somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আগে থেকেই আত্মতুষ্টি ঢুকে পড়েছিল দলে

২৪ শে জুন, ২০১৫ রাত ৮:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মেলবোর্নের বাংলাদেশের বঞ্চনার ম্যাচটা ধোনির স্মৃতিতে না থাকাটার কারণ একটাই , আর তা হলো ঐ ম্যাচটা ভারত অনৈতিক ভাবে জিতেছিল ।
▪বাংলাদেশকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা ভারতীয় দের পুরনো রোগ , আর এই বিষয়টাই আনন্দ বাজার পত্রিকায় তুলে ধরেছেন অশোক মালহোত্রা ।
▪ও হ্যাঁ , আরেকটা রিপোর্টের শিরোনাম " বাংলাওয়াশের গর্জনের সামনে বিপন্ন ব্র্যান্ড ধোনি " - এসব দেখে আনন্দে আমাদের ভেতরের পিশাচটা জেগে ওঠে ।
দুঃখিত এম এস ধোনি আপনার অতীতের কথা হয়তো আপনি ভুলে গেছেন , মোস্তাফিজের বয়সী আপনার ছবিটা আসলেই অনেক সাদামাটা ।
শিরোনামঃ আগে থেকেই আত্মতুষ্টি ঢুকে পড়েছিল দলে
বাংলাদেশে যাওয়ার আগে থেকেই ভারতীয় ক্রিকেট দলে নানা টালবাহানার কথা পড়ছিলাম মিডিয়ায়। কয়েকজন তারকা ক্রিকেটার নাকি এই সফরে যেতেই চায়নি। তারা বোধহয় মনে করেছিল, এ তো বাংলাদেশ সফর। প্রথম সারির দল না গেলেই বা ক্ষতি কী? বাংলাদেশে ভারতের যে দলই যাক না কেন, সিরিজ জিতেই ফিরবে।
তার উপর চলল কোচ নিয়ে নাটক। চিফ কোচ বলে কাউকে নেওয়া হল না। উল্টে বলা হল, এই সফরের কোচের নাকি দরকারই নেই। বাংলাদেশে রওনা হওয়ার আগের দিনই রবি শাস্ত্রীকে তা সদর্পে ঘোষণাও করতে শুনলাম।
বাংলাদেশের প্রতি এই অবহেলার প্রবণতা সিরিজ শুরুর আগে থেকেই ভারতীয় ক্রিকেট দলে দেখা যাচ্ছিল। বিপক্ষকে নেহাত অবহেলা করে একটা সিরিজ খুইয়ে দেশে ফেরার চেয়ে বড় অপরাধ আর কী হতে পারে? কী করে বাংলাদেশের ১৯ বছরের এক আনকোরা পেসারের কাছে একের পর এক আত্মসমর্পণ করে এল আমাদের বড় বড় তারকা ব্যাটসম্যানরা, তা ভেবে অবাক হয়ে যাচ্ছি।
মুস্তাফিজুর ছেলেটা যে প্রচণ্ড আগ্রাসী বোলিং করে, তা কিন্তু নয়। ওর হাতে মারাত্মক কাটার আছে ঠিকই, কিন্তু গতি নিয়ন্ত্রণ করে একেবারে ঠিকঠাক জায়গায় যে বলটা রাখে ও, সেটাও কম বিপজ্জনক নয়। রবিবার ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠল ওর এই বোলিংই। রোহিত, ধোনি, রায়নারা তো ওর এই স্লো বলেই আউট হল। এমন বলে যে ওরা কোনও দিন খেলেনি, তা তো নয়। কিন্তু এই বাঁ হাতি পেসারের বিরুদ্ধে ধোনিদের অস্বস্তি দেখে মনে হচ্ছিল ওর বোলিংটা বুঝতে বেশ অসুবিধা হচ্ছিল ওদের।
কিন্তু এই বলগুলো খেলতে ওদের এত অসুবিধা হল কেন?
এখানেই তো অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের প্রশ্নটা এসে যাচ্ছে। যে জন্য বাংলাদেশকে নিয়ে সম্ভবত ওরা হোমওয়ার্কটা ঠিকমতো করেনি। এমনকী প্রথম ম্যাচে হারের পরও নয়। প্রথম ম্যাচে মুস্তাফিজুরের বোলিং দেখার পরও কী ভাবে সেটা সামলাতে হবে, তা যখন মাঝের দু’দিনে বুঝে উঠতে পারল না ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা, তখন বলতেই হবে কোচের অভাবে ভুগছে গোটা দল। আবার বলছি, দলে শাস্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে মনে প্রশ্ন জাগছে। রবি কি ক্রিকেটারদের টেকনিক্যাল দিকটাও দেখছে, না কি শুধু ওদের মানসিক ভাবে চাঙ্গা রাখাটাই ওর প্রধান কাজ? বাইরে থেকে দেখে তো মনে হচ্ছে যেন ওদের বলে দেওয়ার কেউ নেই, ভুলগুলো কোথায় হচ্ছে এবং কী ভাবে সেগুলো শোধরাতে হবে।
কোহলি আগের দিন বাজে শট খেলতে গিয়ে আউট হয়। এ দিনও যে খুব ভাল বলে আউট হল, তা কিন্তু নয়। ওকে দেখে মনে হচ্ছে আইপিএল মোড থেকে নিজেকে বার করতে পারেনি। দেখছিলাম, শেষ ন’টা ওয়ান ডে ম্যাচে ওর একটাও হাফ সেঞ্চুরি নেই। এ যদি ওর ব্যাড প্যাচই হবে, তা হলে আইপিএলের ঝোড়ো ইনিংসগুলো কী করে খেলল? এ দিনও দেখলাম আউট হয়ে ফেরার পর বিপক্ষের ক্রিকেটারদের সঙ্গে তর্কাতর্কি করছিল। আগের দিন ধোনির সঙ্গে অত বড় ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরও এত অসতর্ক কেন? তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে না পড়ে কোহলি বরং নিজের খেলায় মন দিক। দলের মধ্যে ওকে এই কথাটা বলার কেউ নেই বোধহয়।
ধোনির এ দিন চারে আসার আইডিয়াটা ঠিকই ছিল। কিন্তু স্ট্র্যাটেজিটা খাটতে দিল না বাংলাদেশের বোলাররা। ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের নিয়ে যে ওদের হোমওয়ার্কটা দুর্দান্ত হয়েছে, সেটাই বোঝা গেল ওদের বোলিং ও ফিল্ডিং দেখে। ভারতের প্রত্যেক ব্যাটসম্যানের দুর্বল জায়গাগুলো ওরা চিহ্নিত করেছে। সেখানেই বল করছে এবং ফিল্ডিং সে ভাবেই সাজাচ্ছে। ধোনি যখন ব্যাট করছিল, তখন তো একটা সময় দেখলাম ইনার সার্কলে সাতজন ফিল্ডার। বোঝা গেল, ধোনিকে চাপে রাখার স্ট্র্যাটেজি তৈরি ওদের। জানে, ধোনি প্রথম দিকে স্ট্রাইক রোটেট করে খেলে। ধোনির খুচরো রান নেওয়াটা আটকে ওরা ভারত অধিনায়ককে চাপে ফেলে দিল।
এটাই ভাল হোমওয়ার্কের ফল। আর এই অভাবটাই দেখা গেল ভারতীয়দের মধ্যে।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই আগস্ট, ২০১৬ রাত ৩:০৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার মহাজাগতিক ভাবনাকে এআই আমার সেরা পোষ্ট হিসাবে সাব্যস্ত করেছে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১২



মহাজাগতিক ভাবনা

মহাজগতের প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্য। কারণ প্রথমের পূর্ব অবস্থান শূন্যই হয়ে থাকে।শূন্য অবস্থানে সীমাদাতা না থাকায় তাতে যা হবে তা’ অসীম হবে।সকল অসীম একত্রে মিলে এক হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সালমান মুক্তাদিরের বিরুদ্ধে এ্যাকশান নিয়ে সরকার কি বার্তা দিচ্ছে?

লিখেছেন আফনান আব্দুল্লাহ্, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫

সালমান মুক্তাদির দেখি জঘন্য মানুষ। ওয়াইন, ওম্যান আর ওয়েল্থ – পুরুষ নষ্টের এই তিন ডব্লিউ-ই তার অস্থিমজ্জা ও লিভারে ঢুকেছে



এদিক-ওদিক ব্যাপক আম-লিচু করে বেড়িয়েছে। নিজের স্টুডিওতে আজেবাজে শুটিং করেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৫

বিনয়: মুমিনের এক অনন্য মহৎ গুণ; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একটি বিশ্লেষণ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ভূমিকা

মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য তার বাহ্যিক চেহারা, ধন-সম্পদ বা সামাজিক মর্যাদায় নিহিত নয়। বরং তাঁর চরিত্র,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৪ বর্ষণ মুখর সকাল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৯


আজ মেঘলা আকাশ। আজ ভীষণ বর্ষণ মুখর এক সকাল। অনেকের কাছে এরকম প্রকৃতি এক অপূর্ব দৃশ্য নিয়ে আসে। আবার অনেকের কাছে মেঘলা আকাশের বর্ষণ মুখর সকাল মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে || সহেলিয়া ও সোনারুর কণ্ঠে নতুন ভার্সন

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৩০

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে
যারে হারাইয়াছি মায়ের কোলে
আর কি ফিরা পাবো তারে

মন যে আমার কান্দে সদাই
ফিরা যাইতে সোনার শৈশবে
হায়রে কোথায় আমার ঘুড্ডি নাটাই
খেলার সাথি কই সবে

কে যে আমায় নিত্যি ডাকে
ঘুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×