somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ধমনী
ধমনীর মাধ্যমে হৃৎপিন্ড থেকে বিশুদ্ধ ( অক্সিজেনসমৃদ্ধ) রক্ত সারা দেহে প্রবাহিত হয়।

কারা হচ্ছে আপনার টিনএজার সন্তান/ ভাই-বোনের অভিভাবক? উদ্বিগ্ন নয়, সচেতন হোন

১৮ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৯:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


টিন এজ বা বয়সন্ধির বয়সটা খুবই বিপর্যয়ের। নিজেকে জানা, জীবনকে জানা, পারিপার্শ্বিক সম্পর্ক ও সমাজকে জানার উৎসুক্য কাজ করে এ বয়সটায়। না বড়, না ছোট। না আদর, না সম্মান। না দায়িত্বশীলতা, না দায়িত্বহীনতা। এমন এক অদ্ভূত বোঝাপড়া চলতে থাকে নিজের সাথে, সময়ের সাথে এবং সমাজের সাথে। এদিক সেদিক ধাক্কা খেয়ে খেয়ে একটা সময় এ বিব্রতকর বয়সটি পেরিয়ে যায়। এ সময়টায় মন চায় খানিকটা সান্তনা, একটু আশ্রয়, একটু আশার বাণী, একটু কোমলতার পরশ। সে চায় কেউ একজন তাকে ছায়া প্রদান করুক। সামান্য একটু কোমল স্নেহের হাত যদি কেউ বাড়িয়ে দেয় এ বয়সটায়, আবেগের মন বিগলিত হয়। তাকেই পরম বন্ধু মনে হয়। তার প্রেক্ষাপট, অবস্থা, অবস্থান যাচাই করার কোন যুক্তি তখন কাজ করে না। বাস্তবতা হলো এ বয়সে এমন আশ্রয় বা কোমলতা প্রদান করার মানসিকতা বেশিরভাগ পরিবারেই থাকেনা। একটা সময় যারা এই বিব্রতকর টিনএজ বয়স অতিক্রম করেছেন তারাও সহজে ভুলে যান তাদের সে বয়সের অসহায়ত্বের কথা। বাবা মা কিংবা বড় ভাই-বোনও নিরাপদ নিশ্চিত আশ্রয় হয়ে পাশে দাড়াতে চান না, কিংবা পারেন না। টিনএজে প্রজন্ম যুগের ধারাবাহিকতায় অসহায়ত্ব বয়ে বেড়ায় প্রতি প্রজন্মে।
কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখবেন কেউ না কেউ এ অসহায়ত্বের সময় আশ্রয় হয়ে দাড়াচ্ছে। তারা সেই টিনএজ বয়সীকে কোমল কথা বলে, সান্তনা দেয়, একাকীত্বের সঙ্গী হয়। তারা পরম অভিভাবকে পরিণত হয় তখন। টিনএজ ছেলেটি বা মেয়েটি তখন তাকে আইডল মানতে থাকে। তার মত হওয়ার চেষ্টা করে।


বর্তমান সময়ে আধুনিক ছেলেমেয়ের এই অভিভাবকের জায়গাটি অবচেতনে গ্রহণ করছে এফ এম রেডিওর আরজেবৃন্দ। এখনকার টিনএজার রা সারাদিন-প্রায় সারারাত এফএম রেডিও শুনছে। পছন্দনীয় আরজে ভাইয়া বা আপুর কাছে ভুড়ি ভুড়ি এসএমএস করছে, ফোন করছে। তাদের সমস্যা, অনুভূতি, অভিজ্ঞতা শেয়ার করছে। শেয়ার করা ভালো জিনিস। কিন্তু বিষয় হচ্ছে যাদের সাথে শেয়ার করা হচ্ছে বা যারা আন্তরিক(!) পরামর্শ দিচ্ছেন তারা নিজেরাই ঠিক পথে আছেন তো!
এই ব্লগেই একদিন পড়েছিলাম। ব্লগার তার এফএম রেডিওর শো শোনার অভিজ্ঞতা লিখেছেন যে রাতের শোতে এক আরজে আপুকে এক মেয়ে প্রশ্ন করেছে আপু আমি কি আমার বয়ফ্রেন্ডের সাথে সেক্স করতে পারি? মহান আরজে আপু নাকি উত্তর দিয়েছিলেন- অবশ্যই পারো। তবে প্রটেকশন ব্যবহার করতে হবে। একটু ভাবুন। প্রশ্নকারী মেয়েটি আপনার বা আমার বোন/মেয়ে হতে পারে। আবেগধর্মীতার বয়সে তার এ ধরণের চিন্তাকে বাঁধ ভেঙে দাও স্লোগান দিয়ে বিপথে নিয়ে যাচ্ছে যারা সে বিষয়ে আপনি কী দায়িত্ব পালন করছেন?
আগে একটা সময় পাড়ার ছেলে মেয়েদের সাথে মিশলে আপনি সহজেই বন্ধুবান্ধব চিহ্ণিত করতে পারতেন। কিন্তু এখন সে কোন আরজের শো শুনছে, কী শুনছে সেটা কি পাহাড়া দিতে পারবেন? অবশ্য সব শো বা সব আরজে যে খারাপ তা সঠিক নয়। কিন্তু কোন আরজের শো আপনার প্রিয় সন্তান/ ভাইবোন শুনছে, মন দিয়ে তার কথা গিলছে, তার কথাকেই অবশ্য পালনীয়, জীবনে প্রয়োজনীয় ভাবছে তা কি নিশ্চিত করতে পারছেন?
সেজন্য উদ্বিগ্নতা নয়। প্রয়োজন সচেতনতা। এখনকার বাবা মা, বড় ভাইবোনদের উচিত টিনএজারদের সাথে আরো সহজভাবে মেশা। তাদের একাকীত্ব অনুভব করার পরিস্থিতি তৈরী হতে না দেয়া। তাদের সমস্যা সম্ভাবনাগুলো আরো বিস্তারিত শেয়ার করা। ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড হয়ে এখন দূরবর্তী বায়বীয় সম্পর্ক ঘনিষ্ট হচ্ছে। কিন্তু ঘরের আপন লোকজনের সাথে দূরত্ব বাড়ছে। এ দূরত্ব মোচনের জন্য আমাদেরকেই উদ্যোগী হতে হবে। আন্তরিক পরিবেশ ফিরিয়ে এনে পরিবারকে টিনএজারদের পরম স্নেহের আশ্রয়ে পরিণত করতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৯:২৯
৬টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাঞ্জাবিস্তান

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৪০

পাকিস্তা/নের পাঞ্জাবিরা হলো পাকি/স্তানের বাকি সব জাতিসত্তার মানুষদের জন্য অভিশাপ। এদের জাত্যভিমানের কারনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগন স্বাধীনতার ডাক দিতে বাধ্য হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের প্রদেশগুলো যেরকম অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?
যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, যে বাংলাদেশ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয়েছে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু... ...বাকিটুকু পড়ুন

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×