somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সি এম জোনাক
একটা ভাল বই যেমন একশটা বন্ধুর সমান, তেমনিএকটা ভাল বন্ধু একটা লাইব্রেরির সমান।

চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজ শিবিরের দখলে থাকা ময়দানে ছাত্রলীগ!

১৮ ই জানুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজ শিবিরের দখলে থাকা ময়দানে ছাত্রলীগ

চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজের মূল ফটকের সামনে রোববার মহাসমাবেশ করে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ - বাঁশের মাথায় বাঁধা ব্যানার ধরে দাঁড়িয়ে আছে কেউ কেউ। তাতে লেখা মৌলবাদমুক্ত ক্যাম্পাস চাই। হাতে হাতে ফেস্টুন। মাথায় বাঁধা লাল-সবুজের ফিতা। শত শত শিক্ষার্থীর দেয়া 'জয় বাংলা' সস্নোগানে প্রকম্পিত মাইল খানেক এলাকা।

ট্রাকের ওপর তৈরি মঞ্চে দাঁড়িয়ে নেতারা রাখছেন মৌলবাদ রুখে দেয়ার প্রত্যয়দীপ্ত বক্তব্য। এ চিত্র চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজের মূল ফটকের সামনের। দীর্ঘ ত্রিশ বছর ধরে জামায়াত-শিবিরের দখলে থাকা ছাত্ররাজনীতির এ মাঠে গত এক মাস ধরে দখলে রেখেছে ছাত্রলীগ।

গতকাল চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ শিবিরমুক্ত ক্যাম্পাস গড়তে আট দফা আদায়ে আয়োজন করে মহাসমাবেশের। চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি বলেন,,, চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজে বিগত ত্রিশ বছর ধরে একদিনের জন্যও বঙ্গবন্ধু, মুুক্তিযুদ্ধের কোনো কথা উচ্চারিত হয়নি। উল্টো লাখো শিক্ষার্থীকে শুনতে হয়েছে মওদুদী আর গোলাম আযমদের স্বাধীনতাবিরোধী বয়ান। এবার ছাত্রলীগ শপথ নিয়েছে জামায়াত-শিবির শুধু চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজ থেকে নয়; গোটা চট্টগ্রাম থেকে রাজনৈতিকভাবে তাদের উৎখাত করে ছাড়বে।

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইয়াসির আরাফাত কচি বলেন, রোববারের মহাসমাবেশ মৌলবাদ মুক্তির চূড়ান্ত শপথের সমাবেশ। চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজে ছাত্রলীগ দীর্ঘ এক মাস ধরে অহিংস কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে এ ক্যাম্পাসে শুধু প্রগতির পতাকাবাহীরাই রাজনীতি করবে।

আশির দশক পর্যন্ত চট্টগ্রাম কলেজ ও সরকারি হাজী মহসিন কলেজ ছিল প্রগতিশীল শক্তির ঘাঁটি। ১৯৮১ সালে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্র সংসদের এজিএস ও ছাত্রলীগ নেতা তবারক হোসেনকে শিবির ক্যাডাররা গলা কেটে হত্যা করে।

১৯৮৪ সালে রাতে চট্টগ্রাম কলেজের সোহরাওয়ার্দী হোস্টেলে একই কায়দায় তারা হত্যা করে ছাত্র ইউনিয়ন নেতা শাহাদাত হোসেনসহ দুই ছাত্রকে। একের পর এক প্রগতিশীল ছাত্রনেতাদের হত্যার মধ্য দিয়ে ছাত্রলীগ, বাকশালপন্থী জাতীয় ছাত্রলীগ এবং ছাত্র ইউনিয়নকে বিতাড়িত করে তারা। একইসঙ্গে তারা চট্টগ্রাম কলেজের পার্শ্ববর্তী সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের নিয়ন্ত্রণ নেয় আশির দশকেই। এরপর থেকে প্রায় তিন দশক পর্যন্ত প্রগতিশীল কোনো ছাত্র সংগঠন চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেনি। এ কারণে চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজে ছিল না কোনো সাংস্কৃতিক চর্চা। মুক্তবুদ্ধির চর্চা করতে গেলেই বাধা হয়ে দাঁড়াত শিবির। কখনও কখনও মেধাবী ছাত্রদের ধরে এনে নির্মমভাবে নির্যাতন চালিয়েছে শিবির ক্যাডাররা।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম কলেজে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা চালায়; কিন্তু শিবিরের অস্ত্র আর শত শত ক্যাডারদের সঙ্গে পেরে উঠেনি ছাত্রলীগ। সর্বশেষ গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম কলেজে বিজয় দিবস উপলক্ষে ছাত্রলীগ মিছিল করতে যায়। এসময় ছাত্রশিবির কর্মীরা ছাত্রলীগের ওপর হামলা চালায়। ছাত্রলীগও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলে। পালাতে বাধ্য হয় শিবির কর্মীরা। এ ঘটনার পরপরই ছাত্রলীগের দাবির মুখে শিবিরের দখলে থাকা চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজের প্রতিটি ছাত্রবাস বন্ধ করে দেয়া হয়। এক মাস চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনির নেতৃত্বে চট্টগ্রাম কলেজে প্রতিদিনই কর্মসূচি পালন করে ছাত্রলীগ। দফায় দফায় সংবাদ সম্মেলন, আট দফা দাবি, মিছিল-সমাবশে, লিফলেট বিতরণ থেকে রক্ত ঢেলে প্রতিবাদের মতো অহিংস কর্মসূচি পালন করে আসছে তারা।

সর্বশেষ চট্টগ্রামের প্রত্যেক ওয়ার্ড থেকে ছাত্রলীগ কর্মীদের নিয়ে মহাসমাবেশ করে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ। প্রায় ত্রিশ বছর ধরে জামায়াত-শিবিরের দখলে থাকা রাজনীতির এই মাঠে প্রথমবারের মতো দীর্ঘস্থায়ী খেল দেখাল চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ।




সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জানুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১:৩৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্ষতিগ্রস্থ ইসরায়েলি জনপদ!

লিখেছেন মোঃ খালিদ সাইফুল্লাহ্‌, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২



সুরা আ’রাফের ৪ নং আয়াতে বলা হয়েছে,”আর এমন বহু জনপদ রয়েছে, যা আমরা ধ্বংস করে দিয়েছি। তখনই আমাদের শাস্তি তাদের উপর আপতিত হয়েছিল রাতে অথবা দুপুরে যখন তারা বিশ্রাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×