somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিছু জোৎস্নাময় নির্ঘুম স্মৃতিঘেরা রাত

০৭ ই মার্চ, ২০১৫ রাত ১:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ সারাটা দিন খুব ব্যস্ত গেলো।সকাল থেকে ক্লাস।দুপুরে এসেই একটু খেয়ে না খেয়েই দৌড় দিতে হয় টিউশনির জন্য। সন্ধ্যার অনেক পর বাসায় ঢোকার সময় হয়। ততক্ষনে বন্ধু দের আড্ডাটা ভেঙ্গে যায়।বাসায় ফিরে যায় সবাই।রাত নামে একসময়। বাসায় এসে কিছু খেয়ে নিয়ে বইএর দিকে চোখ দিতে ইচ্ছে করে না আর। যদিও কাল নাকি কি এক্সাম আছে। কাহাতাক আর এই এক্সাম এর চিন্তা সহ্য যায় !! নাহ আজ পড়াশুনা করবে না তুর্য্য।আজ বিশেষ একটা রাত। আজকের রাতে পড়াশুনার মত তুচ্ছ বিষয়কে অগ্রাহ্য করতে হয়।

প্রায় রাত সোয়া ১টা।হাতের মোবাইলের ডিসপ্লের আলোয় মুখের
একাংশ আলো হয়ে আছে।ছাদে বসে বার বার বাটন টিপে আলো টা জ্বেলে দেখছে তুর্য্য। নাহ, অনেক্ষন হয়ে গেলো।আসবে না।
কারো টেক্সট আসবে না।আগেও আসেনি। না এসেছিলো।অনেক দিন আগে। নিয়মিত আসত।এখন আসে না।তবু অপেক্ষা করে তুর্য্য। তখন সবে মাত্র কলেজের স্টুডেন্ট তুর্য্য। সোহার সাথে প্রেম তখন থেকেই। সোহার খুব বই পড়ার নেশা ছিলো।তুর্য্য তাকে যে কত বই কিনে দিয়েছে... হিমুর বই ছিলো সোহার সবচেয়ে প্রিয়।
তাইতো তুর্য্য সোহাকে আদর করে হিমি বলে ডাকত।হিমুর বই থেকেই হোক বা রোমান্টিকতার ভরপুর জোয়ার থেকেই হোক, সোহা জ্যোৎস্না খুব ভালো বাসত।তুর্য্যের এসব বিষয়ে দুর্বলতা একদমই ছিলো না।প্রতি বার জ্যোৎস্না রাতে সোহা ঘুমাতে দিতো না,।সারা রাত জেগে জ্যোৎস্না দেখত আর কথা বলত।তুর্য্য শুধুই কথা বলত,জোস্না দেখার বা উপভোগ করার মত ইচ্ছাও কখনো হয় নি। একসময় কথা বলতে বলতে জ্যোৎস্না দেখে অবাক হয়ে যায় তুর্য্য। সারা আকাশ কালোয় ভরা। শুধু চাদটা জেগে আছে , তার সব আলো নিয়ে আলোকিত করেছে সেই কালোকে।সে কালোর ভীরে আবার মিটিমিটি তারা রা মেঘের সাথে লুকোচুরি খেলে। সেই
থেকে তুর্য্যরও জোস্না ভালোলাগা।সোহা বলত জ্যোৎস্না ভালো না লাগলে মানুষের মাঝে ভালোবাসার পুর্নতা আসে না। আর জ্যোৎস্না এমন একটা বিষয় যার জন্য সব কিছু ত্যাগ করা যায়। ঘুম,স্বপ্ন,গান...

সোহার কিছু অদ্ভুত নিয়ন কানুন ছিলো জ্যোৎস্না দেখার।সাদা কাপর ছাড়া জ্যোৎস্না দেখার নাকি নিয়ম নেই।তখন গানও শোনা যাবে না। কারো সাথে কথাও বলা যাবে না তুর্য্য ছাড়া...এক মনে দেখতে হবে। তুর্য্য সাদা পাঞ্জাবিটার দিকে তাকায়। মাড় দিয়ে ইস্ত্রি করে রাখা হয় পাঞ্জাবিটা।শুধু জ্যোৎস্না দেখার সময় পরার জন্য। আজ অনেক কাল চলে গেছে সোহা আর ঘুম থেকে ডেকে তোলে না।সন্ধায় টেক্সট করে বলে না জ্যোৎস্না দেখার কথা।ফোনের ওপাশ থেকে ওই দেখ একটা তারা খসে গেলো বলে হঠাত চিতকার দিয়ে ওঠে না...কি ভাবছে তুর্য্য এসব !! তুর্য্য আবার মন দিতে চায় জ্যোৎস্না দেখায়। জ্যোৎস্না রাতে স্মৃতির মত তুচ্ছ বিষয় কে অগ্রাহ্য করতে হয়... কিন্তু প্রকৃতি মানুষকে এতটা ক্ষমতা দেয়নি যে সে তার অতীত কে ভুলে যায়। তবুও তুর্য্য তাকিয়ে থাকে।জোস্না দেখে।সারা রাত ......
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×