্কে, আকার নিরাকারের যুক্তি তর্কে শত শত বছর আগে আবির্ভাব ঘটেছে, সুফীবাদ ও বৈষ্ণববাদের। এই মতবাদ মানুষ ও মানবতার চর্চা করে আসলেও, প্রয়োজনীয় আলোক রশ্মীর অভাবে এবং ধর্ম অধর্মের যুক্তি তর্কের মধ্যে সেভাবে বিস্তার লাভ করতে পারেনি।
গনমাধ্যমের সাংবাদিকতার মূলমন্ত্র একটাই, তা হলো মানুষের জন্য, মানবতার জন্য নিজেকে সমর্পন করা। এখানে কোনও বিশেষ ধর্মাবলম্বী, সম্প্রদায়ের পক্ষে বিপক্ষে কাজ করার সুযোগ নাই। কেউ করে থাকলে, সাংবাদিকতার মূল মন্ত্রে তিনি দীক্ষিত নন বলেই ধরে নেয়া হয়। সাংবাদিকতার মতবাদ কিছুটা সূফীবাদ বা বৈষ্ণববাদের সাথে মিল রয়েছে। তবে, ধর্মাধর্মীর যুদ্ধে লিপ্তদের কাছে, বিশ্ব মানবতার বিপক্ষে অবস্থানকারীদের কাছে, মানবতা ব্যবসায়িদের কাছে-এক কথায় নিজেকে বা কোন সম্প্রদায়ের বল বৃদ্ধি, খারাপ মানুষের কাছে, সাংবাদিকতা একটা ভীতির নাম। কারণ, সাংবাদিকতায় আত্মসমর্পনের কোনও সুযোগ নাই। প্রাণ রক্ষার তাগিদে মিথ্যা বা প্রতারনার আশ্রয় নেবারও কোনও সুযোগ নাই। ধর্মযুদ্ধে, দখল যুদ্ধে, দখলদার বা ধার্মিকযোদ্ধা মারা গেলে, শুধুমাত্র সেই সেনাদলের ক্ষতি হলো, আত্মসমর্পন করলে, প্রতিপক্ষ আর এক পক্ষের তথ্য জেনে নিয়ে হয়তো ওই সেনাদলের বা গোত্রের ক্ষতিসাধন হলেও হতে পারে।তা হয়তো প্রতিপক্ষ কোনও না কোনওভাবে পুষিয়ে নিতে পারে।
একজন কলম সৈনিকের তথ্যের আত্মসমর্পন, নৈতিকতার আত্মসমর্পন মানেই হলো, মানুষের মৃত্যু, ক্ষতি, মানবতার মৃত্যু, জঘন্য ইতিহাসের উদ্বব হওয়া।
তাই, বেচে থাকবার অনেক আকুলতা সত্ত্বেও একজন সাংবাদিক তথা অনুসন্ধানী সাংবাদিক নৈতিক স্খলন ঘটাতে পারেননা। যারা পারেন, তারা বিচ্যুতদের দলে থেকে যায়।
ধর্মযুদ্ধ, দখল সব যুদ্ধ এক সময় থেমে যায়। স্বর্গের সুখের লোভে তারা সময় কাটাতে থাকে। পরিবার, আত্মীয় পরিজন নিয়ে ভোগ বিলাসে ধার্মিকরাও একসময় ব্যাস্ত হয়ে পরে। অপরদিকে, একজন সাংবাদিকের সাহসীকতায় অনেক সফলগাঁথা রচিত হতে থাকলেও আপোষহীনতার কারণে, সমাজ থেকে, পরিবার থেকেও এক সময় বিচ্যুত হয়ে পরে। সারা জীবন মানবতা নিয়ে লড়াই করা কলম সৈনিকের শেষ জীবন কাটতে অমানবিকভাবে।
এমনকি, ঈশ্বর মতবাদে বিশ্বাসীদের ধর্মে, পিতা-মাতা সম্পর্কে, “পিতা প্রনামঃ
পিতা স্বর্গ, পিতা ধর্ম, পিতাহি পরমং তপ। পিতোরি প্রিতিমা পন্নে প্রিয়ন্তে সর্ব দেবতাঃ।“ “পবিত্র কোরআনের সূরা নিসার ৩৬ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করা হয়েছে, আল্লাহর ইবাদত কর, কোনো কিছুতে তার শরিক কর না এবং মাতা-পিতার প্রতি সদ্ব্যবহার কর। মাতা-পিতার প্রতি সন্তানের আচরণ কেমন হবে সে সম্পর্কে পবিত্র কোরআনের সূরা বনি ইসরাইলের ২৩ ও ২৪ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করা হয়েছে, ‘তাদের কেউ অথবা উভয়ই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হন তাদের সঙ্গে সুআচরণ কর এবং কখনো ওহ শব্দটিও উচ্চারণ কর না। তাদের সঙ্গে নম্রভাবে কথা বল এবং বল, হে আল্লাহ! তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর, যেমন করে আমাকে তারা শৈশবে লালনপালন করেছেন। বাবা-মা সন্তানের জন্য অসীম ত্যাগ স্বীকার করেন। সন্তানের সুখের জন্য তারা পরিশ্রম করেন, নিজের সুখকে বিসর্জন দেন। বাবা-মায়ের কাছে সন্তানের যে ঋণ তা কিছুতেই পূরণ হওয়ার নয়। বিশেষ করে প্রতিটি জননী তার সন্তানের জন্য যে কষ্ট ভোগ করেন তার কোনো তুলনাই নেই।“
এমন ধর্মীয় নির্দেশনা থাকলেও, অধিকার সংরক্ষন করার কথা থাকলেও, সেবা করার কথা থাকলেও, মানবতার সেবায় নিয়োজিত একজন কলম সৈনিক অবশেষে সামর্থহীন হয়ে পরায়, সেই সেবা করা থেকেও বঞ্চিত হয়। বিশ্ব পরিস্থিতি, ধম অধর্মের পরিস্থিতিই এর জন্য দায়ী। তবে, বিশেষ শ্রেণীভুক্ত, নৈতিকতাচ্যুতরা মানিয়ে নেয় তাদের। মানবতা, মানবতা করতে করতেই ধর্ম পালনও হয়না, এমনকি স্ত্রী সন্তানের সান্নিধ্যলাভ থেকেও বঞ্চিত হয়ে পরতে হয়। পিতা-মাতার সেবা যেখানে উৎকৃষ্ট ধর্ম, তাও অবশেষে পালন করা হয়না। ধার্মিকদের অন্তর্ধানে শোকও নামে, চারদিকে সুগন্ধির ছড়াছড়ি হয়। অথচ সকল ধার্মিকদের কল্যানে, সকল মানুষের কল্যানে নিবেদিত প্রাণের অন্তধান ঘটে নিভৃতে, অমানবিকভাবে, মনোকষ্ট নিয়ে। হয়তো কখনও কখনও কারোও জন্য কেউ শোকাহত হলেও, অধিকাংশ জনই “আপদ বিদায় হয়েছে” বলে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে। তারপরেও, এমন অন্তর্ধানকে, জীবনকে শ্রেষ্ঠ বলেই বিবেচনায় আনছি। যদিও বার বারই অশ্রুসিক্ত হয়ে বলতে হচ্ছে, “আমাকে ক্ষমা কর আমার পিতা, ক্ষমা কর আমার মাতা। বিশ্ব পরিস্থিতি আর বাস্তবতার শিকার হয়ে তোমাদের সেবা করার সকল যোগ্যতাই যে হারিয়ে ফেলেছি।‍”
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১১:৩৭
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন-উচাটন

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:৫০


তিড়িং বিড়িং ফাল পাড়ি,
যাচ্ছে রে মন কার বাড়ি?
পুড়ছে তেলে কার হাঁড়ি,
আমি কি তার ধার ধারি!

পানে চুনে পুড়ল মুখ,
ধুকছে পরান টাপুর-টুপ;
তাই বলে কি থাকব চুপ?
উথাল সাগর দিলাম ডুব।

আর পারি না... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভয়ংকর সেই খবরের পর… সন্তানের হাতটা শক্ত করে ধরুন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৫

আজ সকালে খবরটি পড়ে আমার মনটা একদম ভেঙে গেল। ভাবতেই ভয় লাগছে—আমাদের সন্তানদের আমরা আসলে কতটা অরক্ষিত পরিবেশে বড় করছি! ছোট্ট একটি নিষ্পাপ শিশু, যে পৃথিবীটাকে ঠিকমতো চিনতেই শেখেনি, তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দু খতরে মেঁ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


শুধুমাত্র মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে শুভেন্দু। তার বক্তব্যের মূলপ্রতিপাদ্য হলো হিন্দু খতরে মেঁ! আশ্চর্যের বিষয় হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা নাকি মুসলিমদের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে, কিছুদিন পরেই নাকি পশ্চিমবঙ্গ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সময় খুব দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে।

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩০

দিনগুলো কেমন যেন দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে!
দেখতে দেখতে মাস শেষ হয়ে যাচ্ছে,
এইতো সেদিন থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করলাম,
আর এদিকে দেখি চার মাস শেষ হয়ে পাঁচ মাস চলছে। অথচ আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×