somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তৃতীয় পর্ব: ইসলামের বিজয় যে পথে অনিবার্য হয়

০২ রা আগস্ট, ২০০৮ ভোর ৪:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(দ্বীতিয় পর্ব থেকে চলমান )
সাহাবায়ে কেরামও আমানতের দায়িত্ব পালনে নিজেদের সকল সামর্থ বিণিয়োগ করেছিলেন। তাদের বিণিয়োগ দেখে মহান আল্লাহতায়ালা তাঁর নিজের বিণিয়োগটিও বাড়িয়েছিলেন। তাঁদের সাহায্য করতে নেমে এসেছিলেন অসংখ্য ফেরেশতা। আরবের দরিদ্র ও মুষ্টিমেয় মুসলমানেরা সেকালের বিশাল আরব, রোমান ও পারস্য বাহিনীর উপর সে সাহায্য বলেই বিজয়ী হযেছেন। আজও বিজয়ের এছাড়া ভিন্ন পথ নেই। মুসলমানরা যখনই আল্লাহতায়ালার উপর বিশ্বাস না করে নিজ সামর্থের উপর ভরসা করেছে তখনই পরাজিত হয়েছে। তাই পাকিস্তানের বিশাল সেনাবাহিনী ও আণবিক বোমা তাদের ইজ্জত বাড়াতে পারেনি। বরং পরিণত হয়েছে যুক্তরাষ্টের কাছে আত্মসমর্পনকারি একটি দেশে। মার্কিনীদের নির্দেশে দেশটির সরকার নিজ দেশের নাগরিকদের তুলে দিচ্ছে মার্কিনীদের হাতে। তেমনি মিশর, সিরিয়া, জর্দানের সম্মিলিত বাহিনী অতীতের যুদ্ধে ইসরাইল-অধিকৃত একইঞ্চি ভূমিও উদ্ধার করতে পারিনি। অথচ গাজার নিরস্ত্র কয়েক লাখ মানুষ ইসরাইলকে পিছু হটতে বাধ্য করছে। একই ভাবে সাদ্দামের বিশাল আর্মি ইরাকের প্রতিরক্ষায় ব্যর্থ হলেও ফালুজার স্বল্পসংখ্যক মানুষ শহরটিকে দীর্ঘদিন হানাদার মু্‌ক্ত রেখেছে। আল্লাহর সাহায্য লাভে যেটি অপরিহার্য সেটি সংখ্যা নয়, খালেস নিয়ত ও আত্মবিণিয়োগ। এবং সে বিণিয়োগই আল্লাহর বিণিয়োগকে আসমান থেকে নামিয়ে আনে। জাতীয়তাবাদী বা বর্ণবাদী যুদ্ধে সেটি হয় না। কারণ আল্লাহপাক তাঁর দ্বীনের তরে আত্মদানকারিদেরকে সাহায্য করতে ওয়াদাবদ্ধ, পতাকা, মাটি বা ভূগোলের জন্য নয়। মুসলমানদের পরাজযের পালা তখনই শুরু যখন তারা আল্লাহ ও তাঁর দ্বীনের স্বার্থ ভূলে মাটি বা ভূগোলের জন্য লড়তে শুরু করেছে। এবং কাফেরদের সাথে আঁতাত গড়েছে।

যে কারণে হযরত ইউনূস (আঃ) মাছের পেটে ঢুকতে বাধ্য হয়েছিলেন সেই একই কারণে প্রায় সমগ্র মুসলিম বিশ্বই আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেটে। তেল ও গ্যাসশিল্পই শুধু নয়, মুসলিম বিশ্বের অর্থনীতি, আইন-আদালত, শিক্ষা-সংস্কৃতিসহ সামরিক ও বেসামরিক প্রায় সকল স্থাপনা আজ মার্কিনীদের নিয়ন্ত্রণে। ফলে নিজ দেশ থেকে মার্কিন বাহিনীর প্রভাবমূক্ত হওয়ার সামর্থ নেই সৌদিআরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, ইয়েমেন, আফগানিস্তান, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান ও পাকিস্তানসহ কোন মুসলিম দেশেরই। এমন কি এসব দেশগুলির সামর্থ নেই কোরআন সূন্নাহর আলোকে শিক্ষা ও আইন প্রণয়নের। অধিকার নেই স্বাধীন বাণিজ্যনীতি বা আণবিক প্রকৌশল উন্নয়নের। গোলামকে যেমন সবকিছূ মনিবের খেয়ালখূশী অনুযায়ী করতে হয় তেমনি অবস্থা মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের। মুসলমানদের উপর এটিই হলো সবচেয়ে বড় আযাব। এমন আযাব বনি ইসরাইলীদের জীবনেও এসেছিল যখন তারা আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করা থেকে বিরত থেকে আব্দার ধরেছিল আল্লাহ যেন নিজেই তাদের জন্য যুদ্ধ লড়েন। তাদের এ আচরণই মহা আযাব ডেকে এনেছিল। শত শত বছর নানা দেশের নানা পথে তাদেরকে ঘুরতে হয়েছিল। কথা হলো. আজকের মুসলমানদের আব্দারও কি তা থেকে ভিন্নতর? মুসলমান মারা পড়ছে আফগানিস্থানে, ইরাকে, ফিলিস্তিনে ও কাশ্মীরে। এককালে মুসলমানরা জালেমের নির্যাতন থেকে হিন্দুদের বাঁচাতে যুদ্ধ করেছেন। যেমন মহাম্মদ বিন কাসিম সিন্ধুতে রাজা দাহিরের বিরুদ্ধে করেছেন। অথচ মুসলমান শাসকেরা আজ মজলুম মুসলমানদের সাহায্য না করে সাহায্য করছে হানাদারকে। মার্কিন অর্থনীতি বাঁচাতে সৌদি আরবসহ বহু আরব রাষ্ট্র তেলের উৎপাদন বাড়াচ্ছে। হানাদার সৈনিকদের নিরাপত্তা বাড়াতে নিজ দেশে ঘাঁটি বানানোর অনুমতিও দিচেছ। অথচ ইরাক, ফিলিস্তিন বা সূদানের পুষ্টিহীন শিশুদের বাঁচাতে তাদের উদ্যোগই নেই। যারা নামাযী তারাও কর্মকান্ড সীমিত রেখেছে নিছক দোয়ার মধ্যে। তাদের দাবী, আল্লাহতায়ালা যেন ফিরেশতা পাঠিয়ে অধিকৃত ভুমিকে উদ্ধার করে দেন এবং পরাজিত করেন হানাদারদের।
(চলবে.........)
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা আগস্ট, ২০০৮ রাত ১১:৪৭
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×