somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রাপ্তি,অপ্রাপ্তি,মোচন,দহন

১২ ই মার্চ, ২০১৫ রাত ১০:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


একটা ছেলে আর আর একটা মেয়ে,গুণমুগ্ধ একে অন্যের প্রতি,কিন্তু পুরোপুরি ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের।
মেয়েটি অনেক শান্ত,বোকা বোকা,কিন্তু ছাত্রী হিসাবে অনেক মেধাবী।
ছেলেটিও মেধাবী,কিন্তু পড়াশুনারচে অন্য বিষয়ে তার মেধা-বেশি কাজ করে। চঞ্চল,উচ্ছল,উড়ন্ত দুরন্ত। কিন্তু নিজের প্রতি তো আর মুগ্ধ হওয়া যায় না,তাই
তাদের এই বিপরীতার্থক চরিত্র তাদের একে অন্যের প্রতি প্রবলভাবে আকর্ষণ করে।
একে অন্যকে অনেক respect করে ওরা,বিশ্বের অষ্টম আশ্চর্য খুঁজে পায় একে অন্যের মধ্যে। এটা পরবর্তীতে ভালোবাসায় রূপ নেয়,বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে পারে না একে অন্যকে ছাড়া,কিন্তু অবস্থাটা এমন ছিল যে কোন একটা কারণে তাদের প্রণয়,পরিণয় কিছুই সম্ভব ছিল না। ফলে মনে কষ্টকে পুষে রেখে পুঁজি করতে থাকে তারা।
জানতো যে তাদের একই সূত্রে গাঁথা সম্ভব নয়, তারপরও তারা মনের সর্বোচ্চ,সর্বস্ব দিয়ে একে অন্যকে অনুভব করতে থাকে।
অনেকদিন যায়,একটা পর্যায়ে তারা নিজেদের মধ্যে দেখা,যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়,ভাবে যে out of sight, out of mind theory টা কাজ করবে,কিন্তু তা না করে ওটা ব্যাকফায়ার করে।
অনেকদিন পরে যখন তাদের দেখা হয় একদিন,সেদিন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে না তারা,দুজন দুজনের হাত ধরে কাঁদতে শুরু করে অসহায়ের মত,পরম মমতায় একে অন্যকে আলিঙ্গন করে শরীরের সর্বশক্তি দিয়ে,একে অন্যের ঠোঁটে ভালোবাসার অপ্রাপ্তি মোচন করতে থাকে,পরে তারা চলে যায় দুজন
দুজনার পথে।
দুজনেই প্রতিষ্ঠিত হয় ব্যাক্তিগত জীবনে এরপরে,কিন্তু সব পেয়েও কিছু একটা না পাওয়ার যাতনা তাদের আত্মাকে অতৃপ্ত করে রাখে সবসময়,এখনও দেখা হলে তারা একে অন্যকে আলিঙ্গন করে,একে অন্যের ঠোঁট স্পর্শ করে। হতে পারে এটা নৈতিক,হতে পারে অনৈতিক,কিন্তু ওটা নিয়ে তারা চিন্তা করে না। কারণ একে অন্যকে ভালোবাসে,এই চিন্তা থেকে বের হয়ে অন্যকিছু চিন্তা করার মত স্পেস তাদের খালি নেই, তারা জানে একে অন্যকে তারা পাবে না,কিন্তু সে কষ্টকে মেনে নিয়েই একে অন্যের প্রতি দুর্নিবার আকর্ষণকে পুঁজি করে পথ চলতে থাকে। হয়ত এই পথ একদিন শেষ হবে, হয়ত হবে না। হয়ত এই যাতনার শেষ আছে, হয়ত বা নেই। হয়ত এটি একটি সত্য ঘটনা, হয়ত নয় তবে নিজের একটি বানীই আরেকবার আওড়াব-

কোন অপ্রাপ্তির মোচন হয়না, কোন প্রশ্নের কোন উত্তর হয়না
কোন সম্পর্কের সঙ্গায়ন হয়না, কোন বন্ধন কখনও অস্বীকার তো করা যায় না।

কিন্তু এমনটা হয়নাই, অর্থাৎ বিষাদে এর কবর রচিত হয়নাই।
একদার ক্যাজুয়াল ছেলেটি জীবনে একটিবার সিরিয়াস হয়ে যায়,এতটাই যে সব বাঁধা,প্রাচীর,স্বপ্ন,পরিকল্পনাকে হার মানিয়ে সে মেয়েটির কাছে চলে আসে,স্থায়ীভাবে, হাতদুটো শক্ত করে ধরেছে,আর কখনই একে ফসকাতে দেবে না তারা।
মেয়েটি আজ কাঁদছে,অঝোর ধারায় বয়ে চলেছে তার অশ্রু,নোনাপানিতে ভিজে যাচ্ছে তার গাল,ঠোঁট
কিন্তু আজকের এ কান্নায় তার কোন কষ্ট নেই,আছে সর্বজয়ের সুখ,আজকের কান্না তার থামাতে ইচ্ছা করছে না,মনে করছে এ অশ্রুধারা বর্ষিত হোক হাজার বছর,অনন্ত বছর।

গল্পের শেষ টা এমন নাও হতে পারতো। আমার রিয়েল লাইফের মতো হতে পারতো।
কিন্তু কেন জানি তাদের আলাদা করার সাহস পেলাম না। মিলিয়ে দিলাম তাদের। যে সাহস আমার নেই তা ছেলেটিকে দিয়ে দিলাম। আমার শেষ টা হয়তো এরকম সুমধুর হবে না, কিন্তু আমি গল্পে তা করে দিলাম। চাই না আমি যেই কষ্ট পাচ্ছি তা গল্পের ছেলেটা সেটা পাক।

কেও একজন বলেছিলো আমার গল্পে দুই জন মানুষের নাকি কখনো মিল হয় না। তাই তার জন্যই আজ মিল করিয়ে দিলাম।

ডেডিকেটেড টু দ্যাট ভেরী ভেরী স্পেশাল পার্সোন। :-) <3
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×