সার্বিক দিক থেকে বলতে গেলেআমাদের
দেশে মানসিক বা স্নায়ুরোগ মানেই পাগল বা
অনেকে সাধারণত এটাকে রোগ বলতে নারায।
তেমনি এক রোগের নাম অত্যধিক-অমোঘ ব্যাধি বা
শুচিবায়ু একটি সাধারণ স্নায়বিক রোগ। বিকল্প বানান
ছুঁচিবাই [ chunci-bāi ]। এটি বিশেষ্য শব্দ যার অর্থ
অশুচি হওয়ার ভয় ও শুচিতা রক্ষার জন্য বাড়াবাড়ি বা
ছোঁয়াছুঁয়ি সম্বন্ধে বাতিক। এটি একধরণের মানসিক
রোগ যা এক ধরণের অযৌক্তিক বা অনাকাঙ্খিত চিন্তার
আচ্ছন্নতা। ইংরেজিতে এটি Obsessive–compulsive
disorder নামে পরিচিত যা অনেকের মধ্যে দেখা
যায়।
বিভিন্ন ধরণের অস্বাভাবিক চিন্তা ভাবনা কেন্দ্রীভূত
করে ফেলা। এবং এই চিন্তা ভাবনা গুলো রোগীর
মনে পুনঃপুনঃ দেখা যায়। যেমন রোগ সম্বন্ধে
ভাবে যে তার যক্ষ্মা, ক্যান্সার, এইডস হয়েছে বা
হচ্ছে।
যেমন- জনাব 'ক' দীর্ঘদিন যাবতকাল মনোদৈহিক
সমস্যায় ভুগছেন। তিনি রোগ নির্ধারণ করতে
যাবতীয় পরিক্ষার কোনটিই অবশিষ্ট রাখেন নি।
ডাক্তার বলেছে তিনি নরমাল। কিন্তু, জনাব 'ক'
সাহেব কোনো ভাবেই নিজের মনকে শান্ত
করতে পারেন নি তার মনে আরও নতুন এক চিন্তা
বাসা বেধেছে। সিনেমাতে দেখেছেন
রোগীর মরণব্যধি হলে ডাক্তারেরা রোগীকে
কিছুই বলেন না। তাছাড়া, তিনি একাই ডাক্তারে যান।
তাহলে কি ক্যান্সার বা এইডস? জাগতিক সকল চিন্তা
ভাবনার বাইরে চলে গেলেন তিনি। এদিকে তার
পুরো পরিবারের দায়িত্ব তার উপর। তার পরিবাটাও ধংস
হতে চলেছে..
রোমন্থন করা অর্থাৎ অদ্ভুত সব সমস্যা বা প্রশ্ন
নিয়ে এতই ব্যাস্ত থাকে যে প্রশ্নের সদুত্তর
মেলে না। যেমন- আপনার বাচ্চা আপনাকে প্রশ্ন
করল আপনার বাবার নাম কি? তার বাবার নাম কি? তার বাবার
নাম কি? অর্থাৎ অসীম প্রশ্ন (০) উত্তর।
আবেশিক তাড়না। যেমন শিশুদের দেখলেই মনে
হবে তার গলা টিপে ফেলবে, ট্রেনের নিচে
পরবে ইত্যাদি। এসব চিন্তা তাকে অস্থির করে
ফেলে কিন্তু বাস্তবে এর কোনটিই সে করতে
পারবে না।
বিশেষ কোন স্থান বা অবস্থান কে কেন্দ্র করে
রোগীর মনে অহেতুক ভয় দেখা দেয়।
যেমন: অনেক শিশু স্কুলে যেতে যাওয়ার জন্য
কাঁদে.. অনেকে আবার স্কুলে যাবার নাম শুনলেই
কাঁদে। এক্ষেত্রে আমরা বাচ্চাকে দোষ দেই।
আসলে এটা হচ্ছে রোগ।
কেউ কেউ কোন কথা বার বার বলার জন্য তার নিকট
আত্মীয় কে বিরক্ত করেন যা একবার বললেই
হয়
চিন্তাকে কাজের অথবা আচরণের মাধ্যমে প্রকাশ
করা, যাকে আমরা কম্পালশন বলি।
তাই অবহেলা নয়, আসুন সচেতন হই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


