দুঃখিত আসলে উনি এমন কিছুই বলেননি। তাহলে এমন কেন বললাম?
উত্তর হলঃ আমি খুব ভালো করেই জানি এই শিরোনাম দেখার সাথে সাথেই বুদ্ধিমান, অতি বুদ্ধিমান, বুদ্ধি প্রতিবন্দি কিম্বা জ্ঞান পাপী বা আবেগি বা যুক্তিবান কিম্বা যুক্তিহীন মানুষ সকলেই পুরোটা পড়ার জন্য অতি আগ্রহী হবে। এখন আসি আসলে কথায়ঃ
সম্প্রতি এভারেস্ট ইস্যুতে ATN NEWS এ প্রচারিত অনুষ্ঠানে লেখক আনিসুল হকের ( যদিও এখানে প্রথম আলোর সাংবাদিক হিসেবে) দুটি মন্তব্য বেস আলোচিত। প্রথমটি অবশ্যই আবেগতাড়িত অন্যটি যুক্তি প্রমানের, এখন কথা হচ্ছে সমাজের কোন শ্রেণীর কাছে কোনটি আলোচনার বিশয়বস্তু হতে পারে। কথা ঠিক এই জাতি জন্মগত ভাবেই আবেগপ্রবন, তবে বাস্তবতা অবশ্যই যুক্তির মাফকাঠিতে নির্ণয় করা হয়।
কি ছিল তার আবেগ প্রবন মন্তব্যঃ আপনি যদি বিশ্বাস করেন বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট, "আপনে যদি বিশ্বাস করেন চাঁদে মানুষ গেছে, তাহলে আনাকে বিশ্বাস করতে হবে মুসা এভারেস্টে উঠেছে" -
কি ছিল তার যুক্তি যুক্ত মন্তব্য? যদি তারা প্রমান করতে পারেন মুসা ছবি মিথ্যা, যদি তারা প্রমান করতে পারেন মুসা এভারেস্ট এ উঠে নাই, তাহলে আমাকে এর দায় হিসেবে যে শাস্তি দিবেন আমি টা মাথা পেতে নিব, তবে এটাও তাদের বলতে হবে যদি তারা প্রমান করতে না পারেন তাহলে তাদের কি হবে বা কি শাস্তি নিবেন এটাও তাদের বলতে হবে।
আমার কাছে তার দ্বিতীয় মন্তব্যটি অধিক গ্রহণযোগ্য হয়েছে, কারন সব ইস্যুতে আবেগের কোন স্থান নেই, তবে এটাকে আমি পুরোপুরি আবেগময় মন্তব্য মানতে নারাজ, কারন এটা দিয়ে উনি তার দাবির পক্ষে মনের জোর বা সিওর হওয়ার ব্যাপারে শুধু মাত্র উপমা হিসেবে ব্যাবহার করেছেন, এখানে অন্য কিছু আছে বলে মনে করি না।
মানুষ তার শিক্ষা দীক্ষা বোধবুদ্ধি দ্বারা তার মন্তব্যগুলকে কিভাবে নিবেন তা তাদের অবশ্যই নিজস্ব ব্যাপার। কারন শিক্ষিত সমাজে উপরে বিভাজনকৃত মানব চরিত্রের ওই সকলরুপ বিরাজমান। কেউ আবেগের বশে, কেউ যুক্তির খাতিরে কিম্বা কেউ বিশেষ উদ্দেশ্য মাথায় রেখে উপরের মন্তব্য দুটির যেকোন একটির উপর জোর দিবে এটাই স্বাভাবিক। একটা সময় ঠিকই প্রকাশ পাবে আপনার চিন্তাধারার স্বরূপ। কেউ যদি বিশেষ সুবিধাজনক অবস্থায় থাকার পরও ইচ্ছাকৃত ভাবে যুক্তির জায়গা থেকে সরে গিয়ে অন্য কিছু নিয়ে মেতে থাকেন কিম্বা বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনে উৎসাহী হন, তাহলে বলবো ভুল করছেন। তাদের উদ্দেশে বলবো- কার যেন একটা কথা আছে- সব মানুষকে কিছু দিনের জন্য বোকা বানাতে পারবেন, কিন্ত সব মানুষকে সব সময়ের জন্য বোকা বানাতে পারবেন না। মানুষ যখন বুঝতে পারে যে তাকে বোকা বানানো হইছে তাহলে ফলাফল কিরুপ হয় তা নিজেই বোকার জায়গায় দাড়িয়ে ভাবুন। শেষ একটা কথা যুক্তটির জগতে আসুন।
একটি সত্যি গল্প দিয়ে শেষ করছিঃ বেশ কয়েক বছর আগে গুলিস্থানে বাসের ভিতর থেকে শুন্তেছি- একটা পিচ্ছি হকার জোরে জোরে বলছে- আজকের শিরোনাম, খালেদা জিয়া মা হয়ছেন,খালেদা জিয়া মা হয়ছেন্,খালেদা জিয়া মা হয়ছেন। ওকে ডেকে দেখা গেলো আসলেই সিরনামে লেখা আছে ওটাই। দাম কত? ২ টাকা। অনেকেই কিনলেন, পুরোটা পড়ে জানা গেলো- নাসিরুদ্দিন পিন্তু নাকি খালেদা জিয়াকে মা বলে ডেকেছেন( কথাতো তাহলে সত্যি, উনিত সত্যিই মা হয়ছেন !!!!!!)। পাসের লোকটি বিরক্ত( উনি মনে হয় ভাইকে নিয়ে কিছু আসা করেছিলেন... ) হয়ে বললেন, ২ টাকাই জলে গেলো। পাসে বসা আরেকজন বলল, সমস্যা কি, টয়লেট পেপার হিসেবে ইউজ কইরেন... । সবার বিশাল হাসি।
মর্মার্থঃ কোন গল্পে কি খুজবেন সেটা আপনার দায়িত্ব। তবে মত প্রকাশের মাধ্যম হলে খুব খেয়াল করে নতুবা টয়লেট পেপার হয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে কিন্তু যদি ইচ্ছাকৃত ভুল করেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




