somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দ্বিতীয় পর্ব: ইসলামের বিজয় যে পথে অনিবার্য হয়

০১ লা আগস্ট, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(প্রথম পর্ব থেকে চলমান )
প্রশ্ন হলো, দুর্বৃত্ত কবলিত এ বিশ্বে নিজেদের বাঁচাতে মুসলমানেরা নিজেরা কি করেছে? কোনকালেই এ বিশ্ব জালেমমূক্ত ছিল না। আজকের বুশ-ব্লেয়ার-পুটিন-শ্যারনের ন্যায় অতীতেও আবু লাহাব, আবু জেহেল, নমরুদ ও ফেরাউন ছিল। আল্লাহর দ্বীনের অনুসারিদেরকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র অতীতে যেমন হয়েছে তেমনি আজও হচ্ছে। কোরআন শুধু নামায-রোযা, হজ্ব-যাকাতের তাগিদই দেয় না। এমন জালেমের বিরুদ্ধে কি করণীয় কি সেটিও শেখায়। তাই ইসলাম অতীতে শুধু নামাযী, রোযাদার, হাজী বা দ্বায়ীই সৃষ্টি করেনি, মোজাহিদ এবং শহিদও গড়েছে। নেকড়ের দয়ার উপর ভরসা করে জীবন বাঁচে না। সভ্যতা নির্মানে তাই শুধু বুদ্ধিবৃত্তি, শিক্ষা ও সংস্কুতিই গুরুত্বপূর্ণ নয়, অতি গুরুত্বপূর্ণ হলো সামরিক শক্তি। শত্রুর হামলা থেকে বাাঁচার এ ছাড়া ভিন্ন পথ নেই। হামলার মুখে লড়াই এজন্যই ফরয। এভাবেই বাড়ে আত্মরক্ষা। আত্মরক্ষায় অমনযোগী হলে মসজিদ-মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজ গড়েও জানমাল বাঁচে না। হালাকু-চেঙ্গিজের হাতে বাগদাদ যখন ধ্বংস হয় এবং নিহত হয় লক্ষ লক্ষ মানুষ তখন মসজিদ-মাদ্রাসা কম ছিল না। তেমনি স্পেনের মুসলমানরা যখন গণহত্যার শিকার হয় তখনও সেখানে মসজিদ মাদ্রাসা কম ছিল না। কিন' তাতে মুসলমানের জানমাল ও ইজ্জত বাঁচেনি। সামরিক শক্তির বিকল্প সামরিক শক্তিই। তাই সাহাবায়ে কেরাম যেমন নামায-রোযায় কাটিয়েছেন তেমনি অস্ত্র শান দিয়ে যুদ্ধেও নেমেছেন। কোরআন মোমেনের সে বিশেষ গুণের বর্ণনা দিয়েছেন এভাবেঃ
ওয়া ইয়াকতুলুনা ও ইয়ুকতালুন। অর্থঃ তারা নিজেরা যেমন হত্যা করে তেমনি নিহতও হয়।
মুসলমানগণ পঙ্গু নয়। আকার-আকৃতি, শারীরিক বল, মাথা-মগজ কোনদিক দিয়েই কাফেরদের থেকে তাদের কম দেয়া হয়নি। কম দেয়া হয়নি প্রাকৃতিক সম্পদ। বরং প্রাকৃতিক সম্পদে অতি সমৃদ্ধ হলো মুসলমানেরা। তেল, গ্যাস, টিন, রাবার, ইউরেনিয়াম, তুলা, গমসহ নানা প্রাকৃতিক ও কৃষি-সম্পদের বৃহৎ অংশ উৎপাদিত হয় মুসলিম দেশে। বিশ্বের সর্বাধিক সৌর শক্তিও রয়েছে তাদের দেশগুলিতে যা অচিরেই শক্তির অতি গুরুত্বপূর্ণ উৎসে পরিণত হবে। মুসলিম বিশ্বের তেলে শুধু গাড়ীই চলে না, বিশ্বের অর্থনীতিও চলে। তেলের মূল্য বাড়লে তাই মন্দা দেখা দেয় বিশ্ব-অর্থনীতিতে। তাদের আরেক সম্পদ রাবারও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। গাড়ি, বিমান ও সামরিক যানের টায়্যার এ ছাড়া নির্মিত হয় না। তাদেরই রয়েছে সর্বাধিক জনশক্তি, তথা আল্লাহতায়ালার সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। পরিচর্যা পেলে যাদের প্রত্যেকে তেলের বা সোনার খনির চেয়েও মূল্যবান প্রমাণিত হতে পারে। যে জনশক্তির অভাবে মার্কিনীদের পার্টনার খুঁজতে হয় সে সমস্যা মুসলমানদের নেই। তারা ছড়িয়ে আছে বিশ্বের সর্বত্র। মুসলিম দেশে মার্কিন বসতি নেই। অথচ কুয়েত, কাতার ও জর্দানের ন্যায় কয়েকটি রাষ্ট্রের সমুদয় জনসংখ্যার চেয়ে বেশী মুসলমান বাস করে আমিরিকায়। মুসলিম দেশে ইউরোপীয় বসতিও নেই। অথচ আফগানিস-ানের জনসংখ্যার সমান সংখ্যক মুসলমান রয়েছে ইউরোপে। মুসলমান রয়েছে এমনকি দক্ষিণ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও চীনে। তেমনি বাংলাদেশের জনসংখ্যার চেয়েও বেশী মুসলমান রয়েছে ভারতে। মুসলিম দেশগুলির ভূগোলসংলগ্ন হলো সুয়েজ, বসফরাস, জিব্রাল্টার ও মালাক্কা জলপথের ন্যায় অতি গুরুত্বপূর্ণ বানিজ্যপথ। বিশ্ব রাজনীতির ক্ষেত্রে এগুলি গুরুত্বপূর্ণ। মুসলমানদের প্রাকৃতিক সম্পদ, জনশক্তি ও ভৌগলিক অবস'ান - এর প্রতিটিই হলো আল্লাহর আমানত। আর সর্বশ্রেষ্ঠ আমানত হলো পবিত্র কোরআন। এ আমানতের দায়িত্ব পালনই মুসলমানদের সবচেয়ে বড় কাজ। নিছক মানুষ হওয়ার কারণে নয়, বরং এ দায়িত্ব অর্পিত হওয়ার কারণেই মুসলমান পেয়েছে আল্লাহর খলিফার মর্যাদা। আরবী ভাষায় সম্পদের হেফাজত বা ওয়াদাপালনের অঙ্গিকারকে বলা হয় আমানত। এবং এর বিপরীত হলো খেয়ানত। আরবীতে খেয়ানতকারিকে বলা খা’য়েন বা গাদ্দার। বাংলা অর্থ বিশ্বাসঘাতক। আল্লাহর উপর ঈমান আনার অর্থঃ মহান আল্লাহর নির্দেশালী পালনেও অঙ্গিকার বদ্ধ হওয়া। মোমেনের প্রকৃত আমানতদারি হলো এটি। এবং এ আমানতদারি আল্লাহর রহমত বয়ে আনে। এবং খেয়ানত আনে আযাব। আমানতের দায়িত্ব পালনে মূসা (আঃ)কে ফিরাউনের দরবারে যেতে হয়েছিল। আজকের ফিরাউনদের চেয়ে সে আমলের ফিরাউন কম নিষ্ঠুর ছিল না। ইহুদীদের প্রতিটি পুরুষ শিশুকে সে হত্যা করতো। ফলো এমন নিষ্ঠুর জালেম শাসকের সামনে আল্লাহর ফরমান নিয়ে হাজির হওয়াই ছিল বিপদজনক। একালের ন্যায় সেকালের ফিরাউনের সামনে কথা বলতেও মানুষ ভয় পেত। কিন' আল্লাহর নির্দেশ পালনে মূসা (আঃ) শিক্ষণীয় দৃষ্টান- রেখেছেন। আল্লাহপাক তাঁর সাহসিকতায় এতই মুগ্ধ হয়েছেন যে সেটিকে শিক্ষানীয় করতে পবিত্র কোরআনে বার বার বর্ণনা করেছেন। এ আমানতদারির পুরস্কার স্বরূপ তাঁকে ও তাঁর কওমকে বাঁচাতে আল্লাহপাক সমুদ্রকে বিভক্তকরে মাঝখানে শুকনো রাস-া করে দিয়েছেন এবং ডুবিয়ে হত্যা করছেন ফিরাউন ও তার বিশাল বাহিনীকে। অপর দিকে আল্লাহর বানী পৌছে দেওয়ার কাজ থেকে পিছু হটার কারণে নবী হয়েও মাছের পেটে ডুকতে হয়েছিল হযরত ইউনূস (আঃ)কে।
(চলবে.... )
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা আগস্ট, ২০০৮ ভোর ৪:৪৩
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×