
২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে দেশের ডা/নপন্থী শক্তির লোকেদেরও বিরাট ভূমিকা ছিল। কিন্তু সেই ডা*নপন্থাই যখন বা উগ্র ডানপন্থা দেশকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় বা অন্যতম প্রধান ধারা হয়ে উঠতে চায়, তখন সেটা কিন্তু নিঃসন্দেহে মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং হয়েছিল ঠিক সেটাই! আর এর পিছনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল হাজারও অভিযোগে অ*ভিযুক্ত তৎকালীন মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বতী সরকারের।
শত শত মাজার ভা*ঙ্গা, কথিত ধর্ম অবমা*ননার অভিযোগে বিভিন্ন মানুষের উপর আ/ক্রম*ণ ও হ*ত্যা, সংখ্যালঘু নি/র্যাত*ন, কথিত ইসলামী বিপ্লবী সরকার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা, প্রথম আলো-ডেইলি স্টার, উদিচি, ছায়ানটে অ/গ্নিসং*যো*গ ও ভা/ঙচুর– কী ঘটায় নাই উ*গ্র ডা*নপন্থীরা এই সময়টাতে? আর সবচেয়ে জঘন্য ছিল দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধীতা ও পাকিস্তানপন্থার উত্থান, যার জন্য দায়ী এই ডানপন্থার উত্থানই!
সবচেয়ে যে ব্যাপারটা খারাপ হয়েছিল, সেটা হলো দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বিরাট অংশও এই ডা*নপন্থায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল; অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছিল যে আধুনিক ও স্বাধীন জীবন যাপন করা তরুণ-তরুণীরাও দেশ ধর্মীয় কায়দায় চললেই ভালো হবে, দেশে ইসলামি শাসন দরকার– এমন চিন্তাকেও স্বাগত জানাচ্ছিল বা মেনে নিচ্ছিল।
এক ওসমান হাদীর গু*লি খাওয়া ও মৃ*ত্যু দেশের বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণীর কাছে তাকে রীতিমতো নায়ক বানিয়ে দিল, বানিয়ে দিল বলা যায় মহাগুরু, আরাধ্য পুরুষ। হাদীর সাথে আমি ফেসবুকে কানেক্টেড ছিলাম একসময়;’ ইনবক্সে টুকটাক কথাও হয়েছে গত বছরের প্রথমদিকে। ইনকিলাব মঞ্চের মূল নেতৃত্বের বেশ কয়েকজনের সাথেও ফেসবুকে বা ব্যক্তিগতভাবে কানেক্টেড ছিলাম বা আছি। হাদীর গু*লি খাওয়ার পর এর প্রতিবাদে এবং এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে পোস্টও দিয়েছিলাম আমিও। হাদী একজন ডা*নপন্থী রাজনীতিক হলেও, ওর সাথে আমার রাজনৈতিক আদর্শে বিপুল পার্থক্য থাকার পরেও হাদীকে আমি মোটামুটি একজন গ্রহণযোগ্য পারসন মনে করতাম। ! হাদী যে বলেছিল, "ভারতের ষড়যন্ত্রে দুই পাকিস্তান আলাদা হয়ে গিয়েছিল," এবং এটার মতো ওর অনেক পাকিস্তানপন্থী কথা থাকার পরও সেটা মনে করতাম...ব্যস, স্রেফ এটুকুই!
কিন্তু, হাদীর মর্মান্তিক পরিণতিকে কেন্দ্র করে যেভাবে জামাত-শিবির ও অন্যান্য ডানপন্থীরা এককথায় যেভাবে ব্যবসা ও মার্কেটিং করেছিল, সেটা ধরতে পারেনি চিন্তার গভীরতায় যথেষ্ট ঘাটতি থাকা তরুণ প্রজন্ম আর জেন জিরা। বাধাহীনভাবে সেই ব্যবসা ও মার্কেটিংয়ের ফাঁদে পা দিয়েছিল এই জেন জি তরুণেরা । হাদী কী, হাদীর আদর্শ কী এটা ঠিকমতো না জানা না বোঝা আধুনিক ও মুক্ত জীবনযাপন করা জেন জি নারী-পুরুষদের কাছে হাদী হয়ে গেল বিশাল বিপ্লবী, পীর-আউলিয়ার মতো। যে কারণে হাদীকে একেবারে না চেনা, না বোঝা আধুনিক ও স্বাধীন জেন জি নারী-পুরুষেরাও তাকে নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত আবেগ দেখিয়ে বা অন্তত ফেসবুকে মাত্রাতিরিক্ত আবেগঘন পোস্ট দিয়ে হলেও একেবারে বেরাছেড়া অবস্থায় চলে গেল, যা ছিল খুবই হাস্যকর, বেজায় খাপছাড়া!
আবার, দেশে জামাত-এনসিপির উত্থানের কারণে যে ডা*নপন্থার উত্থান ঘটেছিল ব্যাপকভাবে, হয়েছিল পাকিস্তান পন্থার ব্যাপক উত্থান, আর সেটার পিছনে যে কথিত নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনুসের প্রত্যক্ষ অবদান ও ভূমিকা ছিল, সেটাও বোঝার ক্ষমতা ছিল না এই জেন জিদের। ইউনুসও তাদের অনেকের কাছে হয়ে গেল ত্রাণকর্তা, মহাপুরুষ, বাংলাদেশের কর্ণধার!
মোটকথা, কথিত নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনুস ও তাঁর অন্তর্বতী সরকার দেশে ডা*নপন্থা ও মৌ*লবাদের ব্যাপক উত্থানের পিছনে যে মূল দায়ী এবং এজন্য যে তারা চিরকাল এর দায় বহন করে চলবেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই! কিন্তু, ইউনুসকে এখনো নায়ক মনে করে, এমন তরুণের কি অভাব রয়েছে এই দেশে??
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



