somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কাজী ফাতেমা ছবি
ইসলামের পক্ষে কথা বললেই হালাল লেখক সাহিত্যি উপন্যাসিক এর উপাধি পাওয়া যায়

সুরের পাখির কাছে চিঠি-১ (গানে ভরপুর পোস্ট)

০৯ ই মার্চ, ২০১৭ বিকাল ৪:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সুরের পাখি,
আসসালামুআলাইকুম,
কেমন আছো? আল্লাহর রহমতে ভালই আছো নিশ্চয়। ভাল থাকাই কাম্য।সকাল বিকাল ভালই যাচ্ছে আল্লাহর রহমতে। হয়ত তুমি পাশে আছ বলে হা হা হা। সুরহারা পাখি আমি খুঁজে ফিরেছি সুর যেনো কত যুগ যুগ। বেতাল সুরে জীবন ছিল আমার দুর্বিসহ। জীবন চলার ছন্দ যদি কেটে কেটে যায় তবে তুমিই বল কিভাবে আমি কবিতা সাজাব হু! আচম্বিতে আবিস্কার করলাম তোমার মনের সুর আমার মনে মিশে হাল্কা মিষ্টি টুং টাং অনুরণন বেজেই যাচ্ছে। হরদম বেজে যাচ্ছে গান.....

আমার বেলা যে যায় সাঁঝ-বেলাতে
তোমার সুরে সুরে সুর মেলাতে ।।
একতারাটির একটি তারে
গানের বেদন বইতে নারে,
তোমার সাথে বারে বারে
হার মেনেছি এই খেলাতে
তোমার সুরে সুরে সুরে মেলাতে ।।
এ তার বাঁধা কাছের সুরে,
ঐ বাঁশি যে বাজে দূরে । (রবি)



আচ্ছা তুমি কি গান শুনো- কি গান? বাংলা, ইংলিশ, হিন্দি। আমি সব ধরণের গানই পছন্দ করি। যে গানের সুর মন ছুঁয়ে যায় সেই গানগুলো মন-গীটারে সুর তুলে সকাল সাঁঝে। মন খারাপ বা ভাল দুই অবস্থাতেই গান শুনে মজা পাই। যেমন মন খারাপ থাকলে গান শুনে সাথে গেয়ে উঠি ফাঁটা বাঁশে তখন দুঃসহ ক্ষণের কথা ভুলে যাই। মনে তখন উচ্ছ্বাসের ঢেঊ উঠে উথাল পাতাল। উফ কি যে ভাল লাগা মন চুয়ে চুয়ে গড়িয়ে পড়ে। ভাল লাগে, আমার খুব ভাল লাগে- আমি সব ভুলে যাই, হয়ে যাই দুঃখ স্মৃতিহারা। ইদানিং আরো বেশি শুনছি। গুনগুনিয়ে গাইছিও...

গানের মাঝে ডুবে হই গো-দুঃখ স্মৃতিহারা
উচ্ছ্বাস আমার উপছে পড়ে-সুখের গীতিধারা।

মনের সুখে গেয়ে উঠি-গুনগুনিয়ে গান যে
গানের মাঝে ডুবিয়ে দেই-কষ্টে ভরা প্রাণ যে।

সুরের ঢেউয়ে ভাসি ডুবি-আসে মুগ্ধ প্রহর
সুরের অনুরণে আমার-সুখি মনের শহর!

গানের ভেলা ভাসাই মনে-গানের জলে ভাসি
সুরে সুরে সুর মিলিয়ে-সকল দুঃখ নাশি!

পাখি জানো,যখন একটা গান ভাল লাগে শুনতে সে গান আমি বারে বারে শুনি। তবে আফসোস কোন গানই পুরো মুখস্থ থাকে না :( কেমন লাগে বলতো। গান বাজার সাথে গাইলে তখন দেখি পুরো গানই পারি হা হা হা। স্মৃতিভোলা হ য ব র ল মানুষ আমি যেনো! আচ্ছা আমার তো এখন কোনো গানই ভাল লাগে না, রূপালী যুগের গানই বেশি শুনি অথবা রবি বাবুর গান অথবা নজরুলের গান, ছায়াছবির গান সেই আগেকার গানই ভাল লাগে। সেই সময়কার গান আজো মনে সুরের অনুরণন বেজে যায় এগুলো যেনো আত্মার গান, জি সুর কি কথা আহা... যেমন ধরো-

আকাশের হাতে আছে একরাশ নীল
বাতাসের আছে কিছু গন্ধ
রাত্রির গায়ে জ্বলে জোনাকি
তটিনীর বুকে মৃদু ছন্দ।।
আমার এ দু’হাত শুধু রিক্ত
আমার এ দু’চোখ জলে সিক্ত।
বুক ভরা নীরবতা নিয়ে অকারণ।



আ হা হা হা এই গান শুনলে মন্ত্রমুগ্ধ হতেই হয়। গানের কথাগুলো যতনা সুন্দর তত সুন্দর তার সুর... এ গান শুনলে ভেসে উঠে চোখে নীল আকাশ, জোনাক পোকা, রাত আর দীর্ঘশ্বাস তাই না সায়োনারা? কি জানি তোমার কেমন লাগে! আরেকটা গান মনে পড়ছে-

সন্ধ্যার ছায়া নামে, এলোমেলো হাওয়া
ভালো লাগে জীবনের এই গান গাওয়া।।
একটি দু’টি তারা জ্বলে আকাশের কোলে
ভীরু ভীরু চোখে কোন স্বপ্ন যে দোলে।
সাতরঙা সেই রঙে মন হলে ছাওয়া
এই মন কখনও কি যায় ফিরে পাওয়া।।
আঁধারের শেষে জানি আছে শুধু আলো
অচেনাকে চিনে নিতে তাই লাগে ভালো
সে চেনায় হয় যদি আরো কিছু পাওয়া
এ মনের সাধ্য কি আর পিছু ফিরে যাওয়া।।



কেমন দেখ গানের সাথে জীবন মিলে যায় আহা। মন্ত্রমুগ্ধ হতেই হয়। আবার যখন তোমার কথা মনে হয় তখন এই গানটার কথা মনে হয়-

কি যাদু করিলা পিড়িতি শিখাইলা
থাকিতে পারিনা ঘরেতে প্রাণ সজনী
থাকিতে পারিনা ঘরেতে
কি মন্ত্র পড়িলা ভাবেতে মজাইলা
থাকিতে পারিনা ঘরেতে প্রাণ সজনী
থাকিতে পারিনা ঘরেতে।।
নয়ন জুড়াইলা পরান কাড়িলা।
মরমে বাজাইলা মধুর বাঁশী
পড়ে গো ধলিয়া হাসিয়া হাসিয়া।
তোমারি মুখেতে পূর্ণ শশী
কি কথা কহিয়া পাগল বানাইলা



হা হা হা ভাবতাছ সেনোরিটা পাগল হুগেয়া হাহা হা.. কিন্তু আজ যে শুধু গান আর গান কারণ গত সকাল বিকাল তুমি মুগ্ধতা দিয়ে আমার দিন শুরু করে দিয়েছিলে মনে আছে বলেছিলাম কি! হা হা হা তবে এসব ভেবে ভয় যে পাই না তা নয় তখন এই গানটা মনে আওড়াই... দুঃখের গান -

যদি তুমি ভালোবাসো আমায়
শুধু এ কারণে পালাতে চাই,
তোমার যোগ্য আমি নই
তাই ভয় হয় যদি পেয়েও হারাতে হয়,
পালাতে চাই - তোমার কাছ থেকে আরও দুরে
পালাতে চাই-বাধতে চাই না তোমায় এ সুরে ...
জড়াতে আমায় কেন চাও-হৃদয় টা ভাঙ্গবে বলেই
স্বপ্ন দুচোখে তাকাও,-আগুন হয়ে পোড়াবে বলেই
দৃষ্টির আড়ালে তোমার-শুধু এ কারণেই থেকে যাই
পালাতে চাই-তোমার কাছ থেকে আরও দুরে
পালাতে চাই-বাধতে চাই না তোমায় এ সুরে ...
এতো সুখ সহ্য করার-ক্ষমতা সেতো নেই যে আমার
দু: খ ভয়ে কাটে রাত-ভালোলাগার নেই অধিকার
হিমেল অনলে তোমার- পোড়াতেই নিজেকে না চাই
পালাতে চাই-তোমার কাছ থেকে আরও দুরে
পালাতে চাই - বাধতে চাই না তোমায় এ সুরে
পালাতে চাই।



দারুন না গানটা, না শুনলে শুনতে পারো- এসব গান শুনলে মনে শান্তি আর বেশ ফুরফুরে লাগে। মৌসুমী ভৌমিকের একটা গান আছে এত্ত ভাল লাগে কি আর বলব, কি যেনো গানটা? মনে আছে কি তোমার এই পাখি ! সাগর, নীল, গাংচিল, বালি আহা কত কিছুই আছে। মনটা কবি কবি ভাব লাগে। আহারে যদি কবি হইতে পারতাম তবে একটা ঝুলা ব্যাগ কাঁধে নিয়ে প্রকৃতির সাথে মিশে যেতাম। প্রকৃতিতেই কত ছন্দ আছে মিশে। আল্লাহ আমাদের সুখে থাকার মুগ্ধ থাকার কত কিছুই দেখতে দিয়েছেন আর আমরা পাপী মানুষ কখনো সন্তুষ্ট হই না কিছুতেই, আফসোস বিরাট আফসোস। সে গানটা মনে আসছে শুনো তবে,

আমি শুনেছি সেদিন তুমি সাগরের ঢেউয়ে চেপে
নীলজল দিগন্ত ছুঁয়ে এসেছো
আমি শুনেছি সেদিন তুমি নোনা বালি তীর ধরে
বহু দূর বহু দূর হেটে এসেছ
আমি কখনো যাই নি জলে কখনো ভাসিনি নীলে
কখনো রাখিনি চোখ ডানা মেলা গাংচিলে
আবার যেদিন তুমি সমুদ্র স্নান -এ যাবে
আমাকে ও সাথে নিও নেবে তো আমায় বল
নেবে তো আমায়... :(


আমি সমুদ্র দেখিনি পাখি! তুমি কি সমুদ্রের কাছাকাছি থাকো, নিয়ে যাবে আমায়- কি নিবে তো আমায় - আবার যেদিন তুমি সমুদ্র বিলাসে যাবে- আমাকেও সাথে নিয়ো-নেবেতো আমায়! আশা বিশ্বাস যাই না যাই তুমি সমুদ্র বিলাসে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানাবে কারণ তুমি আমার সায়োনারা। পৃথিবীতে এত এত দুঃখী মন যে কি আর বলব, আমিও দুঃখী মানুষ ছিলাম তুমি পাশে আছ এখন সুখ সুখ হা হা কি মজা এখন আমি এই গান গাই -

সখী, ভাবনা কাহারে বলে ।
সখী, যাতনা কাহারে বলে ।
তোমরা যে বল দিবস-রজনী 'ভালোবাসা' 'ভালোবাসা'-
সখী, ভালোবাসা কারে কয় ।
সে কি কেবলি যাতনাময় ।
সে কি কেবলি চোখের জল? সে কি কেবলি দুখের শ্বাস?
লোকে তবে করে কী সুখেরি তরে এমন দুখের আশ।
আমার চোখে তো সকলি শোভন,
সকলি নবীন, সকলি বিমল,
সুনীল আকাশ, শ্যামল কানন,
বিশদ জোছনা, কুসুম কোমল - সকলি আমারি মতো ।
তারা কেবলি হাসে, কেবলি গায়,
হাসিয়া খেলিয়া মরিতে চায়-
না জানে বেদন, না জানে রোদন, না জানে সাধের যাতনা যত।। (রবি)



অসাধারণ গান শুনলে মন প্রাণ জুড়িয়ে যায় আ হা হা হা হা... আচ্ছা তুমি কি আকাশ দেখো রাতের আকাশ, চাঁদ দেখো তারা দেখো - জোছনা ভালবাস? হুম - আইয়ূব বাচ্চুর গানটা মনে আছে-

এক আকাশ তারা তুই একা গুনিস নে, গুনতে দিস তুই কিছু মোরে।
এক আকাশের তারা তুই একা গুনিস নে
গুনতে দিস তুই কিছু মোরে
ওরে সব ভালো তুই একা বাসিস নে
একটু ভালোবাসতে দিস মোরে
পুরো জোছনা তুই একা পোহাস নে
সঙ্গে নিস তুই মোরে
ওরে সব ভালো তুই একা বাসিস নে
একটু ভালোবাসতে দিস মোরে।।



কেমন লাগে এই গান তোমার। আমার খুবই ভাল লাগে। এই গান শুনলে আমি যেনো আমাকে তোমার পাশে পাই। ধ্যত্তেরি চিঠি বড় হয়ে যাচ্ছে। ভাবছি এই চিঠিটি কয়েক পর্বে দিব। কি জানি তোমার কেমন লাগবে পড়তে। আমি তো লিখেই বেশ মজা পাচ্ছি আর পুরোনো দিনে ফিরে যাচ্ছি। প্লিজ জানিয়ো প্রথম পর্ব ভাল লেগেছে কিনা? তাহলে পরের পর্ব সাজাব। লিখতে সমস্যা নাই কিন্তু সময় আমাকে অবসর দেয় না সে তুমি জান। গানে গানে এই চিঠি লিখে আমি মুগ্ধ আর তোমাকেও মুগ্ধতার মোহে আচ্ছন্ন করতে চাই সে যদি তোমার মন আর আমার মন মিলে যায়। মন মিল্লে মেলা নাইলে একলাই ভালা তাই না?

আজ আসি আর তুমি ব্যস্তই থাক, চিঠিও পড়তে হবে না। ভাল থেকো আল্লাহ হাফেজ- সেনোরিটা।

পুনশ্চঃ ব্যস্ততার শীর্ষ শিখরে আরোহণ করলে শইল খারাপ হবে, একটু নিজের কথা ভাইবা নিয়ো পাখি। সুস্থ থাক, নিরাপদে থাকো দোয়া করি। ফি আমানিল্লাহ।
 
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মার্চ, ২০১৭ বিকাল ৫:১৩
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিএনপি একটি বেঈমান আর গাদ্দারদের দল।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫০

‘বিএনপি ৭৫এর যোদ্ধাদের রক্ষা করেনি, ২৪ এর যোদ্ধাদেরও রক্ষা করবে না।’ ...বাকিটুকু পড়ুন

এলপিজি কার্ডে সংকট কমবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:১৬


অনেক হতাশার মধ্যেও মাঝেমধ্যে সরকারের কোনো ভালো উদ্যোগের খবর দেখলে ভালো লাগে। অন্তত মনে হয়, সাধারণ মানুষের কষ্টের জায়গাগুলো নিয়ে সরকার কিছুটা হলেও ভাবতে শুরু করেছে। তেমনই একটি খবর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্মহনন ও পক্ষপাতিত্ব

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৮


রবীন্দ্রনাথ কি বাংলাদেশের নাগরিক ??!! শুধুমাত্র জাতীয় সংগীতের রচয়িতা এবং বাংলাদেশে কিছু সুশীলদের (ভালো নাপিত) তাকে নিয়ে নানা রকমের কলহ-বিবাদ-বিভক্তি তৈরী ব্যতিত; বাংলাদেশে তার আর অবদান কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩


কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই মন্তব্যের পর ব্লগারগণের পোষ্ঠ ভালো বুঝে আসে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২০



চাঁদগাজী/সোনাগাজী বলতেন অনেক ব্লগার গরুর রচনা এবং অনেক ব্লগার গার্বেজ লেখেন। তাঁর এমন মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরোধী ব্লগার সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে তিনি বার বার ব্যানের শিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×