somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কুরআনের চর্চা মুসলমানের জন্য আল্লাহর দেয়া অধিকার। দুনিয়াকে শান্তিময় করতে হলে কুরআন দরকার।

২৫ শে এপ্রিল, ২০০৭ সকাল ৭:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশে বর্তমানে আমরা চরম শাসন সংকটে ভুগছি। পাক হানাদারদের শোষণ ও জুলুম থেকে বাঁচতে দেশ স্বাধীন করেছি। এর জন্য বিলিয়ে দিতে হয়েছে বহু মা বোনের মূল্যবান সম্পদ, এক সাগর রক্ত ও অসংখ্য ত্যাগ ও কুরবানী। স্বাধীনতার দীর্ঘ ৩৬ বছর পরও সেই তিমিরেই পড়ে আছি। যারাই দেশ শাসন করেছে তারাই ভক্ষকের ভূমিকায় থেকেছে।

বর্তমান বিশ্বে ইসলাম ছাড়া গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, রাজতন্ত্র ইত্যাদি ব্যবস্খা চালু আছে। কিন্তু কোন ব্যবস্খাই মানব জীবনের পরিপূর্ণ দিকের সমাধান দিতে পারে না। যেমন বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশে মানুষের জীবনাচার এক রকম নয়। তারা শুধু রাজনীতির দিকটায় মিল খুঁজে নেয়ার চেষ্টা করে। কৃষ্টি কালচার তমদ্দুন ইত্যাদি ভিন্ন। তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসও ভিন্ন। কারণ এ সকল ব্যবস্খায় ধর্মের কোন যোগসাজশ নেই। তারা মনে করে ধর্ম নিজস্ব ব্যাপার। রাজনীতি বা রাষ্ট্র পরিচালনার সাথে একে টেনে আনা ঠিক হবে না। ধর্মকে গীর্জা, মন্দির বা পেগোডায় বন্দী করে রাষ্ট্রের নাগরিকদের অবাধে ছেড়ে দিয়েছে। তারা সুযোগ পেয়ে অবাধ সুবিধা ভোগ করছে। অপবিত্রতা বা অশ্লীলতার সংজ্ঞা পাল্টিয়ে ফেলেছে। পশু-পাখির মত মানব জাতিকে যৌনাচার সম্পন্ন জীবে পরিণত করেছে। অবাধ সুযোগ ভোগের পরিণতিতে এইড্স-এর মত মারাত্মক ব্যাধির বীজ বহন করছে মানুষ নামের জন্তগুলো।

রাষ্ট্র প্রধানকে জবাবদিহি করতে হয় দেশবাসীর কাছে। আল্লাহর কাছেও জবাবদিহিতার দায়ে আবদ্ধ। নিজের গায়ের জামার ব্যাপারে জনতার প্রশ্নের জবাব দিয়ে দিয়ে খলিফা হযরত ওমর ফারুক (রা:)কে নামাজের ইমামতি করতে হয়েছে। আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার ভয়ে রাতের আঁধারে জনপদে গিয়ে অধীনস্খদের ব্যাপারে খোঁজ খবর নিতে দেখা গেছে। তাঁর উদাত্ত ঘোষণা ছিল ‘সুদূর ফুরাতের তীরেও যদি একটি কুকুর না খেয়ে থাকে তবে আমি ওমরকে তার জন্য জবাবদিহি করতে হবে।' এ দায়িত্বের অনুভূতিই তাঁকে রাতের আঁধারে নিজ কাঁধে আটার বোঝা বহন করে অভুক্তের ঘরে পৌঁছিয়ে দিতে প্রলুব্ধ করেছে। রাসূল (সা:) নবী হিসেবে কুরআনের আইন বিধান অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করে অশান্তি ও জুলুমের অকারে ডুবে যাওয়া জনপদকে শান্তির কুঞ্জে পরিণত করেছিলেন। অকার নূরে আলোকিত হয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মত জ্বল জ্বল করছিল। মানুষের ইজ্জত, আব্রু ও সম্পদের সুরক্ষার দায়িত্ব ছিল দেশের শাসকদের হাতে। নিকৃষ্ট চরিত্র ইসলামের ছোঁয়ায় উৎকৃষ্ট রূপ নিয়েছিল। ইনসাফ প্রতিষ্ঠা ও সুশাসনের মডেল হয়ে থাকবে কিয়ামত পর্যন্ত। রাসূল (রা:) নবী হিসেবেই কুরআনের আইন প্রয়োগ করে শান্তিময় দেশ গড়েছিলেন। সে কুরআন আজও আছে। আমরা নেকীর আশায় তেলাওয়াত করি। কুরআন শুধু তেলাওয়াতের জন্য নয়। কুরআন জীবন ও সমাজ গড়ার গাইডলাইন। যাবতীয় সমস্যার সমাধান এবং শান্তিময় জনপথ গড়ার জন্য পবিত্র কুরআন এবং সুন্নাহর উৎসকে উম্মতের উপর বিদায় হজ্বের ভাষণে রাসূল (সা:) দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছেন। কুরআন-সুন্নাহকে যদি দেশ পরিচালনার উৎস হিসেবে গ্রহণ করা না হয় তবে রাসূল (সা:) বলেছেন তিনি উম্মত হিসেবে স্বীকার করবেন না। অবস্খা যদি এমনটিই হয় তবে পরকালের করুণ পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে দেশ পরিচালনা করা রাজনীতি নয়। প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরয দায়িত্ব এবং ইবাদত। রাসূলের (সা:) নিয়মে যেমন নামাজ রোযা পালন করি তেমনই রাসূলের (সা:) নিয়মে রাজনীতি করতে হবে, দেশে আইন-শৃকôখলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নইলে রাসূল (সা:) উম্মত হিসেবে স্বীকার করবেন না। আল্লাহর আইন বিধান অনুযায়ী সমাজ পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়েই আমরা দুনিয়ায় এসেছি। এটাই খেলাফতের দায়িত্ব।
৫৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×