(প্রথম পর্ব থেকে চলমান )
প্রশ্ন হলো, দুর্বৃত্ত কবলিত এ বিশ্বে নিজেদের বাঁচাতে মুসলমানেরা নিজেরা কি করেছে? কোনকালেই এ বিশ্ব জালেমমূক্ত ছিল না। আজকের বুশ-ব্লেয়ার-পুটিন-শ্যারনের ন্যায় অতীতেও আবু লাহাব, আবু জেহেল, নমরুদ ও ফেরাউন ছিল। আল্লাহর দ্বীনের অনুসারিদেরকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র অতীতে যেমন হয়েছে তেমনি আজও হচ্ছে। কোরআন শুধু নামায-রোযা, হজ্ব-যাকাতের তাগিদই দেয় না। এমন জালেমের বিরুদ্ধে কি করণীয় কি সেটিও শেখায়। তাই ইসলাম অতীতে শুধু নামাযী, রোযাদার, হাজী বা দ্বায়ীই সৃষ্টি করেনি, মোজাহিদ এবং শহিদও গড়েছে। নেকড়ের দয়ার উপর ভরসা করে জীবন বাঁচে না। সভ্যতা নির্মানে তাই শুধু বুদ্ধিবৃত্তি, শিক্ষা ও সংস্কুতিই গুরুত্বপূর্ণ নয়, অতি গুরুত্বপূর্ণ হলো সামরিক শক্তি। শত্রুর হামলা থেকে বাাঁচার এ ছাড়া ভিন্ন পথ নেই। হামলার মুখে লড়াই এজন্যই ফরয। এভাবেই বাড়ে আত্মরক্ষা। আত্মরক্ষায় অমনযোগী হলে মসজিদ-মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজ গড়েও জানমাল বাঁচে না। হালাকু-চেঙ্গিজের হাতে বাগদাদ যখন ধ্বংস হয় এবং নিহত হয় লক্ষ লক্ষ মানুষ তখন মসজিদ-মাদ্রাসা কম ছিল না। তেমনি স্পেনের মুসলমানরা যখন গণহত্যার শিকার হয় তখনও সেখানে মসজিদ মাদ্রাসা কম ছিল না। কিন' তাতে মুসলমানের জানমাল ও ইজ্জত বাঁচেনি। সামরিক শক্তির বিকল্প সামরিক শক্তিই। তাই সাহাবায়ে কেরাম যেমন নামায-রোযায় কাটিয়েছেন তেমনি অস্ত্র শান দিয়ে যুদ্ধেও নেমেছেন। কোরআন মোমেনের সে বিশেষ গুণের বর্ণনা দিয়েছেন এভাবেঃ
ওয়া ইয়াকতুলুনা ও ইয়ুকতালুন। অর্থঃ তারা নিজেরা যেমন হত্যা করে তেমনি নিহতও হয়।
মুসলমানগণ পঙ্গু নয়। আকার-আকৃতি, শারীরিক বল, মাথা-মগজ কোনদিক দিয়েই কাফেরদের থেকে তাদের কম দেয়া হয়নি। কম দেয়া হয়নি প্রাকৃতিক সম্পদ। বরং প্রাকৃতিক সম্পদে অতি সমৃদ্ধ হলো মুসলমানেরা। তেল, গ্যাস, টিন, রাবার, ইউরেনিয়াম, তুলা, গমসহ নানা প্রাকৃতিক ও কৃষি-সম্পদের বৃহৎ অংশ উৎপাদিত হয় মুসলিম দেশে। বিশ্বের সর্বাধিক সৌর শক্তিও রয়েছে তাদের দেশগুলিতে যা অচিরেই শক্তির অতি গুরুত্বপূর্ণ উৎসে পরিণত হবে। মুসলিম বিশ্বের তেলে শুধু গাড়ীই চলে না, বিশ্বের অর্থনীতিও চলে। তেলের মূল্য বাড়লে তাই মন্দা দেখা দেয় বিশ্ব-অর্থনীতিতে। তাদের আরেক সম্পদ রাবারও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। গাড়ি, বিমান ও সামরিক যানের টায়্যার এ ছাড়া নির্মিত হয় না। তাদেরই রয়েছে সর্বাধিক জনশক্তি, তথা আল্লাহতায়ালার সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। পরিচর্যা পেলে যাদের প্রত্যেকে তেলের বা সোনার খনির চেয়েও মূল্যবান প্রমাণিত হতে পারে। যে জনশক্তির অভাবে মার্কিনীদের পার্টনার খুঁজতে হয় সে সমস্যা মুসলমানদের নেই। তারা ছড়িয়ে আছে বিশ্বের সর্বত্র। মুসলিম দেশে মার্কিন বসতি নেই। অথচ কুয়েত, কাতার ও জর্দানের ন্যায় কয়েকটি রাষ্ট্রের সমুদয় জনসংখ্যার চেয়ে বেশী মুসলমান বাস করে আমিরিকায়। মুসলিম দেশে ইউরোপীয় বসতিও নেই। অথচ আফগানিস-ানের জনসংখ্যার সমান সংখ্যক মুসলমান রয়েছে ইউরোপে। মুসলমান রয়েছে এমনকি দক্ষিণ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও চীনে। তেমনি বাংলাদেশের জনসংখ্যার চেয়েও বেশী মুসলমান রয়েছে ভারতে। মুসলিম দেশগুলির ভূগোলসংলগ্ন হলো সুয়েজ, বসফরাস, জিব্রাল্টার ও মালাক্কা জলপথের ন্যায় অতি গুরুত্বপূর্ণ বানিজ্যপথ। বিশ্ব রাজনীতির ক্ষেত্রে এগুলি গুরুত্বপূর্ণ। মুসলমানদের প্রাকৃতিক সম্পদ, জনশক্তি ও ভৌগলিক অবস'ান - এর প্রতিটিই হলো আল্লাহর আমানত। আর সর্বশ্রেষ্ঠ আমানত হলো পবিত্র কোরআন। এ আমানতের দায়িত্ব পালনই মুসলমানদের সবচেয়ে বড় কাজ। নিছক মানুষ হওয়ার কারণে নয়, বরং এ দায়িত্ব অর্পিত হওয়ার কারণেই মুসলমান পেয়েছে আল্লাহর খলিফার মর্যাদা। আরবী ভাষায় সম্পদের হেফাজত বা ওয়াদাপালনের অঙ্গিকারকে বলা হয় আমানত। এবং এর বিপরীত হলো খেয়ানত। আরবীতে খেয়ানতকারিকে বলা খা’য়েন বা গাদ্দার। বাংলা অর্থ বিশ্বাসঘাতক। আল্লাহর উপর ঈমান আনার অর্থঃ মহান আল্লাহর নির্দেশালী পালনেও অঙ্গিকার বদ্ধ হওয়া। মোমেনের প্রকৃত আমানতদারি হলো এটি। এবং এ আমানতদারি আল্লাহর রহমত বয়ে আনে। এবং খেয়ানত আনে আযাব। আমানতের দায়িত্ব পালনে মূসা (আঃ)কে ফিরাউনের দরবারে যেতে হয়েছিল। আজকের ফিরাউনদের চেয়ে সে আমলের ফিরাউন কম নিষ্ঠুর ছিল না। ইহুদীদের প্রতিটি পুরুষ শিশুকে সে হত্যা করতো। ফলো এমন নিষ্ঠুর জালেম শাসকের সামনে আল্লাহর ফরমান নিয়ে হাজির হওয়াই ছিল বিপদজনক। একালের ন্যায় সেকালের ফিরাউনের সামনে কথা বলতেও মানুষ ভয় পেত। কিন' আল্লাহর নির্দেশ পালনে মূসা (আঃ) শিক্ষণীয় দৃষ্টান- রেখেছেন। আল্লাহপাক তাঁর সাহসিকতায় এতই মুগ্ধ হয়েছেন যে সেটিকে শিক্ষানীয় করতে পবিত্র কোরআনে বার বার বর্ণনা করেছেন। এ আমানতদারির পুরস্কার স্বরূপ তাঁকে ও তাঁর কওমকে বাঁচাতে আল্লাহপাক সমুদ্রকে বিভক্তকরে মাঝখানে শুকনো রাস-া করে দিয়েছেন এবং ডুবিয়ে হত্যা করছেন ফিরাউন ও তার বিশাল বাহিনীকে। অপর দিকে আল্লাহর বানী পৌছে দেওয়ার কাজ থেকে পিছু হটার কারণে নবী হয়েও মাছের পেটে ডুকতে হয়েছিল হযরত ইউনূস (আঃ)কে।
(চলবে.... )

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

