somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক সময় শুধু বিটিভি ছিল তখন টিভিতে সামন্য আপত্তিকর ড্রেস পড়লেও পরিবারের সবার সামনে দেখতে লজ্জা করতো কিন্তু এখন আমরা স্বপরিবারে অর্ধনগ্ন ছবি দেখতেও লজ্জাবোধ করছি না। এসব কিছুই অভ্যাস।

২০ শে জুন, ২০১৫ বিকাল ৪:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক দিন থেকেই মাথার ভিতর একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে যে, "পোশাক ব্যাবহারের হ্মেত্রে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের কেনো এতোটা অশালীন মনে হয়?

উত্তর খুজতে গিয়ে ছেলে মেয়ে উভয়েরই পোশাক এবং তাদের শারিরীক পার্থক্যগুলোও নিয়ে অনেক চিন্তা করেছি।
আমার ভাবনা থেকে যা বুঝলাম তা হলো ছেলে মেয়ে উভয়েরই লজ্জা আছে কিন্তু লজ্জার ধরনটা সম্পূর্ণ আলাদা। আমি দেখেছি অনেক, ৫বছর নয় একজন ৮বছরের ছেলে সেও সবার সামনে নগ্ন হয়ে ঘুরে বেরাচ্ছে বা সে নদীতে কিংবা পুকুরে নগ্ন অবস্থাই সাতার কাটছে কিন্তু আমি দেখিনাই একজন ৫বছরের কোনো মেয়েকে কখনো সম্পূর্ন নগ্ন অবস্থায় ঘরের বাইরে বের হতে।
৫বছরের একটি মেয়ে এবং ৫বছরের একটি ছেলে, তারা শালীনতা বা নিজেদের ইজ্জত পোশাক দ্বারা রহ্মা করা বলতে কি বুঝে? কিছুই বুঝে না কিন্তু ৫বছরের ছেলে এবং মেয়েদের এই শালীনতাটার পার্থক্যটা তাদের পরিবারই তৈরী করে দিচ্ছে।

গ্যারান্টি দিয়ে আমি বলতে পারি, একটি পরিবার কখনোই চাই না যে তার ৫বছরের কন্যা শিশুটিকে কেউ উলঙ্গ অবস্থাই দেখুক কিন্তু একটি ছেলে শিশুর হ্মেত্রে এটি খুবই সামান্য একটি ব্যাপার এবং এটা নিয়ে পরিবারের মাথা ব্যাথাও তেমন হয় না।
আমি আরো খেয়াল করে দেখেছি একজন সদ্য ভূমিষ্ঠ হোওয়া কন্যা শিশু- তার লজ্জা স্থানটিও মোটামুটি ভাবে ঢেকে রাখা হয় পুরুষদের নজর থেকে কিন্তু একটি ছেলে শিশুর হ্মেত্রে এটি কখোনই করা হয় না।

শুধু তাই নয় ১০বছরের একটি ছেলে যখন খালি শরীরে ঘুরে বেড়ানোর স্বাধীনতা পাচ্ছে ঠিক তখন ১০ বছরের একটি মেয়ের শরীর সর্বদা ঢেকে রাখতে হচ্ছে।

এখন আমরা যদি কেউ বলি ছেলেটি যেমন খালি শরীরে ঘুরে বেরাচ্ছে তেমন মেয়েদেরও খালী শরীরে ঘুরে বেড়ানোর স্বাধীনতা দিতে হবে। তবে এখানে শালীনতা শব্দটি ব্যবহার করা অর্থহীন।
১০বছর নয় ১৩, ১৫, ২০ এমন কোন বয়সের সাথে তুলনা করে কোন মেয়ে কি বলতে পারবে যে ঐ ছেলে শরীর দেখাতে পারলে আমরা মেয়েরা কেনো পারবো না? যদি এই রকম আন্দোলন নারী জাতি করতে পারে তবেই পোশাকের অধিকার নারী পুরুষ উভয়ের হ্মেত্রেই সমান হবে অন্যথাই কখোনই নয়।

উপরের বাস্তবতা বলে দেয় একটা ছেলের চেয়ে একটা মেয়ের পোশাকের শালীনতা কতটা বেশি জরুরী। শারীরিক কাঠামোর জন্য মেয়েদের পোশাকের ব্যবহার সঠিক না হলে তাদেরকে এতোটা অশ্লীল দেখা যাই।

আমি ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে বলছি না কারন ধর্মীয় দৃষ্টিতে পোশাকের ব্যাবহার বা পর্দা আরো কঠিন, হাজার আন্দোলন করলেও যা আমাদের সমাজ কখোনই মেনে চলতে পারবে না আর সম্ভবো নয় কারন আমরা দিন দিন আশ্লীলতা করতে করতে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি।
এক সময় শুধু বিটিভি ছিল তখন টিভিতে সামন্য আপত্তিকর ড্রেস পড়লেও পরিবারের সবার সামনে দেখতে লজ্জা করতো কিন্তু এখন আমরা স্বপরিবারে অর্ধনগ্ন ছবি দেখতেও লজ্জাবোধ করছি না। এসব কিছুই অভ্যাস।

হয়ত এখন আমরা অনেকে মেয়েদের আপত্তিকর পোশাক মেনে নিতে পারি না কিন্তু একটা সময় ঠিকই আমদের অভ্যাস হয়ে যাবে। টেলিভিশনে যেমন দেখেন ঠিক তেমনই হবে- বিকিনি পড়ে মেয়েরা মা, বাবা, দেবরের সামনে বসে থাকবে আর তখন এটাও অভ্যাস হয়ে যাবে।

নিজের সন্তানদের শালীনতা রহ্মার জন্য সবচেয়ে বড় দ্বায়িত্ত্ব হলো তার পরিবারের। পরিবার যদি অশ্লীল হয় তবে সন্তানো অশ্লীলতা করবে, অশ্লীল পোশাক পড়বে। এই সব শালীনতার নামে অশ্লীল অভ্যাসগুলো হয়ত একটা সময় আমাদের সন্তানদেরকে লিভ টু গেদারে নিয়ে যাবে অর্থাৎ বিয়ে ছাড়াই সংসার। আর এমনটার জন্য আমরা পরিবারের সদস্যরাই একমাত্র দায়ী কথাটি খারাপ শোনা গেলেও সত্য ।২০, ২৫ বছর পর মিলিয়ে নিবেন।

এ ব্যাপারে উপদেশ বা যুক্তি দেওয়া অর্থহীন তাই উপদেশ কিংবা যুক্তি আর দিলাম না।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুন, ২০১৫ বিকাল ৪:১২
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চেগা মিয়া

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০



সকাল ৭ টা। আশ্বির্নের মাঝামাঝি।
হাজী শারাফত আলীর ছেলে মন খারাপ করে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন। রাতে তার ভালো ঘুম হয়নি। তার ভাই বোনদের কথা মনে পড়লেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ চোরের উপরে বাটপারি!!!!!

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৭



টুং করে একটা নোটিফিকেশান আসলো।

ফাৎনার নড়াচড়া দেখে বুঝলাম, বড়শিতে একটা 'ব্রাউন ফিস' ধরা পড়েছে। এখন টেনে তোলার আগে খানিকটা খেলতে হবে। মৎস্য শিকারীরা জানে, এই কাজটা খুবই রোমাঞ্চকর... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাওরাত ও যুক্তি দিয়ে কথা বলুন - ইহুদীরা আত্মসমর্পন করবেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:০০

গানঃ 'My Name Is Palestine' - Garth Hewitt
লিংকঃ Click This Link



জ্ঞানী মানুষ যুক্তি পছন্দ করেন। জ্ঞানী মানুষ অজ্ঞানতার বেড়াজাল থেকে নিজেকে বের করে যুক্তির মাপকাঠিতে নিজের জীবনকে সাজায় বলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাময়িক পোস্ট: বিদায়ের আগে

লিখেছেন অর্ক, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১৭



আমি নিজের লেখা ও অনুবাদ করা কিছু বই বের করতে চাই। এক্ষেত্রে কেউ কোনওভাবে সহযোগিতা করতে পারলে জানাবেন। গতকাল একজন নিয়মিত ব্লগারের মন্তব্যে ব্লগ বন্ধ হবার জোর সম্ভাবনার কথা জেনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

×