somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছেলেটির কথায় দাদার আক্কেলগুড়ুম - একটি রসীয় কড়চা - পর্ব ১-৪

০৯ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এলাকার দাদাবাবু ও সেই এলাকার আড্ডাবাজ পোলাপাইনগুলোর মধ্যে একজন অর্থাৎ সুনীলের মধ্যে কথোপকথন উপভোগ করেছেন অনেকেই । পর্ব ১ থেকে পর্ব ৪ পর্যন্ত ৪টি ভিন্ন ঘটনা উঠে এসেছে দাদাবাবু ও সুনীলের কথোপকথনের মধ্যে । ব্যাপক সাড়া পেয়ে ভাবলাম পর্ব ৪টি একসাথে পোস্ট করি, তাহলে অনেকেরই আলাদা আলাদাভাবে লেখাগুলো পড়ার কষ্ট একটু হলেও লাঘব হবে আবার লেখাগুলোর মাঝের মজাটুকু একবারেই নিতে পারবেন । দাদাবাবু আর সুনীল যে বিষয় নিয়েই কথা বলুক না কেন তাদের কথাবার্তার শেষ পর্যায়ে দাদাবাবুর বউ অর্থাৎ বৌদিকে নিয়ে সুনীলের একটু টিপ্পনী থাকবেই, আর সাথে সাথে দাদা ঘায়েল । পড়ুন তাইলে লেখাগুলো একসাথে.......

ছেলেটির কথায় দাদার আক্কেলগুড়ুম - পর্ব ১ - একটি রসীয় কড়চা

সুনীলরা বন্ধু-বান্ধব মিলে যেখানে প্রতিদিন আড্ডা মারে, সেখানেই প্রায়ই হাজির হয় তাদের সিনিয়র এক দাদা । এলাকার দাদা হিসেবে সিনিয়র নয়, অনেকটাই বন্ধুর মতই তাদের সাথে মিশে সে । তবে দাদার বউ অর্থাৎ বৌদির জন্য এলাকার সকল পোলাপাইনই মনে গোপন চিন্তাধারার বন্যা বইয়ে দেয় । সে যাই হোক, একদিন সুনীল আড্ডায় এসে দেখলো, সেই দাদা অনেক আগে থেকেই এসে হাজির হয়েছে । সম্ভবত আজকে দাদার অফিস ছুটি রয়েছে ।

- দাদা, একটা বিড়ি হবে ?
- তা বাপু, তুমি আবার কবে থেকে বিড়ি টানা শুরু করলে ?
- ঐ বিড়ি, সিগারেট একই কথা । হবে নাকি ?
- হুম, হতো যদি আর একটু আগে চাইতে, একটু আগেই টেনে শেষ করেছি ।
- ওহ, তাহলে প্যাকেট হবে ?
- প্যাকেট মানে ?
- আরে ধুর, সব কিছু কি আপনাকে ভেঙ্গে বলতে হবে ?
- আরে বলই না বাপু । প্যাকেট কি ?
- লাল-সাদা পাউডার । গাজা, হিরোইন এইগুলাই । হবে নাকি ?
- না, বাপু, পাউডারের কারবার আমার কাছে নেই ।
- ওহ, ধুর, মুডটাই দিলেন খারাপ করে । এখন পকেটে টাকাও নেই যে এইসব কিনবো আলিমের দোকান থেকে । হারামজাদা আবার বাকিও দিতে চায় না । আচ্ছা, বলেন তো দাদা, আমরা কি ওর টাকা নিয়ে ভেগে যাবো নাকি ? ও ছাড়া আমরা এই সব পাবোই বা কোথায় ?
- তা যা বলেছো বাপু, তোমার বৌদির জ্বালায় এগুলো তো বাড়ি খেতে পারি না । এমনকি সিগারেটটাও ধরাতে দেয় না ঐ মহিলা । বলে কিনা ধোঁয়ায় নাকি শ্বাসকষ্ট শুরু হয় তার । ধুর, মাঝে মাঝে মেজাজটা এত খারাপ হয় জানো, মনে হয় ঐ মাগির মুখটা চেপে ধরে নাকের ফাকে সিগারেটের ধোঁয়া হুর হুর করে করে টেনে ঢুকিয়ে দেই । এরপর দেখি, কত শ্বাস নিতে পারে ও ।
- কি যে বলেন দাদা, অমন সুন্দরী বৌদির সাথে এমন করলে কি চলে !! বাদ দিন তো । তার চেয়ে এক কাজ করেন, কাল যেন কি বলছিলেন, ঐটা আরেকবার বলেন তো ।
- কোনটা বাপু ?
- ঐ যে সত্য নিয়ে কি যেন বলছিলেন !! সত্য কথা মনে হয় ।
- ওহ, সত্য কথা নিয়ে ? হুম, ঐ বলছিলাম যে সত্য কথাগুলো অনেক তিতা হয় । শুনতে তিতাই লাগে আর বলতেও । সবার দ্বারা সত্য চর্চা হয় না ।
- দাদা, তাহলে আপনাকে একটা সত্য বলি ?
- বাহ, বাহ, নীতিকথাই দেখছি নেশা ধরিয়ে দিচ্ছে । বলো শুনি ।
- দাদা, বৌদিকে কি মাল লাগে মাইরি । মাল একেবারে মাথায় চড়ে বসে ।
- (ছেলেটার কথা শুনে দাদাবাবুর তো আক্কেলগুড়ুম) থাক বাপু, নেশা বেশিই চড়েছে বোধ হচ্ছে । আজকে তবে আমি বাড়িই ফিরে যাই । কাল আবার দেখা হবে নে, কেমন !

দাদাবাবুর এমন হঠাৎ প্রস্থান ছেলেগুলোর মধ্যে হাসির উদ্রেক ঘটালো । সুনীল যে এমনটা বলে ফেলবে তা আর কেইবা ভেবেছিল । তবে এ যাত্রায় সকলেই সুনীলের পীঠ চাপড়ে দিতে লাগলো । আর সুনীলও মুখ চেপে বাঁদরামির হাসি দিতে লাগলো ।

বিঃদ্রঃ লেখাটির কিয়োদাংশ এক বন্ধুর ফেসবুক একাউন্ট থেকে নেওয়া ।


ছেলেটির কথায় দাদার আক্কেলগুড়ুম - পর্ব ২ - একটি রসীয় কড়চা

এবারের কথোপকথন ফেসবুক খুলে দেওয়া নিয়ে । দীর্ঘ ২৩ দিন পর ফেসবুক খুলে দেওয়া হবে, আর সেটা নিয়ে কোন কাহিনী হবে না, তা কি হয় ? তবে এদের কথাবার্তার শেষ কিন্তু ঐ বৌদিকে নিয়েই । পড়ুন তাইলে.......

- দাদা, শুনেছেন নাকি ?
- কি বাপু ?
- শুনলাম তারানা হালিম নাকি খুলে দিয়েছে ?
- ছিঃ, ছিঃ, এই মহিলার এত বয়স হয়েছে, তাও কি একটু লজ্জা-শরম নাই নাকি ?!?!
- মানে, দাদা ?
- কেন, বাপু, তুমিই না বললে, সে নাকি কি খুলে দিয়েছে ?
- ধুর, দাদা, আপনার তো দেখছি ডার্টি মাইন্ড । আমি তো ফেসবুকের কথা বলছিলাম ।
- ওহ, তা আগে বলবা তো বাপু । আমি তো ভেবেছিলাম কি না কি......
- তা, দাদা, বৌদির খবর কি ?
- ধুর, আবার শুরু করলে নাকি বাপু ? না, এখানে তো আর বসা যাবে না ।
- আরে, দাদা, বসেন, বসেন, আপনার সাথে একটু মশকরা করছিলাম । এত অল্পতে চটে যান কেন ?
- আর, না, বাপু, তোমাদের সাথে কি চটা যায় ? খালি দয়া করে তোমার বৌদির কথাটা উঠায়ো না । ভালো লাগে না বাপু । তা আর কি জানি বলছিলে......
- ওহ, হ্যাঁ, ফেসবুকের কথাই বলছিলাম । কি যে অবস্থা হয়েছিল আমাদের ঐ পোলাপাইনগুলার ফেসবুক ছাড়া । আপনি যদি একবার দেখতেন দাদা, তাইলেই বুঝতেন ।
- হ্যাঁ, দেশের তরুণ-তরুণীগুলা তো ঐ ফেসবুক ফেসবুক কইরাই নষ্ট হইয়া গেলো । আমাদের সময় কি আর এই ফেসবুক আছিলো !! আমরা তো কত্ত সুখে আছিলাম ।
- দাদা, আমাদের তো এই ফেসবুকেই সুখ । যাক, দাদা, আপনার ফেসবুকে একাউন্ট নাই ?
- আর ফেসবুক !! আমাদের মত পুরনোযুগের মানুষের জন্য এইসব না । তবে তোমার বৌদির নাকি একটা একাউন্ট আছে এই ফেসবুকে । আমারে না জিজ্ঞাসা কইরাই খুলছে । আমাকে পরে অবশ্য বলছে ।
- তাই নাকি দাদা ? তা বৌদির ফেসবুক একাউন্টের নামটা কি, বলেন তো ।
- কি আর, ঐ যে লাল পরী নাকি, কি যেন ।
- ধুর, দাদা, আপনার মত কালো শয়তানের ঘরে লাল পরী !!!! না ব্যাপারটা ঠিক মানতে পারলাম না ।
- ধুর, সুনীল, তুমি না......!!!!! না, বাপু, আমি আর বসবো না ।

দাদাবাবু আর সহ্য করতে না পেরে অবশেষে উঠেই গেলেন । ওদিকে ছেলেগুলোও মিটিমিটি করে হাসতে লাগলো মুখ টিপে । দাদাবাবুকে জ্বালাতে বেশ লাগে তাদের কাছে

বিঃদ্রঃ এই লেখাটিরও কিয়োদাংশ এক বন্ধুর ফেসবুক একাউন্ট থেকে নেওয়া ।


ছেলেটির কথায় দাদার আক্কেলগুড়ুম - পর্ব ৩ - একটি রসীয় কড়চা


এবারের বিষয় সুনীলের বই লেখা নিয়ে । সুনীলের মত আড্ডাবাজ ছেলেরাও পড়াশুনা শুরু করবে, আর কোন কাহিনী হবে না তা কি হয় ? তবে বরাবরের মত কথাবার্তার শেষ কিন্তু ঐ বৌদিকে নিয়েই । পড়ুন তাইলে.......

- দাদা, আজ দেখি জলদি চলে এসেছেন । একেবারে আমাদেরও আগে ।
- আর বলো না, আজ অফিসে যাইনি ।
- কেন দাদা ?
- শ্বশুর মশাইয়ের শরীর নাকি খুব খারাপ । তোমার বৌদি সে জন্য কেঁদে কেঁদে বাড়িটাকে মাথায় তুলে রেখেছে । অফিসের চাপে না পারছি তাকে শ্বশুর বাড়ি নিয়ে যেতে আর ওদিকে তোমার বৌদিকেও না পারছি একা ছাড়তে । আর শালা-সম্বন্ধীও নেই যে এসে ওকে নিয়ে যেতে বলবো । এই ভেবেই আজ সারাদিন মনটাই খারাপ । তাই আজ আর অফিসে যেতে পারিনি ।
- আরে দাদা, সব ঠিক হয়ে যাবে । মৌসুম চেঞ্জ হচ্ছে তো তাই রোগ-বালাই টুকটাক হচ্ছেই । দোয়া করে দিচ্ছি দাদা সব ঠিক হয়ে যাবে । অমন সুন্দর বৌদির চোখের পানির দাম কি সৃষ্টিকর্তা দেবেন না নাকি ?

(দাদাবাবু একটু অবাক হয়ে চাইলেন, পরক্ষনেই আবার দৃষ্টি নিচের দিকে নামিয়ে নিলেন । অবশ্য দৃষ্টি নামাতে নামাতে একটু জোরেই দীর্ঘশ্বাস ফেললেন)

- তা, সুনীল, তুমিও দেখছি আজ একা । বাকী পোলা-পাইনগুলো কোথায় ?
- আর বলবেন না দাদা । কি একটা হিন্দি ছবি নেমেছে না নতুন, ঐ যে "হেট স্টোরি ৩" নাকি ? ঐ ছবিটাই সবাই আশিসদের বাসায় মুভি থিয়েটার বানিয়ে দেখছে ।
- তা তুমি দেখলে না বাপু ?
- না, দাদা, কেন জানি ভালো লাগলো না । তাই এখানে চলে এলাম । অবশ্য ভাবিনি আপনি এখানে থাকবেন । আমি তো আসতে আসতে ভাবছিলাম, একা একা কিছুক্ষণ বসে চলে যাবো বাড়িতে । তবে দাদা, ইদানিং ভাবছি একটা বই লেখা শুরু করবো ।
- বই ? তাও তুমি ? কবে থেকে মাথাটা খারাপ হতে শুরু করলো তোমার ?
- ধুর, দাদা, কি যে বলেন না । আমি কি লিখতে পারি না ?
- না, তা পারো । তা কি নিয়ে লিখবে, ভেবেছো ?
- দাদা, মাথায় দারুণ একটা গল্প ঘুরপাক খাচ্ছে ।
- তাই নাকি ? তা গল্পের সারাংশটা কি একটু বলা যাবে বাপু ?
- হুম, যাবে না কেন । শোনেন তাইলে । একজন বেশ্যার সাথে রঙ নাম্বারে আলাপ শুরু হয় সুরেশ নামক একটি ছেলের । ছেলেটা আর ঐ বেশ্যাটার মধ্যে এরপর আলাপ চলতেই থাকে । ছেলেটা কথায় কথায় ঐ বেশ্যাটাকে নিজের সব খুলে বললেও বেশ্যাটা ঐ ছেলের কাছে নিজের আসল পরিচয় লুকিয়ে যায় । গল্পের শেষে দেখাবো, ছেলেটি যখন না জেনেই বেশ্যাটাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসে । তখন মেয়েটি সত্য বলার তাগিদে ছেলেটিকে নিজের আসল পরিচয় দেয় । এরপর তাদের মধ্যে ফোনালাপ বন্ধ হয়ে যায় । আসলে কি দাদা, জানেন, ঐসব প্রেম-ট্রেম বলে কিছু নেই । সবই হয় রূপ না হয় শরীর না হয় টাকার কারবার ।
- তোমার গল্পের ধারণাটা তো দারুণ কিন্তু তোমার শেষের কথাটার সাথে একেবারেই একমত হতে পারলাম না বাপু । প্রেম আসলেই স্বর্গীয় একটি ব্যাপার । এই দেখো না, আমার আর তোমার বৌদির মধ্যে কত প্রেম, দেখো না ?
- সেটা হয়, বৌদির মত সুন্দরী নারীর জন্য আমাদেরও আছে একটু-আকটু ।
- এই আবার শুরু করলে ইয়ার্কি ? না, তোমাদের সাথে আর পারি না ।
- দাদা, যাওয়ার আগে তাইলে একটা কথা শুনে যান ।
- কি কথা বাপু ?
- বৌদির সাথে কিন্তু কখনই ঝগড়া-বিবাদে জড়াইয়েন না । কারণ কি জানেন ? একটা জড়পদার্থ ভেঙ্গে গেলে আবার ঠিক তার খাঁজে খাঁজে মিলিয়ে দেওয়া যায়, কিন্তু দুটি মানুষকে যেখানে বিচ্ছিন্ন করা হয় দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর আর ঠিক সেখানে রেখায় রেখায় মেলে না । কারণ, মন জিনিসটা সজীব পদার্থ, নিমেষে নিমেষে তাহার পরিণতি এবং পরিবর্তন ।
- বাহ, এত উঁচু লেভেলের কথাটা কি তোমার ?
- আরে না, আমার হতে যাবে কেন । এই কথাটা বলেছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।
- তুমি আবার পড়াশুনাও শুরু করলে নাকি ?
- এই তো টুকটাক । তবে দাদা, বৌদির ব্যাপারটা যা বলছিলাম......
- থাক, থাক, আমি আজ যাই বাপু, তোমার বৌদি হয়তো বাড়িতে বসে এখনও কান্নাকাটি করে যাচ্ছে । আমি না গেলে তাকে থামাবে কে ?

দাদাবাবু জোরেশোরেই বাড়ির দিকে পা বাড়ালেন । লোকটিকে বৌদির ব্যাপারে কিছু বললেই ভাবেন হয়তো কথাগুলো অন্য দিকেও মোড় নিতে পারে । দাদাবাবু আসলে পারেনও, সুনীল মিটিমিটি করে হাসছে আর মাথা চুলকাচ্ছে । বই লেখা নিয়ে তাকে সিরিয়াসলি ভাবনা শুরু করতে হবে এবার ।

বিঃদ্রঃ এই লেখাটিরও কিয়োদাংশ এক বন্ধুর ফেসবুক একাউন্ট থেকে নেওয়া ।


ছেলেটির কথায় দাদার আক্কেলগুড়ুম - পর্ব ৪ - একটি রসীয় কড়চা

এবারের বিষয় সুনীলের কবিতা লেখা নিয়ে । সুনীলের মত আড্ডাবাজ ছেলেরাও কবিতা লেখা শুরু করবে, আর কোন কাহিনী হবে না তা কি হয় ? তবে বরাবরের মত কথাবার্তার শেষ কিন্তু ঐ বৌদিকে নিয়েই । পড়ুন তাইলে.......

- আরে, দাদা যে, কখন এসেছেন ? আরে ধুর, যখনই এসে থাকেন আগে আসেন কোলাকুলিটা সেরে নিই ।
- কোলাকুলি !!! সে আবার কেন বাপু ?
- ধুর, দাদা, আপনিও না, কেমন জানি, বড্ড বেরসিক । নতুন আরেকটা বছর আসলো না, সেই খুশিতেই আপনার সাথে কোলাকুলি করতে চাচ্ছিলাম ।
- ওহ, আচ্ছা, ঠিক আছে, ঠিক আছে, আসো আসো ।
(দাদাবাবু আর সুনীল কোলাকুলি করে নিলো)
- তা দাদা, এই নতুন বছরটা কেমন আশা করছেন ?
- বেশি কিছু চাওয়ার নেই বাপু । খালি এই চাকরীটাতে একটি ছোটখাট প্রমোশন, ঘর আলো করে নতুন একজন অতিথি - এই দুইটি আশা আর তোমার বৌদির সাথে একবার কক্সবাজার যাওয়ার প্ল্যান আছে এই নতুন বছর ।
- বলেন কি দাদা !! আপনার এতকিছু চাওয়ার পরও আর চাওয়ার কিছু থাকতে পারে নাকি !! যাই হোক, কক্সবাজার যাওয়ার প্ল্যানটা কিন্তু জোশ । দেখি, ঐ সময়টা ফ্রি থাকতে পারি কিনা ।
- মানে ? তুমি ফ্রি থাকলে কি হবে ?
- না, মানে, আপনি বৌদিকে নিয়ে এতদূর যাবেন, এরপর হোটেল, বাস, বোট, জাহাজ কতকিছুর ম্যানেজমেন্ট করবেন, তখন তো বৌদি একা থাকবে, একটু না হয় বৌদিকে সঙ্গই দিলাম । আর তাছাড়া কক্সবাজার আমি নিজেও কখনই যাইনি ।
- ধুর, খালি মশকরা করো !! তোমাদের নিয়ে আর পারি না । তা, সুনীল তোমার ঐ বই লেখাটার কি হলো ?
- কোনটা যেন দাদা ?
- ঐ যে, কি যেন বেশ্যা আর মোবাইলের রং-নাম্বারের প্রেমের একটা কাহিনী বলেছিলে না, ঐটা ।
- ওহ, আচ্ছা, সেইটা । ছেড়ে দিয়েছি, বাদ দিয়ে দিয়েছি । গল্প-টল্প আমাকে দিয়ে হবে না । ভাবছি কবিতা লিখবো । একটা কবিতা এই মুহূর্তে মাথাতেও আছে । শোনাবো দাদা ?
- (দাদাবাবু হঠাৎ পুলকিত হয়ে গেলেন) শোনাও তো বাপু ।
- "বেলা শেষে কহিলেন হারু শেখ
রহিলো কি আমার গোয়াল ঘরে ?
নিয়ে গেলো যাহা কুড়াইয়া লহিবে তাহা
মোর তরে লুটাইবে তা নিশিথে" - এই তো দাদা এইটুকুই ।
- বাহ, আর আছে...... ? নাকি এই চার লাইনই লিখেছো?
- আপাতত এই চার লাইনই । আরেকটা কবিতা বেশ কয়েকটা লাইনও মাথায় খেলছে ।
- বাহ, আরও একটা !!! তুমি দেখছি মারাত্মক কবি হয়ে গেছো । কি কবিতা ?
- বৌদিকে নিয়ে একটা কবিতা ।
- থাক, থাক বাপু, এইটা শোনানোর দরকার নেই । অন্য আরেকদিন শুনবো, কবিতা লেখা শেষ হওয়ার পর । আজ তাহলে উঠি । সন্ধ্যার আগে বাড়ি না পৌঁছালে তোমার বৌদি বলেছে খবরই আছে ।
- মিথ্যা বলছেন কেন দাদা ? বৌদি তো এরকম বলতেই পারে না ।
- তোমরা এখনও তোমাদের বৌদিকে চিনতেই পারোনি । যাই হোক, ভালো থেকো, আজ তাহলে গেলাম ।

দাদাবাবু বৌদি প্রসঙ্গ আসতেই বরাবরের মত মজলিশ ছেড়ে ভাগলেন । সুনীলের সাথে সাথে অন্য ছেলেগুলোও হাসছে দাদাবাবুর যাওয়ার পানে তাকিয়ে । ওদিকে সুনীল ভাবছে, দাদাবাবুকে তো দিব্যি বলা হলো বৌদিকে নিয়ে কবিতার কথা, এখন তো সেটা নিয়ে ভাবতে হবে । পরে যদি সত্যি সত্যি কবিতাটা শুনতে চান......

বিঃদ্রঃ লেখাটির কিয়োদাংশ এক বন্ধুর ফেসবুক একাউন্ট থেকে নেওয়া ।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১:২২
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভয়ংকর সেই খবরের পর… সন্তানের হাতটা শক্ত করে ধরুন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৫

আজ সকালে খবরটি পড়ে আমার মনটা একদম ভেঙে গেল। ভাবতেই ভয় লাগছে—আমাদের সন্তানদের আমরা আসলে কতটা অরক্ষিত পরিবেশে বড় করছি! ছোট্ট একটি নিষ্পাপ শিশু, যে পৃথিবীটাকে ঠিকমতো চিনতেই শেখেনি, তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দু খতরে মেঁ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


শুধুমাত্র মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে শুভেন্দু। তার বক্তব্যের মূলপ্রতিপাদ্য হলো হিন্দু খতরে মেঁ! আশ্চর্যের বিষয় হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা নাকি মুসলিমদের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে, কিছুদিন পরেই নাকি পশ্চিমবঙ্গ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সময় খুব দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে।

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩০

দিনগুলো কেমন যেন দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে!
দেখতে দেখতে মাস শেষ হয়ে যাচ্ছে,
এইতো সেদিন থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করলাম,
আর এদিকে দেখি চার মাস শেষ হয়ে পাঁচ মাস চলছে। অথচ আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্য পশ্চিম দিকে উঠে:)

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৩ ই মে, ২০২৬ রাত ১১:২০


আমাদের দেশে রাজনীতিতে নেতা যাই বলে তার কর্মীরা সেটাকে সঠিক মনে করে। সেটা নিয়ে দ্বিমত করে না। এখন ধরুন নেতা মুখ ফসকে বলে ফেলেছে “সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উঠে।” তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডেঙ্গু আবার ধেয়ে আসছে তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে একটি সমন্বিত কার্যক্রম রূপকল্প

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪১


লেখাটির উপক্রমনিকা
মাস কয়েক আগে সামুর পাতায় ব্লগার কলা বাগান ১ এর একটি গুরুত্বপুর্ণ লেখা প্রকাশিত হয়েছে । লেখাটিতে থাকা মুল কথাগুলি ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×