আজ ৭ম- ৮ম শ্রেণীর কয়েকজন ভালো ছাত্রকে জিজ্ঞেস করলাম তার ক্লাসের পাঠ্যবইয়ের যে কোন একটি কবিতার কয়েক লাইন বলতে। একজনও পারলোনা। তারা জবাব দিলো - এখনতো কবিতা মুখস্থ করার দিন শেষ। এখন সৃজনশীল পদ্ধতি। কবিতার অর্থ বুঝে উত্তর দিলেই হয়। সৃজনশীল পূর্ব প্রজন্মের যারা তারা অবশ্যই গর্বের সাথে বলতে পারেন যে তখনকার কোন থার্ড ক্লাস ছাত্রকে জিজ্ঞেস করলেও সে কয়েকটি কবিতা মুখস্ত বলতে পারবে। কিন্তু বর্তমান সৃজনশীল প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা তাহলে কি কবিতার মর্মে প্রবেশ করবে না? কবিতা শুনবে না? কবিতা চর্চা করবে না? কবিতা মুখস্থ বলতে পারবে না?
বহুদিন আগে আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ বলে গেছেন-
যে কবিতা শুনতে জানেনা
সে দিগন্তের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে
যে কবিতা শুনতে জানেনা
সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে।
এখনকার ছেলেমেয়েরা প্রয়োজন পড়ছেনা ( জিপিএ ফাইভ পাওয়ার জন্য) বলে কবিতা মুখস্ত করছে না। এভাবে কি তাদের সাহিত্যের রস থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে না? একজন মানুষ ভালো মানুষ, সভ্য মানুষ হয়ে ওঠার জন্য সাহিত্য আবশ্যিক উপাদান। শুধু জিপিএ ফাইভ পাওয়ানোই কি শিক্ষা ব্যবস্থার লক্ষ্য?
আমি সৃজনশীল ব্যবস্থার বিপক্ষে নই। বরং কথা হচ্ছে যা মনে রাখা আবশ্যিক, তা তো মুখস্থ করতেই হবে। সাহিত্যের রস, প্রাণসঞ্জীবনী উপাদানগুলো মনে রাখার চেষ্টা না থাকলে একটা সময় বক্তাদের বক্তব্য হয়ে যাবে যান্ত্রিক প্রযোজনা। সেখানে শব্দগুলো কলকারখানার বিয়ারিংএর মত কোলাহল তৈরী করবে, বক্তব্য না হয়ে সেটা হবে নির্ঘাত শব্দ দূষণ। লেখালেখি বা সাহিত্য চর্চার কী হবে সেটা কি ভাবা যায়?
অনেকে বলতে পারেন কবিতা মুখস্থ করাটা বাচ্চাদের জন্য ব্রেইনের জন্য কষ্টকর হয়ে যায়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে বাচ্চাদের ব্রেইনের উপর গেমস, অ্যাপস আর হরর ফিল্মের যে প্রেশার চলছে তাতে তার মানসিক রোগ হওয়ার উপক্রম। বাচ্চা কবিতা বলতে না পারলেও কার্টুন চরিত্রের বা মুভির দীর্ঘ সংলাপ ইংরেজী, হিন্দি যে ভাষায়ই হোক অনর্গল বলে দিচ্ছে। বড় বড় হিন্দি গান মুখস্থ আওড়াচ্ছে। সুতরাং কোনটা আপনি মুখস্থ করতে দিবেন সেটা আপনাকেই নির্ধারণ করতে হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


