somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যে পাপ আযাব ডেকে আনছে : পর্ব-২

০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(প্রথম পর্বের পর)
মুসলমানদের পতনের শুরু তখনই যখন তারা ফরজ কাজ ভূলে নফল পালনকে বেশী গুরুত্ব দিয়েছে। নফল আদায় না করলে কেউ পাপী হয় না। অথচ ফরজ পালনে ব্যর্থতা শুধু মহাপাপই নয়, এটি ভয়ানক আযাবও ডেকে আনে। মুসলমান মাত্রই আল্লাহর সৈনিক। সৈনিকের দায়িত্বপালনই প্রতিটি ঈমানদারের উপর ফরজ। এটিই সার্বক্ষণিক ইবাদত। মুসলমান মাত্রই জ্ঞানী হবে, জেনারেল হবে, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী এবং ডাক্তারও হবে, কিন' সবই হবে আল্লাহর সৈনিক রূপে উচ্চতর দায়িত্বপালনের তাগিদে। কারণ আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করার লড়ায়ে মুর্খ সৈনিক আর জ্ঞানবান সৈনিকের অবদান এক হয় না। এ লক্ষ্যে সে যেমন সুন্দর গৃহ ও শহর নির্মান করবে তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়, কলকারখানা এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানও করবে। সভ্যতা নির্মানের লড়াইয়ে এসবও অপরিহার্য । কারণ সভ্যতা কখনই তাঁবুতে বা মুর্খদের দ্বারা গড়ে উঠে না। সুফিদেও বড় অপরাধ হলো তারা মুসলমানদেও সভ্যতা নির্মানের এ মিশন থেকে উঠিয়ে খানকায় বা বদ্ধ গুহায় নিয়ে উঠিয়েছিল এবং এভাবে ত্বরান্বিত করেছিল মুসলমানদের পরাজয়। আল্লাহর জমিনকে পাপ মুক্ত করাই মুসলমানের জীবনের মিশন। এ পথে লড়াই অনিবার্য। কারণ অতিশয় পাপীরাও বীনা যুদ্ধে পথ ছেড়েছে সে নজির নেই। লড়াই এজন্যই মুসলমানের জীবনে অনিবার্য। নবীর যুগে কোন মুসলমানই তা থেকে পরিত্রাণ পাননি। পরিসি'তি আজও তা থেকে ভিন্নতর নয়। আর এ লড়ায়ে জিততে হলে প্রতিটি মুসলমানের যোগ্যতা বাড়াতে হবে। মুর্খ ও জ্ঞানহীন থাকাটি এজন্যই ইসলামে মহাপাপ। আজ ইসলামের বিস্তার যেরূপ স্থিমিত হয়েছে এবং মুসলমান সন্তানেরা যে ভাবে লাখে লাখে অনৈসলামের জোয়ারে ভেসে যাচ্ছে তার কারণ জ্বিহাদ ও জ্ঞানার্জনে অবহেলা। এ পাপই আরো বহুপাপের জন্ম দিয়েছে। সত্য বা হক ত উজ্বলই হোক তা নিজ গুণেই প্রতিষ্ঠা পায় না। এবং প্রতিষ্ঠা লাভের পর তা নিজশক্তিতে টিকে থাকে না। সত্যের প্রতিষ্ঠা ও সেটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য চাই সার্বক্ষণিক সৈনিক। মুসলমান সে সৈনিকের কাজই করে। নবীপাক (সাঃ) এ কাজে আরবের বস্তিতে বস্তিতে ঘুরেছেন। গালি খেয়েছেন, রক্তাত্ব হয়েছেন এবং স্বশরীরে বহু যুদ্ধও লড়েছেন। সাহাবাগণ এ মিশন নিয়ে নদ-নদী, পাহাড়-পর্বত, বহু সাগরও অতিক্রম করেছিলেন। কিন্তু নবী জীবনের এ ফরজ ইবাদত আমাদের ক’জনের জীবনে পালিত হচ্ছে? তবে মুসলমানেরা জীবন যে দিচ্ছে না তা নয়। ইরাকের প্রায় এক লক্ষ কুর্দী যুদ্ধের জন্য আজ দু’পায়ে খাড়া। এ যুদ্ধে অনেকের প্রাণও যাবে। তবে তাদের লক্ষ্য ইসলামের বিজয় নয়, মুসলমানের ইজ্জত রক্ষাও নয়। বরং নিজেদেরকে তারা প্রস'ত করেছে মুসলিম ভূমিতে মার্কিন বাহিনীর আগ্রাসানকে ত্বরান্বিত করতে। যেভাবে মুসলিম ভূমিতে ভারতীয় বাহিনীর অনুপ্রবেশের সুযোগ করে দিয়েছিল শেখ মুজিব ও তার দল । এক কালে মক্কার উসমানিয়া খেলাফতের গভর্নর ও আরব বিশ্বের অতি পরিচিত মিরজাফর শরিফ হোসেনও একই অপরাধ করেছিল সাম্রাজ্যবাদী বৃটিশ বাহিনীকে আরব ভূমিতে ডেকে এনে। আরব ভূমি আজ যে ২২ টুকরায় বিভক্ত ও শক্তিহীন তার জন্য কি শুধু শত্রুপক্ষ দায়ী? একই অপরাধ করছে আফগানিস্তানের বুরহান উদ্দিন রব্বানী, হামিদ কারজাই, রশিদ দোস্তামেরা। নিজেদেরকে মুসলমান রূপে পরিচয় দিলেও ইসলামের শক্তি বাড়াতে এরা এক ফুটা রক্ত দূরে থাক একটি বাক্যও ব্যয় করিনি। বরং সকল সামর্থ ও মেধা ব্যয় হয়েছে শত্রুর তুষ্টিতে। এরাই বহু কাল ধরে বহু রক্ত ব্যয়ে গড়া বৃহৎ বৃহৎ মুসলিম ভূমিকে ভেঙ্গে খান খান করেছে এবং আনন্দ বাড়িয়েছে ইসলামের চিহ্নিত দুষমনদের। অথচ মুসলমানের মাঝে বিভক্তি গড়া ইসলামে হারাম। ’ওয়া লা তাফাররাকু’ অর্থঃ ’এবং তোমরা বিভক্ত হয়ো না’ আল্লাহর এ নির্দেশের এটি প্রকাশ্য বিরুদ্ধোচারন। হারাম মুসলিম ভূমিতে অমুসলিম শত্রু বাহিনীকে ঢেকে আনা। মুসলামানদেরকে বলা হয়েছে ’বুনিয়ানুম মারসুস’ বা সীসাঢালা প্রাচীরসম দেয়াল গড়তে। তাই খোলাফায়ে রাশেদার আমলে মুসলিম রাষ্ট্রের আয়তন শতগুণ বাড়লেও রাষ্ট্রের সংখ্যা একটির স'লে দুটি হয়নি। এক ও অভিন্ন রাষ্ট্রের মাঝে নানা ভাষাভাষী ও নানা বর্ণের মানুষ একত্রে বসবাস করেছে। এজন্যই সেদিন মুসলিম জনপদে বর্বর শত্রুবাহিনীর হাতে গণহত্যা, ধর্ষণ ও লুটপাট হয়নি। কোন পাত্রে আবর্জনা জমলে সুস্থ্য মানুষের প্রচেষ্টা হবে সেটিকে আবর্জনামুক্ত করায়। কিন্তু আবর্জনা জমেছে এ যুক্তিতে পাত্রটিকে ভেঙ্গে ফেলা শিশুসূলভ বালখিল্যতাই শুধু নয়, এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিষয়টি মুসলিম দেশের ভূগোলের ক্ষেত্রেও। জনগণ দশটি ভিন্ন ভাষায় কথা বলে এ যুক্তিতে মুসলিম দেশকে দশ টুকরোয় বিভক্ত করা শুধু বিদয়াতই নয়, সুস্পষ্ট হারামও। মুসলিম ভুমিতে এজিদদের বর্বর শাসন একবার নয় বহুবার হয়েছে। কিন্তু প্রাথমিক যুগের প্রজ্ঞাবান মুসলমানদের রাগ কখনই সে সব এজিদের কারণে মুসলিম ভূমির উপর গিয়ে পড়েনি। কারণ, অপরাধ তো ভূগোলের নয়। ইজ্জত-আবরু, ধর্ম-সংস্কৃতি ও স্বাধীনতার প্রতিরক্ষায় বৃহৎ ভূগোল শুধু প্রয়োজনই নয়, অপরিহার্যও। ভূগোল বাড়াতে প্রতি জাতি যুগে যুগে যে বিস্তর অর্থ ও রক্ত ব্যয় করেছে সেটি নিছক খেলাতামাশার জন্য নয়। মুসলমানেরাও অতীতে একাজে বহু রক্ত ব্যয় করেছে। ফলে সে ভূগোলের ক্ষুদ্রকরণে একমাত্র শত্রু এবং শত্রুর মিত্ররাই খুশী হতে পারে। ফলে সে আমলে বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় পঞ্চাশ গুণ বৃহৎ মুসলিম ভূমিকে ভাঙ্গার কল্পানাও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মগজে ঢুকেনি। এ কাজে পৌত্তলিক বা ইহুদী-খৃষ্টানদের সাথে ষড়যন্ত্রের পথও তারা ধরেনি। অথচ এযুগের মুসলিম জাতিবিধ্বংসী নেতারা সে জঘন্য অপরাধই করেছে। এরাই শত্রুদের সাথে হাত মিলিয়ে মুসলমানদের ভূগোলকে চূর্ণবিচূর্ণ করেছে। এভাবে বিশ্বশক্তিরূপে উত্থানের সকল সম্বাবনাকে তারা বিনষ্ট করেছে। আজ যে মুসলিম উম্মাহর মেরুদন্ডহীন পঙ্গুদশা তার জন্যতো এসব নেতারাই দায়ী। আর শুধু নেতারাই নয়, এসব মুসলিম ভূমির সাধারণ মুসলমানদের বিবেকশূণ্যতা ও চেতনাশূণ্যতাও কম নয়। তাদের অপরাধ, এসব জাতিধ্বংসী চিহ্নিত অপরাধী ও শত্রুর গোলামদেরকে নেতার আসনে বসিয়েছে। এসব মিরজাফরদেরকে জাতির পিতা বা জাতির বন্ধুরূপেও চিত্রিত করেছে। ফলে জাতিবিধ্বংসী পাপ শুধু শরিফ হোসেন, কামালপাশা, কারজাই বা মুজিবদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, জনগণের মাঝেও তার বিস্তার ঘটেছে। এরই কারণে অবশেষে আযাব নেমে এসেছে জনগণের উপরও।
(চলবে……………….)
( কৃতজ্ঞতা ডা. ফিরোজ মাহবুব কামাল )
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ ভোর ৫:৩২
৮৫টি মন্তব্য ৫৫টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×