
©কাজী ফাতেমা ছবি
১।
মন নেই এখানে-ইচ্ছে চলে যাই সব ছেড়ে ছুঁড়ে
ঝিম ধরা শহর, আনন্দের ছিটে ফুটো নেই এখানে
মনের জমিনে চৈত্রের খরা, অথচ অবিরত বৃষ্টি হচ্ছে
চোখের পাড়ে স্যাঁতস্যাঁতে শ্যাওলার বাগান
আতঙ্ক নিয়ে কাটানো প্রহর-বড্ড খামখেয়ালীপনার যেনো।
একফালি মেঘ এসেও আজ ভিজিয়ে দেয় না মন
ছুটে যাচ্ছে ধীরে ধীরে মুগ্ধতা, মন যেন বিষন্ন পাথর।
২।
একটি বর্ষণ মুখর প্রহরে অপেক্ষায় বসে আছি
সারাদিন ঘরে বন্দি-কোথাও যাওয়ার তাড়া নেই
অফিস নেই, বাসা নেই-নেই স্কুলে বাচ্চা পৌঁছানোর তাড়া
চারিদিকে কেউ নেই, কেবল বর্ষা আছে
আর একটা দখিনমূখি জানালা আছে।
ইচ্ছে করে এমন জায়গায় একটি প্রহর বন্দি হয়ে যাই।
জানালার কিনারে একটা পদ্মপুকুর
পুকুরপাড়ে একটা ছাতিম গাছ
খুব ইচ্ছে করে নিস্তব্ধ বসে কেবল বৃষ্টির শব্দ শুনি
বৃষ্টির সাথে সুর মিলিয়ে কাঁদি
চোখের জলগুলো ভাসিয়ে দেই পদ্মপুকুরে
জানালা টপকে যদি ছাতিমের তলায় দাঁড়াই
আমি ভিজে যাবো?
দৃষ্টি তাক করে বৃষ্টির বর্ষণ দেখবো
জলের উপর জল গড়ানোর শব্দ, হুপুস হাপুস ঝুপঝাপ
রিনিঝিনি, যেমন নগ্ন পায়ে রূপার নুপূর বাজনা।
কিছুটা দূরে বাঁশঝাঁড়, সবুজ পাতা চুয়ে বৃষ্টি গড়ায়
সানবাঁধানো সেই পুকুরঘাটে তুমি ভুল করে চলো এসো
পা ডুবিয়ে বসে থেকো খানিকক্ষণ
এবং আমি চলে আসি তোমার পাশ ঘেঁষে
তুমি হাত ধরে নিয়ে যেয়ো জলের অতলে
একটি উদাস দুপুর বেলায়।
বৃষ্টির ছাঁটে তুমি আমি ভিজে যাবো, হাত ধরে রেখো আমার
জলরঙ বসনে -গাঢ় নীল টিপ-ভেজা ঠোঁটে গোলাপী আভা
সাদা চুড়ির রিনিঝিনি হারিয়ে যাক বৃষ্টির ঝুমঝুমানিতে
এমন একটি প্রহর চাইছি এ বেলায়
তুমি কি আসবে-আমায় মুগ্ধতা ঢেলে দিতে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



