বাংলাদেশের বিপদের কারণ নিছক বন্যা বা প্লাবন নয়। অতিবৃষ্টি বা অনাবৃষ্টিও নয়। সম্পদের অপ্রতুলতাও নয়। মূল বিপদ, দূর্নীতির প্লাবন। দেশ ডুবছে মানবসৃষ্ট এ মহাদূর্যোগে। প্লাবনের পানি বিলম্বে হলেও নেমে যায়। ভিটা প্লাবিত হলেও বিবেক সুস'্য থাকে। সম্পদ হারালেও মানুষ এতে মনুষত্ব হারায় না। কিন' দূর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তি পশুর চেয়েও অধম। পশু বাসে, গাড়ীতে বা দোকানে আগুন দেয়না। ধর্ষণও করে না। দেশের তলাও ধসিয়ে দেয় না। কিন' মানবেতর পশুরা যাত্রীভর্তি বাস পুরিয়ে দেয়। রাজপথে মানুষকে বিবস্ত্র করে। ধর্ষনে উৎসবও করে। আর বাংলাদেশে এসবই হচ্ছে। দূর্নীতিপরায়ন মানুষ এজন্যই নেকড়ের চেয়েও ভয়ংকর। যে সমাজে এমন মানুষেত্ম সংখ্যাধিক্য সে সমাজের পতন অনিবার্য। অন্য সব ব্যর্থতা জন্ম নেয় নৈতিক এ ব্যর্থতা থেকে। কিছু রাস-াঘাট, কলকারখানা বা বৃহদাকার ব্রীজ নির্মিত হলেই দেশকে উন্নত বলা হয় না। ডাকাতের বাড়ীতে প্রাসাদ উঠতে পারে। সেও কি ভদ্রজন? তেমনি যে দেশ দূর্নীতিতে সকল দেশের শীর্ষে সে দেশে কিছূ রাস-া-ঘাট, কল-কারখানা বা বিদেশী মূদ্রার সঞ্চয় বাড়লে বিশ্ববাসী কি উন্নত বলে? একটি জাতির উন্নয়নের সবচেয়ে বড় মাপকাঠি হলো জাতির নৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়ন। দৈহীক বল বা আকারের কারণে মানুষ সৃ্ষ্িঠর সেরা নয়। বহু পশু মানুষের চেয়ে বড় ও বলশালী। এটি সুস্পষ্ট যে, উন্নয়ন পরিমাপের যতগুলো মাপকাটি আছে তার সবগুলোর বিচারে বাংলাদেশ আজ শুধু ব্যর্থই নয়, সংকটাপন্ন। এ ব্যর্থতা যে সূক্ষ বা মামূলী তাও নয়। ঘরে আগুণ লাগলে বা প্লাবনের পানি ঘরে ঢুকলে অন্ধ, বৃদ্ধ, শিশু এমনকি ঘুমন- ব্যক্তিও যেমন টের পায় তেমনি বাংলাদেশের ব্যর্থতা টের পাচ্ছে দেশটির সর্ব পর্যায়ের মানুষ।
প্লাবন, ঝড়ঝঞ্জা ও ভূমিকম্পের ন্যায় পাকৃতিক বিপর্যয়ের মাঝেও বহু জাতি ইতিহাস গড়েছে। ভূমিকম্পের দেশ জাপান চমক সৃষ্টি করেছে অর্থনীতিতে। খাদ্য ও পানীয় জলের এবং অভাব লু-হাওয়া নিয়ে দরিদ্র আরবেরা সর্বকালের সেরা সভ্যতার নির্মাণ করেছে। কিন' দূর্নীতি নিয়ে কোন জাতি মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে সে নজির নেই। ঝড়ঝঞ্জা, বন্যা ও প্লাবন বাংলাদেশে অতীতে কম হয়নি। বর্গী হামলা হয়েছে বার বার। দেশটির উপর সাম্রাজ্যাবাদী লুন্ঠনও চলেছে দীর্ঘকাল। কিন' তা সত্ত্বেও দূর্ভীক্ষ হয়নি, ভিক্ষার তলাহীন ঝুড়িরূপেও বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পায়নি। অথচ সে পরিচিতি পেয়েছিল সত্তরের দশকে। এবং সে প্রাপ্তি অর্থাভাবে ঘটেনি। জলবায়ু বা ভূপ্রকৃতির কারণেও নয়। বরং দূর্নীতিতে। জাতির ইতিহাস যে বানের জলে কলংকিত হয় না ড়্গরং হয় দূনীতি বা নীতিহীনতায় বাংলাদেশ হলো তারই উদাহরণ। দূনীর্তির পরিমাপ হলে আজকের ন্যায় সেদিনও বাংলাদেশ দূর্নীতিতে অদ্বিতীয় হতো। অথচ দূর্যোগ মোকাবিলা করেই বাংলাদেশ অতীতে সোনার বাংলারূপে পরিচিতি পেয়েছিল। মসলিনের ন্যায় বস্ত্রশিল্পে বিশ্বখ্যাতি পেয়েছিল। বিস্ময় সৃষ্টি করেছিল স্বস-ামূল্য ও স্বচ্ছলতায়। শংকার বর্তমান কারণ, বাংলাদেশ আজ দূর্নীতির সে কলংকিত পথেই এগুচ্ছে। এবং এর প্রমাণ, দূর্নীতিতে প্রথম স'ানে অবস'ান। ঈমানহীন নাসি-কেরা এ নিয়ে যাই ভাবুক কোন ঈমানদারই বিষয়টিকে ছোট করে দেখতে পারে না। কারণ, যে পাপ মহান আল্লাহর আযাবকে অনিবার্য করে সেটি হলো দূর্নীতি। পবিত্র কোরআনে সে পরিণতির হুশিয়ারি এসেছে বার বার। ফলে দূর্নীতিতে বিশ্বে যারা প্রথম তাদের পাপ কি রাব্বুল আ’লামীনের দৃষ্টি এড়াতে পারে? তারা কি বাদ পড়ে আযাবপ্রাপ্তীর তালিকা থেকে? তাছাড়া জাতীয় জীবনের আজ যে সন্ত্রাস, নিরাপত্তাহীনতা, দূনীতি এবং বন্যার উপর্যপরি তান্ডব সেগুলিকে কি আল্লাহর নেয়ামত বলা যায়? বারো কোটি মানুষের যে নামায-রোযা ও ইবাদত-বন্দেগী জাতীয় জীবনে সুনীতি প্রতিষ্টা করতে পারে না তা কি আল্লাহর আযাব প্রাপ্তি থেকে কি পরিত্রাণ দিতে পারে? আর নেক আমল? নবী পাক (সাঃ) বলেছেন, নেক আমল হলো চলার পথ থেকে কাঁটা সরিয়ে ফেলা। অর্থাৎ মুসলমানের নেক আমল নামায-রোযা, হজ্জ-যাকাতে সীমাবদ্ধ নয়, সেটি হলো সর্ববিধ সামাজিক কল্যাণমূলক কাজ। তাই নবীজী এবং সাহাবায়ে কেরাম যেমন পথের কাঁটা সরিয়েছেন তেমনি সমাজ ও রাষ্ট্রের কাঁটাও সরিয়েছেন। তাঁদের প্রচেষ্টাতেই আবু লাহাব, আবু জেহলের মত সমাজের কাঁটারা আস্তাকূড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। দূর্নীতিমূক্ত হয়েছে রাষ্ট্র ও সমাজ। অথচ বাংলাদেশের সর্বত্র আজ আবুজেহল ও আবুলাহাবের মত দূর্বত্তরা বসে আছে। দেশে নামায-রোযা বহু হচ্ছে কিন' হচ্ছে না নেক আমল। বাংলাদেশের একটি জেলায় যত নামাযীর বাস সাহাবাদেও যামানায় এত নামাযী সমগ্র মুসলিম জাহানে ছিল না। কিন' বাংলাদেশের চেহারায় এতে পরির্তন আসছে না। কারণ, নবীজী (সাঃ) ও তার সাহাবায়ে কেরাম সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে কাাঁটা সরানোর কাজে অর্থ ও শ্রমদানেই শুধু নয়, প্রাণদানের প্রস'তি নিয়ে যুদ্ধে নেমেছিলেন। অর্ধেকের বেশী সাহাবী এ কাজে শহীদ হয়েছেন। অথচ বাংলাদেশের মুসলমানেরা সে কাজে শ্রম বা রক্তদান দূর থাক, ভোট দিতেও রাজি নই। বরং ভোট দিচেছ তাদেরকে যারা আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠাকে অসম্ভব করে তুলছে। এটিও কি কম পাপাচার?
(চলবে..... )
(বিশেষ ঘোষণা)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

