somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রথম পর্ব: ইসলামের বিজয় যে পথে অনিবার্য হয়

০১ লা আগস্ট, ২০০৮ রাত ১:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দুর্বলতা যেমন ভদ্রতা নয় তেমনি মহৎ গুণও নয়। এটি শুধু অযোগ্যতাই নয়, ভীরুতাও। জাতির জীবনে এমন দুর্বল মানুষের সংখ্যা বাড়লে পরাজয় ও অসম্মানের পাশাপাশি বিপদগ্রস- হয় তখন জাতির বেঁচে থাকাটিও। কারণ, বন্য জগতের চেয়েও বিপদজনক হলো এ মনুষ্য জগত। হাজার টন বোমা বন-জঙ্গল বা পশুপাখির মাথায় নিক্ষিপ্ত হয় না, হয় ঘনবসতি পূর্ণ জনপদে। যেটি হচেছ ইরাক, ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান ও চেচনিয়ায়। তাই বাঁচতে হলে বাঁচবার প্রস'তিও চাই। বুদ্ধিবিবেক ও পেশীশক্তি নিছক উপার্জন বাড়ানোর জন্য নয় বরং জীবন ও ইজ্জত বাঁচানোর জন্যও। তাই আত্মমর্যাদাশীল ব্যক্তি পানাহারের সাথে প্রতিরক্ষায়ও মনযোগী হয়। সে শুধু চাষাবাদ বা ব্যবসাবাণিজ্যই করেনা, যুদ্ধও করে। বিষয়টিকে আল্লাহপাক গুরুত্ব দিয়েছেন এভাবেঃ

“ওয়া আয়িদ্দুউলাহুম মাস-াতা’তুম মিন ক্বুউওয়া” (সুরা আনফাল ৬০)
অর্থঃ “এবং (তাদের মোকাবেলায়) নিজেদের প্রস'ত কর সমস- শক্তি দিয়ে।”

এ ঘোষণা এসেছে নির্দেশের ভাষায়। ফলে প্রতিরক্ষার কাজে প্রস'ত না থাকাটি হলো আল্লাহতায়ালার এ নির্দেশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। ইসলামে এটি কুফর। এটি মহাপাপ। এ মহাপাপের শসি- পেতে হয় স্বাধীনতা ও ইজ্জত খুইয়ে। ১৭৫৭ সালে বাংলার মুসলমানেরা সে শাসি- পেয়েছিল ১৯০ বছরের জন্য স্বাধীনতা খুইয়ে। কারণ স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্ব তারা পালন করেনি। মুসলিম বিশ্বের আজকের ইজ্জতহানী ও উপর্যপুরি পরাজয়ের কারণও হলো এটি। মুসলমানরা আজ যেভাবে জালেমের হাতে নিহত, আহত ও লুণ্ঠিত হচ্ছে এবং মুসলিম দেশগুলি যেভাবে একের পর এক অধিকৃত হচ্ছে তার মুল কারণ শক্তিহীনতা। এটি হল আল্লাহর নেয়ামতকে কাজে না লাগানোর শাসি-। সম্পদকে তারা শুধু ভোগ-বিলাসেই কাজে লাগিয়েছে, প্রতিরক্ষায় নয়। ফলে শরীরে মেদ বাড়লেও, বেড়েছে শক্তিহীনতা। শক্তিহীনের এমন পরাজয় ও দুর্ভোগকে সবসময়ই নিয়তি ভাবা হয়। নেকড়ে শিকার ধরলে তা নিয়ে যেমন নিন্দাবাদ হয়না, তেমনি নিন্দাবাদ হয় না মার্কিন, রুশ, চীন, ভারত বা ইসরাইলী জবরদখলের বিরুদ্ধে। হাজার হাজার টন বোমা ফেলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে ইরাকে। সেখানে ৫ লাখেরও বেশী মানুষের হত্যার ব্যবস'া করা হয়েছে। গ্রোজনী পরিণত হয়েছে ধ্বংসস'পে। ধ্বংস করা হয়েছে দক্ষিণ লেবাননকে। ধ্বংসকাজ চলছে ফিলিসি-নে। এসব নৃশংস ঘটনার প্রতিরোধ দূরে থাক মৌখিক নিন্দা করার সামর্থও জাতিসংঘের নেই। বরং জাতিসংঘের কাজ এগুলিকে ন্যায্যতাও দেয়। ফলে ফিলিসি-ন যখন অধিকৃত হলো এবং মূল-অধিবাসীগণ নিহত বা নির্বাসিত হলো তখন সে বর্বরতাকে জাতিসংঘ স্বীকৃত দিয়েছিল। একই ভাবে মার্কিন বাহিনীর হাতে আফগানিস-ান ও ইরাক অধিকৃত হওয়ার পর জাতিসংঘ সেখানে গেছে আফগান ও ইরাকীদের পোষ মানাতে। খুণীকে খূণী বলা, হানাদারকে হানাদার বলতে যে ণ্যূনতম মূলবোধ, বিবেকবোধ ও নৈতিকতা লাগে সেটি জাতিসংঘের নাই। তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট, ইসরাইল বা রাশিয়ার ন্যায় বিশ্বের সবচেয়ে জঘন্য খুণীগুলো এখানে নিন্দিত না হয়ে বরং নন্দিত হয়। তাছাড়া জাতিসংঘ নিজেই বহু হত্যাকান্ডের নায়ক। নব্বইয়ের দশকে বসনিয়ার সেব্রেনিৎসা নগরিতে জাতিসংঘের দায়িত্বশীলেরা নিজেদের ক্যাম্প থেকে ৭ হাজার মুসলমানকে সার্ব খুনীদের বাসে তুলে দিয়েছিল। সার্বরা তাদেরকে বধ্য ভূমিতে নিয়ে হত্যা করে। এতবড় হত্যা কান্ডের জন্য সার্ব খুণীদের কোনরূপ গোপন পরিকল্পনা করতে হয়নি। প্রয়োজন বোধ করেনি এটি রাতের আঁধারে করার। কফি আনানসহ জাতিসংঘের বহু কর্তা ব্যক্তি তখন বসনিয়ায় নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত ছিল। কিন- তারা নিরীহ মানুষ বাঁচাতে কোন দায়িত্বই পালন করেনি। যেমন করছে না আজ ইরাক, আফগানিস্তান, ফিলিসি-ন, কাশ্মীর, চেচনিয়াসহ বিশ্বের কোনে কোনে মুসলিম হত্যারোধে।

দূর্বল ও প্রতিরক্ষাহীন থাকার বিপদ যে কতটা নৃশংস সেটিই সমপ্রতি প্রমাণিত হলো থাইল্যান্ডে। গত ২৬ শে অক্টোবর ৮৪ জন নিরীহ ও নিরস্ত্র থাই মুসলমানকে হত্যা করা হলো অতি বর্বর ভাবে। জঘন্যতার বিচারে হত্যাকান্ডটির চেয়েও নিষ্ঠুরতর হলো যেরূপ নৃশংস ভাবে তাদের হত্যা করা হয়েছে সেটি। প্রায় ২ হাজার ছাত্রকে পিঠমোড়া করে হাত বেধে রাস-ায় উপুড় করে ঘন্টার পর ঘন্টা থাই পুলিশ লাথিয়েছে। এভাবে আধমরা করে আটার বস-ার ন্যায় গাদাগাদি করে ট্রাকে সাজিযেছে। ৬ ঘন্টার যাত্রা পথে দমবন্ধ হয়েই তারা মারা গেছে। তাদের অপরাধ, গ্রেফতারকৃত নেতাদের তারা মূক্তি দাবি করছিল। পশুর সাথেও মানুষের আচরণ এতটা নিষ্ঠুর হয়না। এমনকি খুণি বা ডাকাতেরাও এমন বর্বরতা প্রকাশ্য দিবালোকে করতে লজ্জাবোধ করে। কিন' থাই পুলিশ সেটি করেছে টিভি ক্যামেরার সামনে। এটি করেছে স্পোর্টসরূপে। আরও অবাক করার বিষয়, এ বর্বর চিত্র টিভিতে দেখানোর পরও জাতিসংঘ বা অন্যদেশ দূরে থাক খোদ মুসলিম দেশগুলোতেও প্রতিবাদ নেই। রাজ পথে কোন মিছিলও নেই। মুসলিম উম্মাহ যে আজ কতটা মৃত, খন্ডিত ও প্রাণহীন এটি হলো তারই প্রমান। কারণ মৃত দেহ অত্যাচারিত হলেও তাতে সাড়া জাগে না। অথচ কোন ইউরোপীয় বা মার্কিন নাগরিক মুসলিম দেশে সহিংসতায় মারা গেলে সমগ্র বিশ্ব তাতে সোচ্চার হয়।

(চলবে....)
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২১
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×