কৃষ্ণচূড়ার ক্লান্ত শাখায় আমি দাঁড়িয়ে, নীলিমাকে স্পর্শ করব বলে,
সহসা কাল মেঘ এসে আমার দু’হাতটা সরিয়ে দিল-
ও বলে এখানে তোমার প্রবেশ নিষেধ।

কৃষ্ণচূড়ার শাখাগেুলো নুয়ে যাচ্ছে আমার স্পর্শের ভারে-
ওর কোমল পাতাগুলোও শিশির গায়ে জড়িয়ে ন্যূয্য-মান
বাতাসের এপার ওপার দোলে শাখা ও পাতাগুলো শঙ্কিত।
বহুমুখী চাপে বৃক্ষটির শাখা-মালা নিউটনের সূত্রে ধরনীরবুকে
আশ্রয়ের জন্য ব্যাকুল প্রায়।
সহসা বারি বরষণে শিশিরগুলো ভিজে গেলে,
ধুয়ে গেলো শিশিরের ভার,
কৃষ্ণ-পত্রের ন্যূয্য-তার চাপ কমে গেলো।
মেঘমালার অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ হয়ে গেলো-
একরোদ স্বপ্ন নিয়ে সূর্য এলো।
মেঘের আড়ালে সহ-বাসিত আলো
তখন আমার চোখে একরাশ স্বপ্ন মেখে দিল।
অত:পর
অনেক দিনের অদেখা স্বপ্ন সে আজ খরতাপে-
তীব্র যন্ত্রণা দগ্ধ।
ও আজ কৃষ্ণচূড়ার পাতাগুলো ঝরিয়ে দিল,
শিশিরের শরীর থেকে বৃষ্টিগুলো শুকিয়ে দিল,
মেঘের শরীর থেকে সমস্ত জলরাশি শুষে নীল।
আজ কৃষ্ণচূড়ার শাঁখে বসে আছে কৃষ্ণ-কোন নতুন পাখি-
যে পাখি অনেক আগেই বরষনে
তার বাসা হারিয়েছে।
ঝরা পাতাগুলো বাতাসের গন্ধে দিক-বিদিক;
সুখের খোঁজে সেও আজ বিচলিত।
স্পর্শ থামিয়ে দেওয়া মেঘমালা,
সে আজ সমুদ্র তীরে বালিদের সাথে খেলায় মত্ত।
আর আমি?
আর ঝরাপাতার সাথে নেই, শুকনো ডালেও নেই,
নীলিমার খোঁজে-
নতুন কোন শাঁখে-
নীলিমারি দিকে হাত বাড়িয়ে
এক রাশি স্বপ্নের আশে।
আলমগীর কবির
26 August 2015
সমাপ্ত
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে আগস্ট, ২০১৫ সকাল ১১:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



