(প্রথম পর্ব থেকে)
বন্যার জলে নাক ভাসিয়ে বাঁচা যায় কিন' দূর্নীতির প্লাবনে সেভাবে রক্ষা মেলে না। তা থেকে কেউ বাঁচে না। বানের জল যেমন প্রতি মহল্লায় ঢুকে, দূর্নীতিতে কলুষিত হয় তেমনি প্রতিব্যক্তি। তখন তাহাজ্জুত নামাযগোযার শুধু নীরবে সূদ-ঘুষই দেয় নয়, পতিতাপল্লীতে যাতে নিরাপদে ব্যাভিচার চলে সে জন্য ট্যাক্স দিয়ে পুলিশের পাহারাদারির খরচও জুগায়। পতিতাবৃত্তিকে আইনসিদ্ধ করে সেটির পরিচালনায় সরকার ঈমানদারদের ট্যাক্স দিতে বাধ্য করছে। অথচ সে খবর ক’জনের? অথচ এ খবর রাখাও তো প্রতি মুসলমানের উপর ফরজ। বরং পানাহারের ন্যায় এমন অতিশয় হারাম কাজও নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এমন ধার্মিকের নামায-রোযা, হজ্ব-যাকাতের মূল্য থাকে কি? সমাজ ও রাষ্ট্রকে পাপমূক্ত না করে পূর্ণাঙ্গ ধর্মপালন যে হয় না এটি হলো তাত্মই প্রমাণ। ইসলামে এজন্যই সন্নাসব্রত নেই। নেই সেকুলারিজম। বরং ফরজ করা হয়েছে জিহাদকে। নগন্য সংখ্যক অন্ধ ও পঙ্গু বাদে নবীজীর আমলে এমন কোন সাহাবী ছিলেন কি যিনি সম্মুখ সমরে জিহাদে নামেননি। অথচ স্বাস'্যবানদের দ্বারাও বাংলাদেশে সে কাজ কতটুকু হয়েছে? হয়নি বলেই দেশটির সর্বত্র মানবরূপী অমানবদের তান্ডব। এরই প্রভাব পড়েছে মন্ত্রনালয়, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য, আইন-আদালত, হাসপাতালসহ প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে। সন্ত্রাস-কবলিত হয়েছে দেশের রাজনীতি। অথচ ইসলামে রাজনীতি কোন পেশা নয়, নেশাও নয়। এটি পবিত্র জিহাদ। এর মধ্যে থাকে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিশুদ্ধির প্রেরণা। অথচ বাংলাদেশে জিহাদের এ ময়দানটি ব্যবহৃত হচ্ছে উপার্জন ও আত্ম-সেবার কাজে। ব্যবহৃত হচ্ছে অপরাধজগতের নিষ্ঠুর ব্যক্তিদের পূনর্বাসনের কাজে। যে লুটপাট ও সন্ত্রাস ডাকাতেরা রাতের আঁধারে করতে ভয় পায় সে কাজ এরা দিন-দুপুরে করছে। একই রূপ সন্ত্রাস প্রবেশ করেছে দেশের সরকারি দফতরে। চাকু দেখিয়ে সন্ত্রাসীরা পথে-ঘাটে অর্থ আদায় করে। সে অভিন্ন নিষ্ঠুরতায় সরকারি আমলা, সরকারের প্রকৌশলী, থানার পুলিশ, রাজস্ব বিভাগের তহশিলদার, আদালতের উকিল ও কেরানি অর্থ আদায় করে নাগরিকের ন্যায্য কাজ আটকিয়ে রেখে।
বিপদের আরো কারণ, দেশে দূর্নীতি দমনে লক্ষণীয় কোন উদ্যোগই নেই। পাপের বিরুদ্ধে জিহাদ শুরু হলে আযাবের বদলে রহমত নাযিল হয়। এমন কাজে সাহায্য করতে আল্লাহপাক সদাপ্রস'ত। এটিই আল্লাহর সূন্নত। পবিত্র কোরআনে সে প্রতিশ্রুতি ঘোষিত হয়েছে বার বার। অথচ বাংলাদেশে সে উদ্যোগ কৈ? দেশ যে দূর্নীতিতে প্লাবিত সেটি প্রধানমন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতারা, থানার পুলিশ, আদালতের বিচারক এবং কর্মচারিগণও জানে। জানে আলেম-ঊলামা, ছাত্র-শিক্ষক বুদ্ধিজীবী সবাই। কিন' তা নিয়ে আন্দোলন নেই, প্রতিবাদও নেই। নেতাদের গায়ে আঁচড় লাগলে তা নিয়ে প্রতিবাদ হয়, হরতাল হয়, ভাঙচুরও হয়। কিন' দেশ যে দূর্নীতির প্লাবনে ভেসে যাচেছ তা নিয়ে আন্দোলন নেই, প্রতিবাদ নাই, প্রতিকারের উদ্যোগও নেই। শৃগাল, ঈদূর বা পোকা-মাকড়ে ক্ষেতের ফসলহানি হলে তা দমনে কত আয়োজন। কিন' দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা যেভাব দূর্নীতি পরায়ন সরকারি আমলা ও থানার পুলিশের হাতে লুন্ঠিত হচ্ছে তা দমনে উদ্যোগ কৈ? মহল্লার সন্ত্রাসী দুয়েকজন ধরা পড়লেও অফিস পাড়ার এসব নিরস্ত্র সন্ত্রাসীদের ক’জন ধরা পড়ছে? ক’জনের শাসি- হয়েছে? মশামাছির জটলায় হাত বাড়ালে কিছু মশামাছি নিশ্চিত ধরা পড়ে। মারাও পড়ে। কিন' যে সরকারি দফতরগুলিতে দূর্নীতিপরায়ন কর্মচারিরা কিলবিল করছে, দূর্নীতিতে যারা বিশ্বরেকর্ড গড়লো তাদের ক’জন এ অবধি ধরা পড়েছে বা শাসি- পেয়েছে? সন্ত্রাসী ধরতে সেনাবাহিনী নামানো হলেও এসব দূর্নীতিবাজ ধরতে কি আদৌ কোন বাহিনী নামানো হয়েছে? মুজিব আমলে রক্ষিবাহিনী নামানো হয়েছিল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে। তখন হাজার হাজার মানুষকে রাজনৈতিক কারণে হত্যা করা হয়েছিল। অথচ দূর্নীতিপরায়ন আমলা ও রাজনৈতিকদের নেতাদের গায়ে একটি আঁচড়ও কাটেনি। অথচ সে আমলে বড় বড় অপরাধিরা সরকারের হাতের নাগালের মধ্যে বাস করেছে। প্রশ্রয়ও পেয়েছে। তারা হাজার হাজার কোটি টাকার রিলিফের মাল যেমন লুটেছে তেমনি বহু হাজার কোটির সম্পদ ভারতে পাচার করেছে। ডেকে এনেছে ভয়াবহ দূর্ভীক্ষ। সে আমলে জবরদখল হয়েছিল অবাঙ্গালীদের কয়েক লক্ষ ঘরবাড়ি ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান? যে কোন সভ্যদেশে অন্যের পরিত্যক্ত সম্পত্তি সরকারি মালিকানায় যায়। এমন পরিত্যক্ত সম্পত্তির দখলে নেওয়ার অধিকার ব্যক্তির থাকে না। সভ্য আইনে এরূপ জবরদখলের প্রতিটি কর্মই হলো জঘন্য অপরাধ। অথচ সে অপরাধে সরকার কাউকে শাসি- দেয়নি। বরং পুরস্কৃত করেছে মালিকানা দিয়ে। সরকার দূর্নীতির কতটা সেবক এটি হলো তারই প্রমাণ। একটি অপরাধ দমিত না হলে হাজারটি অপরাধ সংঘটি হয়। বাংলাদেশকে এভাবেই অপরাধকর্মের উর্বর ভূমিতে পরিণত করা হয়েছে। এমন কি খেলাধুলাতে বাংলাদেশ অতি তলার দেশ রূপে পরিচিত হলেও দূর্নীতিে যে প্রথম তার কারণ এ দূর্নীতির এ খাতটি যতটা সরকারি সেবা ও প্রশ্রয় পেয়েছে তা অন্য কোন ক্ষেত্র বিণিয়োগ হয়নি। দূর্নীতি দমন তো নয়ই।
(চলবে..... )
(বিশেষ ঘোষণা)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

