somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শেষ পর্ব: বানভাসি বাংলাদেশঃ দেশ ডুবছে প্রাকৃতিক দূর্যোগে না দূর্নীতির প্লাবনে?

০২ রা আগস্ট, ২০০৮ রাত ১১:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(বিশেষ ঘোষণা)
(দ্বীতিয় পর্ব থেকে)
বাংলাদেশ সময়ের তালে কতটা পিছিয়েছে সে প্রমাণ প্রচুর। পঞ্চাশ বছর আগেও নিছক মেধার ভিত্তিতে দেশে চাকুরি পাওয়া যেত। অথচ আজ স্কুলের শিক্ষক, কলেজের প্রভাষক বা দফতরের কেরাণীর চাকুরি পেতেও লক্ষ টাকার ঘুষ দিতে হয়। এ ঘুষ নেওয়া হচ্ছে প্রকাশ্যে। অতীতে দূর্বৃত্ত ডাকাতেরাও এভাবে অর্থদাবী করতে লজ্জা পেত। অথচ আজ একই কাজ করছে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা। সমস্যা হলো, দূর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার আজও কোন সুস্পষট নীতিমালা ঘোষনা করেনি। এটি যে নিন্দনীয় এবং এর দমন যে অতি জরুরী সে সিদ্ধান্তটিও সরকার গ্রহণ করতে পারিনি। ফলে ইচ্ছে করেই কোন সিস্টেমও গড়ে তুলেনি। গড়ে তুলেনি কোন জবাবদেহীতা। নইলে একাজ কি এতই দুরুহ। ১৫-২০ হাজার টাকা বেতনের চাকুরি করে যারা লাখ লাখ টাকার বাড়ী-গাড়ীর মালিক হয় বা সন্তানকে বিদেশে পড়ায় তাদেরকে কি কখনও থানায় বা আদালতে ডেকে জিজ্ঞেস করা হয় তারা কোথা থেকে এ সম্পদ পেল? অথচ এ প্রশ্নটি আদালতের কাঠগড়ায় তুলে জিজ্ঞেস করলে অপরাধিদের হৃদয়ে কম্পন শুরু হতো। তখন বহু অপরাধ এমনিই বন্ধ হয়ে যেত। কিন' সরকার এ অপরাধে ক’জনকে শাসি- দিয়েছে? যে কোন সভ্য দেশে প্রতিটি পরিবারকে বাৎসরীক আয়ব্যয়ের হিসাব দাখিল করতে হয়। সেগুলো সঠিক কিনা সেটিও তদন- করা হয়। সন্দেহ হলে তার পিছনে রাজস্ব বিভাগের কর্মচারি, গোয়েন্দা দফতের পুলিশ এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকের তদন- শুরু হয়। এভাবে অসম্ভব করে তোলে দূর্নীতির অর্থে রাজনীতি বা বাড়ী-গাড়ীর মালিক হওয়া। সরকারি ও বেসরকারি সম্পদের উপর এভাবেই গড়ে তোলেছে নিরবিচ্ছিন্ন পাহারাদারি। অথচ বাংলাদেশ সেটি হয়নি। না হওয়ারও সুস্পষ্ট কারণ রয়েছে। দূর্নীতিপরায়ন আমলা ও রাজনীতিবিদদের হাতে যতদিন ক্ষমতা থাকবে ততদিন সেটি সম্ভবও নয়। চৌর্যবৃত্তিই যাদের পেশা তারা কখনই এটি চাইবে না যে গৃহসে'র বাড়ীতে উুঁচু দেওয়াল নির্মিত হোক। তেমনি দূর্নীতিপরায়ণ রাজনীতিবিদ ও আমলাদের কাছে রাজনীতি বা সরকারি চাকুরি কোন জনসেবা নয় বরং চৌর্যবৃত্তির কাজে সহায়ক বাহন মাত্র। বহু লক্ষ টাকা বিণিয়োগ করে যে ব্যক্তি এমপি, কমিশনার বা মেয়র হয়ে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে বহু কোটি টাকা আত্মসাতের স্বপ্ন দেখে সে কি দূর্নীতি দমনে মনযোগী হয়? আগ্রহী হয় কি দূর্নীতিবাজ ধরার কাজে? তেমনি যে ব্যক্তি লক্ষ টাকা ঘুষ দিয়ে এ জন্য চাকুরি নেয় যে কোটি টাকা আত্মসাত করবে সে কি সরকারি তহবিলের সুরক্ষা দেয়? দূূর্নীতি ব্যাপকতর হওয়াতে বরং এসব আমলা ও রাজনৈতিক নেতাদের পোওয়াবারো। বাংলাদেশ দূর্নীনিতে আজ যে বিশ্বরিকর্ড গড়েছে তার মূল কারণ তো এরাই।

অর্থনীতিতে দূর্নীতি দমিত না হলে সন্ত্রাস বা অন্য অপরাধ দমনও সম্ভব নয়। যে কোন দেশে বেশীর ভাগ অপরাধ সংঘটিত হয় অবৈধ উপার্জনের কাজে। খুন-খারবীর সংখ্যা এ তুলনায় মামূলী মাত্র। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে সেটিও হয় অবৈধ অর্থের মালিকদের দ্বারা। এরাই সমাজে নানাবিধ অবক্ষয় ডেকে আনে। তাই অবৈধ আয়ের পথ বন্ধ হলে বহু অপরাধ এমনিতেই বন্ধ হয়ে যায়। অথচ বাংলাদেশে এটি এক অভয় অরণ্য। হিংস্র পশু যেমন অরণ্যে নির্ভয়ে শিকার ধরে বাংলাদেশে তেমনি সরকারি দলের নেতা এবং ঘুষখোর আমলা নির্ভয়ে ঘুষ খায়। দূর্নীতিকে এরাই শিল্পে পরিণত করেছ। লক্ষণীয় হলো, সরকারের নানা ব্যর্থতা নিয়ে প্রচুর সমালোচনা আছে, কিন' প্রধানতম ব্যর্থতাটি নিয়ে সরকারের বাইরেও তেমন সমালোচনা নেই। বিরোধী দল সরকারের আশু পতন চায়, চায় দ্রুত নির্বাচন। যেন সরকার পতন হলেই বা তারা ক্ষমতায় গেলে সুনীতি প্রতিষ্ঠা পাবে এবং দেশ এগুবে। অথচ দূর্নীতির দমন নিয়ে তাদের কোন দাবি নেই। আগ্রহও নেই। যেখান থেকে জাতি ভাল মানুষের সববরাহ পায়, সে বিশ্ববিদ্যালগুলিতেও কত দূনীতি! সেখানেও সংঘটিত হচ্ছে ছাত্র খুন, নারী ধর্ষণ, ছিনতাই, পরীক্ষায় নকল এবং তহবিল তছরুপের ন্যায় কত অপরাধ! এ অবস'ায় সরকার ও আপামর দেশবাসীর উচিত দূর্নীতি দমনে উদ্যোগী হওয়া। ক্যান্সারে আক্রান- ব্যক্তির স্বাস'্য নিয়ে বড়াই চলে না, তার উচিত ক্যান্সারের চিকিৎসায় মনযোগী হওয়া। অথচ দেশটির এ নিয়েও রয়েছে সমস্যা। অপরাধি যেমন তারকৃত অপরাধকে মেনে নেয় না, তেমনি সরকারি দল ও সরকারি আমলা মানতেই রাজি নয় দূর্নীতি দেশের একটি প্রধানতম সমস্যা। তাদের কথা, ভান্ডারে আরো অর্থ চাই। ফলে দূর্নীতি দমন তাদের প্রায়োরিটিও নয়। বিপদের আরো কারণ, জনগণও আগ্রহী নয় নির্বাচন কালে দূর্নীতি দমনের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিতে। ফলে প্রতিটি নির্বাচনে চিহিৃত খুণী, সন্ত্রাসী এবং দূর্নীতিবাজ ব্যক্তিও জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়। অতীতে যারা দেশটিকে অতিশয় ভয়ংকর একটি দূর্ভীক্ষ উপহার দিল, দূর্নীতিতে যারা রেকর্ড করলো এবং দেশের ললাটে এঁটে দিল তলাহীন ঝুড়ীর কলংক তারাও ভোটে ক্ষমতাসীন হয়। বিকারগ্রস- রোগী যেমন নিজের ভাল মন্দ বোঝে না তেমনি অবস'া যেন বাংলাদেশরও। নীতিহীনতা তাই শুধু সরকারি আমলা ও রাজনৈতিক নেতাদের মাঝে সীমাবদ্ধ নয়। প্রবেশ করেছে সর্বস-রে। ফলে দেশ ডুবছে শুধু বানের জলে নয়, দূর্নীতির প্লাবনেও। কিন' বানের পানি নেমে গেলেও দেশ রক্ষা পাবে কি দূর্নীতির এ মহাপ্লাবন থেকে?
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে আগস্ট, ২০০৮ ভোর ৪:৩৮
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×