
অনেকেই অনেক অভিযোগ তুলছেন ছাত্রদের প্রতি। চলমান ছাত্র আন্দোলনের প্রতি। তারা অশ্মীল ভাষা ব্যবহার করছে, গাড়ি ভাংচুর করছে, রোড ব্লক করে রাখছে, এমনকি অ্যাম্বুলেন্স ও ব্লক করে রাখছে। যারা অভিযোগ গুলো তুলছেন তারা কি নিজের চোখে দেখে তুলছেন?!?!? ঘটনাস্থলে ছিলেন?!?!?
অনেকেই বলছে আমরা শান্তিপুর্ণ আন্দোলন করতে পারতাম। কিন্তু আমরা নাকি গাড়ি-ভাংচুর করছি, আগুন ধরিয়ে দিচ্ছি। যারা এইসব করছে তাদের কি আপনি দেখেছেন?!?!?
না দেখেই লাফানি শুরু?!?!?
যদি কেউ দেখেছেন দাবি করে থাকেন,তাহলে প্রমাণ দিন, কখন, কোথায়, কি অবিচার/অন্যায় করেছি আমরা ছাত্ররা।।।

অ্যাম্বুলেন্স ব্লক???
তাহলে এটা কি?!?!? এই ছেলেগুলোর বিরুদ্ধেই তো অসুস্থ মানুষকে ও যেতে না দেওয়ার অভিযোগ আসছে, তাই না?!?!?
গাড়ি ভাংচুর, আগুন দেওয়া?!?!?
আপনি কি নিজের চোখে দেখেছেন?!?!? যারা গাড়ি ভাংচুর করছে তারা কেউ ই স্টুডেন্ট না। হয় পরিবহন শ্রমিক নয়তো ছাত্রলীগের পা চাটা কুকুর। আমার সামনে ই দেখেছি আমি। ২/৩জন ছেলে এসে হঠাৎ করেই গাড়ি ভাংচুর করা শুরু করে। তখন ঢাকা কলেজের স্টুডেন্টরা যখন তাদের ধরে জানতে চায় তারা কোথাকার স্টুডেন্ট জবাব নেই। এরাই গাড়ি ভাংচুর করছে। ছাত্ররা না।
ছাত্রদের নাকি বেশী লাই দিয়ে দিয়ে মাথায় তুলে ফেলছে?!?!?
আচ্ছা?!?!? ৭টা সৃজনশীল বেশী লাই দেওয়া,কোটায় ছাত্রদের জন্যই কোটা না রাখা বেশী লাই দেওয়া তাই না?!?!?
বাসে নাকি হাফভাড়া করে দেওয়ায় ভুল হয়েছে।
আপনি মনে হয় ঢাকায় কখনো বাসের দিকে তাকাননি। বাসে লেখা থাকে "হাফ পাস নেই"। অনেক বাসে স্টুডেন্ট ইউনিফর্ম থাকলে গাড়িতেই তুলতে চায় না,হাফ ভাড়া তো বহুত দূর।


ছাত্র রা রোড ব্লক করে কোন সাহসে?!?!?
রাজনীতিক ব্যাক্তিরা ঘুরতে বের হলে যখন ঘন্টার মত রোড ব্লক হয়ে যায়, তখন আপনাদের প্রবলেম হয় না, জ্যামে যখন ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকেন, তখন ও সমস্যা নেই, আর ছাত্ররা ন্যায্য আন্দোলনের দাবিতে ২/৩ ঘন্টা রোড ব্লক করলেই আপনাদের চুলকানি স্টার্ট?!?!? বাহ!!!
লাইসেন্স চেক করে কোন সাহসে?!?!?
সেটা বড়দের কাজ, ট্রাফিক পুলিশের কাজ। আরে ভাই, যেখানে স্বয়ং পুলিশের গাড়িতেই লাইসেন্স নেই, সেখানে তারা কি লাইসেন্স চেক করবে?!?!? আমার নিজেরই এক অপরাধের কথা বলি। আমি আমার এক বন্ধুর বাইকের পিছে বসে ছিলাম। বাইকে ৩জন ছিলাম। সে বাইক ছুটাচ্ছিল ৭০-৮০-তে। মাথায় হেলমেট ছিল আমাদের একজনের ও। আমাদের পুলিশ আটকিয়ে রাখে। একবার ও লাইসেন্স খুজে নি। আমার বন্ধুটি ২০০টাকা দিয়ে আমাদের ৪টি অপরাধ কাটিয়ে নিল- ২জনের বেশী বসা, হেলমেট ছাড়া চালানো, স্পিড লিমিট ক্রস করা, লাইসেন্স ছাড়া চালানো। এই হল আমাদের ট্রাফিক পুলিশ, যারা লাইসেন্স চেক করার দায়িত্ব নিয়ে বসে আছে।

এরকম কখনো দেখেছেন ঢাকা শহরে?!?!? ঢাকা শহর বাদ দিলাম, অন্য কোথাও দেখেছেন। কিন্তু কাল-পরশু দেখা গিয়েছে। কারা করেছে?!?!? ছাত্র রা,স্কুল-কলেজের পিচ্চি ছেলেরা। এরা চোখে আংগুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে ট্রাফিক কন্ট্রোল কিভাবে করতে হয়।
অশ্মীল ভাষা ব্যবহার করছে ছাত্ররা
আরে ভাই, এত সাধু সাজছেন কেন?!?!? আপনি নিজে ও জানেন ছাত্র বয়সে আপনি নিজে ও এইসব ভাষা ব্যাবহার করেছেন বন্ধু মহলে। এবার সেটা স্রেফ জনসম্মুখে এসে গিয়েছে। কারণ সেরকম ঘটনা ঘটেছে। ঘটেছে বলেই ছাত্রদের মধ্যে বেপরোয়া ভাব এসে গেছে। রাস্তার মধ্যে "পুলিশ কোন চ্যাটের বাল", "ভরে দিব", "পুলিশ চোদার টাইম নাই" লিকে প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে গেছে। একজন ছাত্র কতটুকু বেপরোয়া হলে তার ছোট ভাইটির হাতে এইধরণের কথা লিখে প্ল্যাকার্ড ধরিয়ে দেয় সেটা চিন্তা করে দেখুন।
কোটা বিরোধী আন্দোলনে যখন লাঠি চার্জ করা হয়েছিল,তখন আন্দোলন একটু সীমিত হয়ে গিয়েছিল।আন্দোলন কারীর সংখ্যা একটু কমে গিয়েছিল। কিন্তু এবার সেটা হচ্ছে না, পুলিশ-ছাত্রলীগ যত আঘাত আনবে,আন্দোলন তত বাড়বে। Student Power Is the Biggest Power. ছাত্ররা ক্ষেপলে কি করতে পারে তার প্রমাণ ৫২,৬৬,৬৯ সহ আরো অনেকবার পেয়েছেন। আর প্রমাণের দরকার নেই। এবার স্কুল-কলেজ-ভার্সিটি সব নেমেছে মাঠে। বেয়াদ্দব, বেহায়া, অশ্মীল যাই বলুন, লাঠি চার্জ, টিয়ার শেল, ফায়ার যাই করুন, আন্দোলন তো চলবেই। হ্যা, আমরা বেয়াদব, অভদ্র, অশ্মীল। জীবনটাই যদি না থাকে ভদ্রতা দিয়া কি কাজি খামু নাকি?!?!?

সর্বশেষ এডিট : ০২ রা আগস্ট, ২০১৮ দুপুর ১:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


