ভারত আমাদের প্রতিবেশী। অভিন্ন সুরে লড়াই করে আমরা ব্রিটিশ তাড়িয়েছি। নিজস্ব পাড়া ও গ্রামে, স্কুলে, হাটেঘাটে কখনো সম্প্রদায়গত বিদ্বেষ লক্ষ করিনি।ভারত আমাদের দেশের অস্তিত্ব মানতে চায় না.কারণ ভারতীয় আচরণ, রণকৌশল, রাজনীতিবিদদের ভূমিকা, সীমান্তনীতি, পানি নিয়ে বাহানা, সার্কে শীতল ভূমিকা পালনসহ বিগত ৩৫ বছরে আমরা দেখে এবং ঠেকে শিখেছি.আমাদের ভূখণ্ডের এক-দশমাংশ বৃহত্তম পার্বত্য জেলা নিয়ে ষড়যন্ত্র যখন পোক্ত হলো তখন সন্তু লারমা ভারতে গেল। প্রশিক্ষিত হলো। স্বাধীনতা দাবি করল। সেটি কোন মোহন বাঁশির টানে হয়েছিল সেটা আমরা জানি। এ লেখা যখন মুসাবিদা করছি তখন বেনাপোল সীমান্তে বিএসএফ গুলি ছুড়েছে। সাতক্ষীরার ৩ গরু ব্যবসায়ীকে জখম করার খবর পাচ্ছি। জীবননগর সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে বাংলাদেশী কৃষক নিহত হয়েছে। এসব আলামত কিসের সেটা বোঝার মতো অবস্খা বাংলাদেশের হয়েছে.
ভারতীয় মুসলমানরা তারা বাঙালি মুসলমানদের উথান কামনা করছিল কিন্তু ভারতের নীলনকশা অনুযায়ী ‘পাকিস্তান ভাঙার’ পক্ষে আমরা ব্যবহৃত হই তা কামনা করছিল না। আসুন, পৃথিবীকে অবাক করা সত্যের দ্বার উন্মোচন করে বলে দিই, আমরাই আমাদের ইতিহাস গড়েছি। করুণা, দয়া ও অনুকম্পা আমাদের কোনোকালে প্রয়োজন ছিল না, আজো নেই। সব সময় বìধুত্বকে আমরা সমীহ করি, কিন্তু কোনো প্রভুত্ব মানি না। সর্বত্র আমাদের বìধু আছে কিন্তু আল্লাহ ছাড়া কোথাও কোন প্রভু নেই। আমরা ‘চির উন্নত মমশির।’ আমাদের বর্তমান নীতিনির্ধারকদের সব কথায় সায় দিতে মন চায় না। কারণ ওপরের উদ্ধৃতি। এখন দুর্নীতি আবার এক নাম্বার এজেন্ডা। স্খপতি বিতর্ক।
শৌখিন দেশপ্রেমিকরা যারা যুদ্ধ করার জন্য নয়; বরং প্রাণ বাঁচানোর জন্যই ভারতে গিয়েছিল তারা আজ সমাজের উচ্চ স্খানে অধিষ্ঠিত। মানুষকে প্রতারণা করার ক্ষমতা ওদের অনেক। অভিনয় নিখুঁত। ব্যক্তি স্বার্থসিদ্ধির জন্য জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিতে ওরা কুণ্ঠাবোধ করে না। বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে, মহারথীরা আজো কোনো এক অজ্ঞাত কারণে অদৃশ্য প্রভুদের অঙ্গুলি নির্দেশে চলতে বাধ্য। এই ঘটনাগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। জাতির জীবনে বিপর্যয়ের মূলে অনেকাংশে আছে এই লোভী মানুষগুলোর অপরিণামদর্শী কার্যকলাপ। সে পাপের প্রায়শ্চিত্ত আমরা করছি। জানি না আর কত দিন করতে হবে।
স্বাধীনতার পর কী হলো? এক সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা চলল বাংলার অর্থনীতিকে ধ্বংস করার। উৎপাদন কমে গেল, বেড়ে গেল শ্রমিক অসন্তোষ। অন্তর্ঘাতমূলক কার্যকলাপ বেড়ে গেল। বেড়ে গেল গুপ্তহত্যা। কলকারখানা ধ্বংস হলো। কোনো অদৃশ্য অশুভ শক্তি যেন বাংলার মানুষকে নিয়ে রক্তের হোলিখেলায় নেচে উঠল। ইতিহাসের জঘন্যতম অপরাধে লিপ্ত হলো অনেকে। সেসব শৌখিন দেশপ্রেমিক সবাই মিলে ছারখার করেছিল বাংলার মানুষের স্বপ্নসাধ। চোরাকারবারের লাইন ওরা আগেই করে রেখেছিল। পুরো দেশ ছেয়ে গেল অবৈধ ব্যবসায়। প্রত্যক্ষভাবে জড়িত হলো জাঁদরেল সরকারি কর্মচারী, ব্যবসায়ী আর কিছু রাজনৈতিক কর্মী। শক্তিশালী মহলের সমর্থনপুষ্ট না হলে এত বিরাট আকারে অবৈধ ব্যবসা সম্ভব নয়। তাহলে কি এ কথা বলা যায় না, কোনো প্রভাবশালী মহলের প্রচেষ্টায় ধ্বংস হয়েছে এ দেশের অর্থনীতি?
মুক্তিযোদ্ধারা মর্মপীড়া নিয়ে বারবার স্মরণ করবেন ইতিহাসের সে দিনের ঘটনাপ্রবাহ
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ফিরে ফিরে আসো

সময়ের সাথে সাথে নিজেকে বদলে নিতে হয়,
তোমার শরীর জুড়ে যখন
অভিজ্ঞতার গল্প পাঠের আসর,
তখনও ছেলে ভোলানো ছড়ায়
নিজেকে ভোলালে চলে?
আঁজলা ভরে সময়ের যন্ত্রণাকে পান কর,
পান কর সত্যকে।
পান কর... ...বাকিটুকু পড়ুন
“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।
দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।
ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন
গল্পঃ জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী

আমাদের সেই পুরনো ভিটেটার অস্তিত্ব এখন আর নেই। তবে বুকের গহীনে ভিটেমাটির মায়াটুকু ঠিক আগের মতোই রয়ে গেছে। কত স্মৃতি, কত গান, কত গল্প-কোলাহল, মান- অভিমান ! চাইলেই... ...বাকিটুকু পড়ুন
মারণঘাতক অটো রিক্সা

মারণঘাতক অটো রিক্সা এই ভিডিউটি দেখুন। এটি রাজধানী ঢাকা সহ সমগ্র দেশের প্রতিদিনের চিত্র। কি পরিমাণ মানুষ হত্যার সাথে জড়িত এই মারণঘাতক নামক অটো রিক্সা তার সঠিক পরিসংখ্যান জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।