পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, ‘তিস্তা চুক্তি সই নিয়ে দেড়-দুই বছরে এত হতাশ হয়ে পড়ার কীআছে। চুক্তি সইয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তবে দিনক্ষণ বলাটা সম্ভব নয়। কারণ আমি গণক নই।’
আজ মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। তিন সপ্তাহ জুড়ে তাঁর বিদেশ সফরের বিষয়ে জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সাংবাদিকেরা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বিশেষ করে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সই না হওয়া, আশুগঞ্জ হয়ে ট্রানশিপমেন্টের মাধ্যমে ত্রিপুরায় পণ্যপরিবহনের পরীক্ষামূলক চলাচল, প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্কে উপদেষ্টাদের ভূমিকার যৌক্তিকতা এসব নিয়ে দীপু মনির কাছে জানতে চান।
তিস্তা চুক্তি নিয়ে দেশের মানুষের হতাশা নিয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের কাছে পাল্টাপ্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে দীপু মনি বলেন, ‘দেড়-দুই বছরে এত হতাশ হয়ে পড়ার কী আছে?’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গত ৪০ বছরে এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। আমরাই তো গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি করেছি। এবার সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিস্তা চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনারপর যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। তিস্তা চুক্তি সই না হওয়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং আশাহত হয়েছেন। সে অবস্থায় দেশে আপনারা এত আশাহত হচ্ছেন, আমি তো তারকোনো কারণ দেখছি না!’
এ সময় কবে চুক্তি সই হবে প্রশ্ন করা হলে উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যেটি ভবিষ্যতে হবে, সেটির দিনক্ষণ তো আমি বলতে পারি না। কারণ আমি তো গণক নই।’
ত্রিপুরায় পণ্যপরিবহন বিনামূল্যে নয়: ট্রানশিপমেন্টের আওতায় আশুগঞ্জ নৌবন্দর হয়ে ত্রিপুরায় পণ্যপরিবহনের ক্ষেত্রে মাশুল সার-চার্জ আদায় প্রসঙ্গেজানতে চাইলে দীপু মনি বলেন, ‘প্রচলিত প্রক্রিয়ায় যেসব সার-চার্জ নেওয়ার কথা রয়েছে, তার সবটাই আদায় করে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে পণ্যপরিবহন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।’
পরীক্ষামূলকভাবে চলছে বলে কোনো রকম মাশুল আদায় হচ্ছে না বলে অভিযোগ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি এ বক্তব্য নাকচ করে দেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটি তো ট্রায়াল রান (পরীক্ষামূলক চলাচল)। ট্রানজিটের প্রস্তুতি হিসেবে এটি করা হচ্ছে। রাস্তাঘাট বা বন্দরের কোথায় কীভাবে কী হবে, তা দেখাই এর উদ্দেশ্য। এটির সিদ্ধান্ত তো আগেই নেওয়া হয়।’
ট্রানজিট চুক্তি প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ট্রানজিটের জন্য নতুন চুক্তির প্রয়োজন নেই, ১৯৭২ ও ১৯৮০ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তি এবং পরে তা নবায়নের মাধ্যমে ট্রানজিটের বিষয়টি আছে। এখন শুধু নতুন কিছু আইনি কাঠামোর আওতায় নয়া কয়েকটি প্রটোকল সই করতে হবে। ট্রানজিট মাশুল নির্ধারণের জন্য কোর কমিটি কাজ করছে।’
সমুদ্রসীমার নিষ্পত্তি ২০১৪ সালের মধ্যেই!: দুই প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমার বিরোধের নিষ্পত্তি হবে ২০১৪ সালের এপ্রিলের মধ্যেই। আজ এমনটাই দাবি করলেন দীপু মনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জার্মানির হামবুর্গে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনবিষয়ক ট্রাইব্যুনালে মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধের শুনানি শেষ হয়েছে। আগামী বছরের ১৪ মার্চের মধ্যেই এ শুনানির ফলাফল পাওয়া যেতে পারে। এর আগেও রায় হয়ে যেতে পারে।’ তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধের নিষ্পত্তি সালিস-প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শেষ করতে আগামী বছর শুনানি শুরু হবে। আর ২০১৪ সালের এপ্রিলের মধ্যেই এ শুনানির রায় ঘোষণার কথা রয়েছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




