somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পবিত্র কুরআনে এরশাদ হচ্ছে- “কুল হুয়াল্লাহু আহাদ” অর্থাৎ- বল হে, নবী আল্লাহ অদ্বিতীয়। এই তাওহীদ বা অদ্বিতীয়বাদের বিপরীত কথা ও কাজ হচ্ছে শিরক বা অংশীদারিত্ব।

২৫ শে এপ্রিল, ২০০৭ রাত ৮:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তাওহীদ মানে অদ্বিতীয়বাদ আবার অনেকে একাত্মবাদও বলে থাকেন। কিন্তু একাত্মবাদ সংজ্ঞাটি ত্রুটিপূর্ণ। কারণ, আরবীতে আহাদ মানে অদ্বিতীয় যার পর আর সংখ্যা নেই আর ওয়াহিদ মানে এক যার পর দুই, তিন, চার ইত্যাদি সংখ্যা আছে। পবিত্র কুরআনে এরশাদ হচ্ছে- “কুল হুয়াল্লাহু আহাদ” অর্থাৎ- বল হে, নবী আল্লাহ অদ্বিতীয়। এই তাওহীদ বা অদ্বিতীয়বাদের বিপরীত কথা ও কাজ হচ্ছে শিরক বা অংশীদারিত্ব। কারণ, শিরক শব্দটির অর্থই হলো শরীক করা। যারা আল্লাহকে মানেনা তারা কাফের আর মুশরিকরা আল্লাহকে মানে তবে আল্লাহর সাথে আরো অনেক কিছুকে শরীক করে দেয়। মূলত শিরকমুক্ত ঈমানই হলো তাওহীদ। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন প্রাচীন কাল থেকেই মানুষ বহুশ্বরবাদে বিশ্বাসী ছিল বলেই আল্লাহপাক যত নবী রাসূল দুনিয়াতে প্রেরণ করেছেন সকলেই দাওয়াত ইলাল্লা'র কাজ করেছেন। সকলের দাওয়াতের ভাষা ও দাবীই এক ও অভিন্ন ছিল। আর তা হলো- হে জাতি তোমরা এক আল্লাহর দাসত্ব কর আর আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে তোমাদের ইলাহ (সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী) বা মাবুদ অর্থাৎ মুনিব হিসেবে গ্রহণ করো না। অর্থাৎ সকলেই শিরকের বিপরীতে তাওহীদের প্রতি আহ্বান করেছেন। আমাদের নবী বিশ্বনবী, আখেরী নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা:) ও দাওয়াতের এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছিলেন। যা আজো অব্যাহত আছে।
আল্লাহর ক্ষমতায় অন্য কোন সত্তা বা বস্তুকে অংশীদার করা। আল্লাহর আইনের মোকাবেলায় মৌলিক আইন বা বিধি বিধান রচনার ক্ষমতা মানুষের আছে এমন বিশ্বাস রাখা শিরক। কারণ, মৌলিক আইন রচনার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ।

মানুষ যখন বিভিন্নভাবে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো দাসত্ব করে তখন সে তাকে হেয় করে। আর যারা মানুষ হয়ে মানুষের ওপর প্রভুত্ব খাটাতে চায় তারা হয় তাগুত আর ঈমানের পরীক্ষাও আসে তাগুতের মাধ্যমে। আল্লাহ কাউকেই বিনা পরীক্ষায় ছাড়বেন না বলে পবিত্র কুরআনে বলেছেন।
কালিমার দাওয়াত : আমরা যারা নিজেদের মুমিন মুসলমান বলে পরিচয় দেই আমরা একটি কালিমা পড়ে ঈমান গ্রহণ করে মুসলমান হই। কিন্তু আমরা জানি কি এই কালিমার দাওয়াত বা আহ্বান কি? “আমরা অনেকেই শুধু মুখে কালিমা পড়ে নিলেই নিজেকে পাক্কা মুসলমান আর ঈমানদার বলে দাবি করে বসি অথচ এই কালিমার মর্ম বা দাবি তথা এর আসল উদ্দেশ্য কি সেটা বুঝিনা বা বুঝার চেষ্টাও করি না। অথচ কালিমার এই বিপ্লবী তথা মুক্তির আহ্বান হলো এই যে “আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, হযরত মুহাম্মদ (সা:) আল্লাহর রাসূল” বা প্রেরিত পুরুষ। কালিমার মধ্যে যে ‘ইলাহ' শব্দটি রয়েছে, এর অর্থ হচ্ছে মালিক, সৃষ্টিকর্তা, মানুষের জন্য বিধান রচনাকারী, মানুষের দোয়া যিনি শোনেন এবং গ্রহণ করেন, আর তাই তিনিই উপাসনা পাবার একমাত্র উপযুক্ত মাবুদ। এখন ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' পড়লে তার অর্থ এই হবে যে, আমি প্রথম স্বীকার করলাম এ দুনিয়া আল্লাহ ছাড়া সৃষ্টি হয়নি এর সৃষ্টিকর্তা নিশ্চয়ই বর্তমান আছেন, আর সেই সৃষ্টিকর্তা বহু নয়, মাত্র একজন। তিনি ছাড়া আর কারো খোদায়ী বা প্রভুত্ব কোথাও নেই। দ্বিতীয়ত ‘কালিমা' পড়ে আমি স্বীকার করলাম যে, সেই এক আল্লাহ-ই মানুষের ও সারে জাহানের মালিক। আপনি ও আপনার, আমি ও আমার প্রত্যেকটি জিনিস এবং দুনিয়ার প্রত্যেকটি বস্তুই তার। সৃষ্টিকর্তা তিনি, রেযেকদাতা তিনি, জীবন ও মৃত্যু তাঁরই হুকুম মত হয়ে থাকে। সুখ ও বিপদ তাঁরই তরফ হতে আসে। মানুষ যা কিছু পায়, তাঁরই কাছ হতে পায়, সকল কিছুর দাতা প্রকৃতপক্ষে তিনি। আর মানুষ যা হারায়, তা প্রকৃতপক্ষে তিনিই কেড়ে নেন। শুধু তাঁকেই ভয় করা উচিত, শুধু তাঁরই কাছে প্রার্থনা করা উচিত, তাঁরই সামনে মাথা নত করা উচিত। কেবল মাত্র তাঁরই ইবাদত ও বন্দেগী করা কর্তব্য। তিনি ছাড়া আমাদের মনিব, মালিক ও আইন রচনাকারী আর কেউ নেই। একমাত্র তারই হুকুম মেনে চলা এবং কেবল তারই আইন অনুসারে কাজ করা আমাদের আসল ও একমাত্র কর্তব্য।
যখন বলি মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ তখন এর দ্বারা আমরা এ কথাই স্বীকার করি যে, যে আইন এবং যে নিয়ম হযরত মুহাম্মদ (সা:) বলেছেন, আমরা তা অনসুরণ করে চলব। আর যে আইন এর বিপরীত হবে তার অনুসরণ করবো না।
৮০টি মন্তব্য ০টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×