somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রুবা

০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




রুবার সাথে আমার বিয়েটা ওঠ ছেড়ি তোর বিয়ের মতোই হয়েছে । একদম সাধারন কোনরকম অনুষ্ঠান নাই । সেইদিন অফিসে অনেক কাজ ছিলো । চোখে তারা ফারা দেখছিলাম । বসের হাকডাক আর চোটপাটে জীবন প্রাই যায়যায় । এরমধ্যে আনিস , আমার অফিসের পিয়ন এসে বললো রিসিপশানে আমার বাবা এসে নাকি বসে আছে । চাপ থেকে বের হবার একটা অজুহাত পেয়ে হাতে চাঁদ পাবার মতো নিজের ডেস্ক ফেলে রিসিপশানে ছূটে গেলাম।

আমার বাবা, মোবাশ্বের আকন, গ্রামের মেম্বার।লোকে মোবা মেম্বার বলে ডাকে কেউ কেউ শুনেছি বোবা মেম্বার বলে।সম্ভাবত কম কথা বলেন তাই। এলাকায় রাজনীতির প্যাচ খেলায় তার জুড়ি মেলা ভাড়। একজন স্বল্পভাষি মানুষ কিভাবে মেম্বার হয়ে এটা আমার ধারনের বাহিরে । শুনেছি আশেপাশের দুই তিন গ্রামের অনেক চেয়ারম্যান তার কুটিল প্যাচে পরে বেকায়দায় আছে । তার নিজ এলাকার চেয়ারম্যান তাকে দুই চোখে দেখতে পারে না । কারণ আর কিছুই না তার কুটিল ও জটিল গ্রাম পলেটিক্স ।

রিসিপশানে গিয়ে দেখি রাশভাড়ি মানুষটা আমাদের রিসিপশনিস্ট কেয়ার সাথে খোশ গল্পে মশগুল । আমাকে দেখে কেয়া মুচকি হেসে নিজের সিটে গিয়ে বসলো । বাবার সামনে আমি চিরকাল থরহরিকম্প । আমাকে আড় চোখে দেখে উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, ছুটি নিয়ে নাও , আমার সাথে যেতে হবে । এইমূহুর্তের সব থেকে অসম্ভব কাজ ছুটি নেয়া সেটা উনি আমাকে করতে বলছেন । আমি ইতস্তত করতে লাগলাম । হাতে ওনার ব্যাগটা ধরিয়ে দিয়ে উনি গটমটিয়ে অফিস থেকে বেড়িয়ে গেলান ।

কি এক অদ্ভুত কারনে আমার ছুটি হয়ে গেলো । বসের রুমে মাথাটা কেবল ঢুকিয়েছি দেখি কেয়া বসের পাশে দাঁড়িয়ে দুজনই হাসছে । হাসির মর্মার্থ তখন বুঝি নাই । রাকিব সাহেব ছুটি মঞ্জুর , বস তার বিশাল দুই জোড়া চোখ আরো বড় বড় করে আমাকে যেন খানিকটা ধমক দিয়ে বললেন । কিন্তু মুখে হাসি । কোন রকম ঢোক গিলে ব্যাগ হাতে ছুটতে ছুটেতে অফিসের নিচে এসে দেখি আকন সাহেব অর্থাৎ আমার পিতা কোথা থেকে একটা আধা ভাংগা গাড়ি জোগাড় করে এনেছেন তাতেই বসে আছেন ।

ব্যাগটা নিচে রাখো, ওইটা কোলে নিয়া বসে আছো কেন ।ভোন্দামী করা তোমার মামার বংশের দোষ , তোমার মায়েরও ছিলো তুমিও সেই দোষ পাইছো। গাড়ির ভেতর দরদর করে ঘামছি । আঁকন সাহেব আড়চোখে একবার তাকিয়ে সোজা তাকালেন। এসি ওয়ালা গাড়ির ভাড়া বেশি তাই এই গাড়ি ভাড়া নিলাম। জানালা খুলে দিলে সুন্দর বাতাস আসে । আব্বা, আমরা কোথায় যাচ্ছি ।কাপা গলায় জিজ্ঞাসা করলাম। কোন জবাব দিলেন না।

গাড়ি শ্যামলি ছাড়িয়ে মোহাম্মাদপুরের দিকে যাচ্ছে । বুকের ভেতর অজানা নানান প্রশ্ন ঘুরেছে । জবাব পাচ্ছি না । উসখুশ করছি দেখে বললেন, কি ব্যাপার এমন বাইন মাছের মতো মোড়াও কেন? আমরা কোথায় যাচ্ছি, জিজ্ঞাসা করলাম। ভদ্রলোক পবিত্র একটা হাসি দিইয়ে বললেন তোমার বিয়া , আমার ফুপাতো বোনের ননদের মেয়ের সাথে। মেয়ে মাশাল্লাহ, হুর পরি, গায়ের রঙ খানিকটা চাপা কিন্তুক হাসলে তারে ববিতার মতো লাগে। এইবার কথা না বলে আর পারলাম না , আমার বিয়ে, আপনি নিজেনিজে ঠিক করে ফেললেন তাও মেয়ের গায়ের রঙ কালো যাকে আপনি আবার বলছেন হুরপরি । কালো মেয়ে হুরপরি কেমনে হয় । আঁকন সাহেব সরু চোখে তাকালেন, তুমি তোমার জীবনে হুরপরি দেখছো?

না, মাথা নাড়লাম ।

আমিও দেখি নাই । তো তুমি যখন দেখোই নাই হুর পরি সাদা না কালা তাইলে বুঝলা কেমনে হুর পরির গায়ের রঙ কালো হবে না ।এই হুরপরি কালো এইটাই মনে রাখবা ।

কিন্তু তাই বলে , গলা চড়াতে গিয়ে থেমে গেলাম ।

শোন, মেয়ে ভালো, দশ পদ রানতে পারে, রান্না আমি নিজে খাইছি , তোমার মায়ের মতো জঘন্য রান্দে না। সেলাই জানে । ব্যাস আর কি চাও ।

আব্বা, আমি একজন শিক্ষিত ছেলে, কর্পোরেট অফিসে কাজ করি । গলা চড়িয়ে ফেললাম ।

তাতে হইছে কি? তুমি আঁকন মেম্বারের পোলা, লোকে যারে বোবা মেম্বার বলে, যার নামে চাইরটা মার্ডার কেসের মামলা আছে। তোমারে কে এর থেকে ভালো মেয়ে দেবে?

আপনার নামে খুনের মামলা আছে? বিস্ময়ে তাকিয়ে রইলাম। কই আমরা কেউই তো জানি না ।

জানলে কি করতা ? তুমি কি জজ না আইন পাশ দিছো যে আমারে খালাশ কইরা ফেলতা ? চুপ কইরা বইসা থাকো শুভ কাজে যাচ্ছি বকর বকর কইরা মেজাজ গরম কইরো না ।

অসম্ভব, এইটা হতে পারে না । গাড়ি থামান আমি নেমে যাবো ।

পাজামার ভেতর থেকে চকচকা একটা লম্বা ছুড়ি জাতীয় যাকে গুপ্তি বলি বের করে বললো এইডা চেন? চাইরডা খুন করছি জীবন বাচনের জন্য পাঁচ নম্বর করমু ইজ্জত বাচানোর জন্য।

আমার শরীর থেকে ঠান্ডা ঘম ঝরলো। আমি যে পিতা কে চিনি ইনি সেই পিতা না । গাড়ি ভালো রাস্তা ছেরে ভাঙ্গা রাস্তায় বেশ কিছুক্ষন চললো । আমি মোটামুটি হাত পা ছেরে দিয়ে মরার মতো পড়ে আছি ।কিছুক্ষন চলার পর একটা হালকা ঝাকি দিয়ে গাড়ি থেমে গেলো ।

চারিদিক অন্ধকার ।কিছুই দেখা যায় না ।এমন অন্ধকার যে গাড়ির দরজা খুলে যে একটা দৌড় দিয়ে পালিয়ে যাবো তার উপায় দেখছি না । জব্বার, ওরে জামা কাপড় পরাইয়া রেডি কইরা আন ড্রাইভার কে উদ্দেশ্য করে বললো, আমি যাইয়া দেখি আয়োজন কেমন । এতোক্ষন জব্বার নামক ড্রাইভার কে দেখার সুজুগ পাই নাই । গাড়ির ভেতরের মৃদু আলো জব্বার কে দেখে পালানোর বাকি ইচ্ছাটাও কবর দিয়ে দিলাম ।


চলমান....
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:২১
৭টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরিয়াতন্ত্রের নিষ্ঠুরতা, ধর্মীয় উগ্রবাদ ও নৈতিক দেউলিয়াপনা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৭


পৃথিবীজুড়ে মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা বাড়ছে। এই বিদ্বেষ শুধু ইসরায়েল বা তার পৃষ্ঠপোষক ডানপন্থী দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কানাডার মতো তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী এবং ফিলিস্তিনের প্রতি জোরালো রাজনৈতিক সমর্থন থাকা আয়ারল্যান্ডের মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দিল্লির রাজপথে তরুণদের ‘জেনজি ২.০’ অভ্যুত্থান এবং বাংলাদেশের জুলাই-পরবর্তী রূপান্তরের নির্মম বাস্তবতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৮

ভারতের রাজধানী দিল্লির বুকে যা ঘটে গেল, তা সাম্প্রতিক ইতিহাসে সত্যিই অভূতপূর্ব। ভারতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা ও এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে ‘তেলাপোকা’ বা ককরোচ জনতা পার্টির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিমানবন্দরে নির্ঘুম রাত (সাময়িক পোষ্ট)

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৭

আমার এখানে বাজছে রাত প্রায় দুটা! এখনো জেগে আছি। জেগে থাকার শানে নুযুল হলো, আমি অনেকটা ফাইসা গেছি! হায়দার সাহেবের গানের মতো, "আমি ফাইসা গেছি, আমি ফাইসা গেছি মাইনকা চিপায়!"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×