somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বুক_রিভিউ (০১)

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৫:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বুক_রিভিউ

বইঃ তোমার ক্ষয়।
লেখকঃ রাহুল সাংকৃত্যায়ন।
[রুক্কু শাহ্ ক্রিয়েটিভ পাবলিশার্স - ফেব্রুয়ারি, ২০১৬]
.
লেখক জেলখানায় বন্দি থাকা অবস্থায় বইটি লিখেছেন বলে বইয়ের প্রথমেই উল্লেখ করেছেন। যদিও লেখক বলেছেন " 'তোমার ক্ষয়' -এর মধ্যে আমি আমার নিজস্ব কিছু একান্ত ভাবনাকেই ব্যক্ত করেছি", মূলত তিনি সামাজিক ও ধর্মীয় অবক্ষয় নিয়ে বইটি লিখেছেন- যা সমাজের সবারই মনের কথা। বইটিতে মোট ছয়টি প্রবন্ধ রয়েছে-
১. তোমার সমাজের ক্ষয়
২. তোমার ধর্মের ক্ষয়
৩. তোমার ঈশ্বরের ক্ষয়
৪. তোমার সদাচরের ক্ষয়
৫. তোমার জাতপাতের ক্ষয়
৬. তোমার জোঁকদের ক্ষয় ।

শত পৃষ্ঠারও কম বিস্তৃতির এই বইটিতে এত বেশি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়েছে যে ছয়টি অধ্যায়ের জন্য ছয়টি বিশ্লেষণ লিখলে সঠিক কাজ হত বোধ করি। আমি আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে একটি বিশ্লেষণে ছয়টি অধ্যায়ের সামাম্য হিন্টস দেব মাত্র। বস্তুত ছোট আলোচনায় বইয়ের গভীরে ঢুকা দুরূহ ব্যাপার।

প্রথম প্রবন্ধে লেখক সমাজের যাবতীয় অসঙ্গতিগুলো তুলে ধরেছেন। এসব অসঙ্গতির কথা বলতে গিয়ে মানুষ হিশেবে সাধারণ কর্তব্য পালনে ব্যর্থতা, ধর্ম পালনের নামে সুবিধা গ্রহণ ও মুখে এক বলে কাজে আরেক করার প্রবণতা এবং শ্রমিকদের প্রতি যুগ যুগ ধরে চলে আসা অন্যায় ও বৈষম্য তুলে ধরেছেন। বলাই বাহুল্য, লেখক ভারতীয় বলে হিন্দু ধর্মের অসঙ্গতি ও ব্রাহ্মণদের সুবিধা গুলো (যেগুলো গ্রহণের মধ্য দিয়ে নিজেদেরকে মহান করে তুলেন) সম্পর্কে সুন্দরভাবে আলোচনা করেছেন। সাথে ইসলাম ধর্মীয় কিছু লোকের- ধর্মের নিয়মের সাথে জীবন পরিচালনা পদ্ধতির ফারাকের বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। শ্রমিকদের বিষয়ে তার বক্তব্যের গভীরতা বুঝতে পারলে এটাও স্পষ্ট হয় যে তিনি কমিউনিজমের ইজম ধারণ করতেন। পরবর্তীতে বইয়ের শেষ প্রবন্ধ "তোমার জোঁকদের ক্ষয়" এ বিষয়টি আরো অনেক বেশি পরিস্কার হয়।

তোমার ধর্মের ক্ষয় এবং তোমার ঈশ্বরের ক্ষয় অধ্যায় দুটির প্রায় সবটা জুড়ে ধর্মকেন্দ্রিক আলোচনা স্থান পেয়েছে। ধর্মকেন্দ্রিক আলোচনা বলতে যে ধর্মের বিষয়াবলী আলোচনা করেছেন এমনটা নয়। বরং তিনি ইশ্বর ও ঈশ্বরবাদীদের নানা অসঙ্গতি ও দুষ্কর্ম তুলে ধরেছেন। যেমন কেউ একজন ঘুষখোর, তিনি ঈশ্বরবাদী হলেই সমস্যা। ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন না এমন কারো দুষ্কর্মের বিবরণ বইয়ে পাওয়া ভার। এই দুটি অধ্যায়ে পরিস্কার বুঝা যায়, লেখক ঈশ্বরবাদী নন অর্থাৎ সহজ বাংলায়- তিনি তার নাস্তিকতার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। এমনকি কোথাও কোথাও তিনি পাঠকে তার দিকে টানার চেষ্টা করেছেন। তবে ব্যক্তিগত আলাপের বাইরে তিনি সার্বিক অসঙ্গতি নিয়ে এই দুইটি অধ্যায়ে সুন্দর আলোচনা করেছেন।
তোমার সদাচারের ক্ষয় অধ্যায়টি সবচে' বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে আমার কাছে। এতে তিনি মানবিক ও সামাজিক সমস্যাগুলো তুলে ধরেছেন নানা উদাহরণের মধ্য দিয়ে। এ অধ্যায়ে লেখক ব্যভিচার, মদ্যপান, অসত্য বলা, চুরি এবং ঘুষ, ন্যায়বিচার ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা রেখেছেন। এছাড়া কিছু বক্তব্য আছে যেগুলোর বিশেষ শিরোনাম নেই। অন্য আলোচনার প্রাসঙ্গিক হিশেবে করা হয়েছে- অথচ এগুলো অনেকটা স্বতন্ত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ।

অধ্যায়ভিত্তিক আলোচনার বাইরে সামগ্রিকভাবে বলতে হয় ৭০ বছর পূর্বের লিখিত এবং প্রায় ৫৫ বছর পূর্বে প্রকাশিত বইটি যেন বর্তমান সমাজকে উপজীব্য করেই লেখা হয়েছে। সহজসরল শব্দচয়ন বইটিকে অনেক বেশি সহজবোধ্য করেছে সাধারণ পাঠকের কাছে। দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্য থাকলে লেখকের সব কথা উড়িয়ে দেওয়া যায়। এটি আমার পড়া রাহুল সাংকৃত্যায়নের তৃতীয় বই। আগের দুটির মতো আমার কাছে এটাও ছিল বেশ উপভোগ্য।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৫:৪৬
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কি করে কি করি, কি যে করি !

লিখেছেন মেহবুবা, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:০৫




আজ বেশ ক'দিন হোল আমার ব্লগবাড়িতে জ্বীন ভূতের কারসাজি চলছে! আধা পৃষ্ঠা জুড়ে কয়েকটি পোষ্ট আসছে, সব আসছে না।নিজ ব্লগবাড়িতে কত কি আয়োজন থাকে ; যেমন মন্তব্য,... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের আন্দোলনরত HSC শিক্ষার্থীদের ধিক জানাই

লিখেছেন অপলক , ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:২০



দেশের কমপক্ষে ৬ টি জেলায় উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বাতিল ও স্থগিতের জন্যে আন্দোলনে নেমেছে। এরা হল লীগ সরকরারের শিক্ষা ব্যবস্থায় বেড়ে ওঠা তরুন তরুনী, যারা পড়ালেখা না... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোলাপানগুলো এত আন্দোলন বুঝে!

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৫৫




পড়াশোনার টেবিল আজকাল অন্যকাজে ব্যবহার হয়, হয়তো ঐখানে বিপ্লবের লাল রং আছে শুধু। লেনিনের রক্ত, গুয়েভারার চুরুট নিয়েও আগ্রহ নেই তাদের, আছে শুধু মহাসড়ক অবরোধ, মিলনকে থাপরাড়োর অদম্য প্রয়াস,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারত কোন ভাবেই স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশে সৈন্য পাঠায়নি!!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৬


ভারত কোন ভাবেই বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য সৈন্য পাঠায়নি! সৈন্য পাঠিয়েছিল পাকিস্তানকে বিভক্ত করতে ও তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানকে লুটপাট করার উদ্দেশ্যে। প্রতিবেশি দূর্বল হলে দাদাগিরি করতে পারবে এটাই ছিল ইন্দ্রিরাগান্ধির ভিষন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল্যটা খুব কম দিইনি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২

মূল্যটা খুব কম দিইনি...

দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত- এই বিশ্বাসকে নিজের সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে রেখেছি সারাজীবন। কতবার ব্যক্তিগত ইচ্ছা, সুযোগ, এমনকি ন্যায্য অভিমানও গিলে ফেলেছি। কতবার চুপ থেকেছি, শুধু এই বিশ্বাসে যে ব্যক্তির... ...বাকিটুকু পড়ুন

×