ঘটনাটা বছর দুয়েক আগেকার ঘটা। একদিন
বন্ধুরা মিলে ঠিক করলাম যে সেদিন স্কুল বাং মেরে ট্রেনে করে নারায়ণগঞ্জ বেরাতে যাবো। যেই ভাবা সেই কাজ,বেড়িয়ে পরলাম।
তা সেদিন ট্রেনে করে যাচ্ছিলাম, এক এক করে বেশ কয়েকটা স্টেশন পেরিয়ে গেলাম, এরপরের একটি স্টেশন থেকে এক দম্পতি উঠল, দুজনের পায়ে স্যান্ডেল ছিলনা, পোশাক দেখে বোঝা যাচ্ছিল দরিদ্র। লোকটির গায়ে শার্ট আর লুঙ্গি ছিল, বউটার গায়ে কমলা রঙের শাড়ি। অল্প বয়স্ক বউটা একটু খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছিল।
তারা এসে আমার সামনের সিটে বসলো। ভর দুপুরের ট্রেনটা সেদিন ফাঁকাই ছিল, একেক সিটে একজন করে বসে বেশ আয়েশি ভঙ্গিতে যাচ্ছিল।
একটু পরে শুনতে পেলাম বউটা তার জামাই কে বলছে যে তার মাথা ব্যাথা করছে, সে একটু শুতে চায়। জামাইটা সিটের এক কোণে গিয়ে বসলো আর বউটা জামাইয়ের কোলে মাথা দিয়ে চোখ বন্ধ করে শুয়ে পরল। জামাইটা বউয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছিল।
অনেকক্ষন তাকিয়ে ছিলাম, অসম্ভব ভালো লেগেছিল, স্বীকার করতে লজ্জা নেই চোখের কোণে এক ফোটা জলও জমেছিল।
প্রাচুর্যের মধ্যে ভালবাসা থাকেনা, আজকাল মার্সিডিজ বা বি এম ডাব্লিউ তে পাশাপাশি বসে থাকা দম্পতি, R15 এর পিছনে কোমড় ধরে বসে থাকা প্রেমিক প্রেমিকার মধ্যে মনের দূরত্বটা অনেক বেশি। অনেক সংসার টিকে আছে সামাজিকতায়, পারিপার্শ্বিক চাপে, নিখাদ ভালবাসা জিনিসটা দেখাই যায়না।
ট্রেনের দম্পতীটার কথা আমার প্রায়ই মনে পরে তাদের মুখ দুটো ভুলে গেছি, কিন্তু তাদের ভালবাসাটা সবসময় মন কে নাড়িয়ে যায়।
বেশি প্রাচুর্য চাইনা, একটু ফরমালিন মুক্ত ভালোবাসা চাই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






