ওদের জীর্ণ কুটিরে আলো জ্বলমল করে না;
টেপা খাওয়া কালো হাড়ি চাপানো চুলায়
টগবগ করে ভাতের ফেন উগলে পড়ছে,
কাগজ অথবা খড়কুটো পুড়ানো আগুনে তেজ নেই যেনো!
কুঁড়িয়ে আনা খড়কুটো ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই
শফিকের মা অর্ধসিদ্ধ ভাতের ফেন গালায়ে দেয়।
দুটো আলু সিদ্ধও তো দিতে হবে!
শফিক আর রেবেকা অদূরেই খেলায় মশগুল…
শফিকের রিকশাচালক বাবা কুটিরের থামে হেলান দিয়ে
তালপাতার পাখায় বাতাস করছে;
তৃপ্তির হাসি ছড়ানো মুখে….
একটু পরে পরে হাক ছাড়ছে মজিদ;
বউ রান্না হলো না বুঝি এখনো?
পেরায় হইয়া আইলো শফিকের বাপ;
তোমার বুঝি তর সইছে না গো!
মাজেদার মুখেও প্রসন্ন হাসির রেখা উজ্জ্বলতায় ছেয়ে গেছে;
বউ! ভাত বাইড়া আন; একলগে খাই
শফিক আর রেবেকারে ডাইকা আন..
বউরে! দেশের অবস্থা বেশী ভালা না!
কাইল একলগে খাইতে পারুম কিনা আল্লাহই জানে!!
অলক্ষনে কথা কইও না তো শফিকের বাপ
এইবার ওগো নিয়া খাইতে বহ..
দীর্ঘশ্বাস ফেলে চারজন খেতে বসে…
মোমের আলোয় রিনরিনে হাসি মুখগুলো
আলো আঁধারীতে অদ্ভুত সুন্দর লাগছে;
ওদের ঝাঁলরের ঝলমলে আলো নেই ছড়িয়ে ঘর জুড়ে,
মিটিমিটি আলোয় ওদের হাসিতে ঘর ভরে গেছিলো স্বর্গের আলোয়,
ওরা চাঁদের আলোয়; মোমের আলোয়
মুক্ত বাতাসে অক্সিজেন নেয় হা হুতাশ ছাড়াই…
ওরা সুখি; অল্পতেই ওদের আনন্দ,
ওদের আনন্দ ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ুক
এই প্রত্যাশা কি রাখতে পারি না!
4 December 2013

সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুন, ২০১৫ সকাল ১০:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




