somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প: "অবেলায় বৃষ্টি"

০১ লা নভেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আজকেও ছাতা নিয়ে আসেননি! এভাবে বাসস্ট্যান্ডএ কতক্ষন দাঁড়িয়ে থাকবেন? বৃষ্টি তো আস্তে আস্তে বাড়ছে।

আসলে ছাতা নিয়ে এসেছিলাম, কিন্তু অফিস থেকে নিয়ে আসতে ভুলে গেছি! কি করবো বলেন, একটা ব্রেইন কত কিছু মনে রাখতে পারে!?

মনে রাখতে না পারলে আক্কেল সেলামিও দিতে হয়। হা হা...

মেয়েটার হাসিটা খুব সুন্দর! যেন বিশ্ব সুন্দর হাসির প্রতিযোগিতা হলে সে নিশ্চিত প্রথম হবে, একদম নিশ্চিত।

সমস্যা খুব একটা হবে না বোধহয়!!

কেন??

আপনার ছাতা আছে না।

একদিন ছাতা শেয়ার করেছি, তাই বলে প্রতিদিন তো আর শেয়ার করতে পারি না। একটু মুচকি হেসে বললো।

কেন? কোনো নিয়ম আছে যে একদিন বিপদ থেকে উদ্ধার করলে আর করা যাবে না!

কি জানি, থাকতেও পারে! তবে মন ভোলা মানুষদের একটু আক্কেল গুরুম হওয়ার দরকার।

তা ভালো বলেছেন, তবে বাস এসে পড়লে আর চিন্তা নেই।

এখান থেকে কি সোজা বাসায় চলে যাবেন, নাকি অন্য কোথাও যাওয়ার প্ল্যান আছে?!

উত্তরা একটা ক্যাফেতে যাবো বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা মারবো, পরে রাত দশটার দিকে বাসায় চলে যাব। ব্যাচেলর মানুষ বাসায় দ্রুত ফেরার তাড়া নেই।
আর আপনি..?
.

সেদিনও, এরকম ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হচ্ছিলো অবিরত। শাহবাগ বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করছি; বাসের জন্য।
এদিকে বৃষ্টি বাড়ছে, রাস্তা আরও জলাবদ্ধ হচ্ছে, জ্যামও প্রকট হয়ে উঠছে!! আর আমি অসহায়ের মত বৃষ্টিতে ভিজছি। অসহায় না বীরের মত, ছাতা না থাকলে কি আর করার! যাই হোক, বৃষ্টিতে ডরে না বীর..
ঠিক সেই মুহূর্তে খুব সুন্দর, একটা মেয়ে ছাতা উঁচিয়ে বাসস্ট্যান্ডে এসে দাড়ালো! ইদানিং দেখা মাত্রই সব মেয়েকেই সুন্দরী লাগে। আমি দেখেও না দেখার ভান করে দাঁড়িয়ে রইলাম।

মেয়েটা খুব বিরক্তি নিয়ে বললো, উফ্ফ অসহ্য বৃষ্টি, তার উপর রাস্তার অবস্থা দুর্বিসহ!

মনে মনে বললাম, ম্যাডাম বিরক্ত হয়ে লাভ কি? সহ্য করে যান। যেহেতু ঢাকায় বসবাস করেন!

কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে থেকে মেয়েটা এদিক ওদিক তাকালো, বোঝা যাচ্ছে বাস আসছে কি না তা দেখছে।
হঠাৎ আমাকে জিজ্ঞেস করলো, আচ্ছা ভাইয়া, মিরপুর ১০ এর গাড়ি তো এদিক দিয়েই যায় তাই না!?

হ্যা, এদিক দিয়েই যায়। আপনি নিশ্চিন্তে অপেক্ষা করুন, সিগন্যাল ছুটলেই এসে পরবে।

ওহ, আচ্ছা আপনি তো ভিজে যাচ্ছেন বৃষ্টিতে।

কথাখানি শুনতে খুব কাব্যিক লাগলো, মনে হলো হৃদয় ছুঁয়ে গেলো...

তা ভিজছি, ব্যাপার না। ছাতা আনেনি ভিজতে তো হবেই!

আপনি আমার ছাতাটা শেয়ার করতে পারেন, সমস্যা হবে না ছাতাটা অনেক বড় আছে।

আমার কাছে এ এক স্বপ্নের মত মনে হলো, প্রথমে নিজের কানকে বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না, এই শহরে এরকম কেউ হয় নাকি, তাও আবার একজন রূপসী মেয়ে ..!!

আমি একটু লজ্জিত ভঙ্গিতে বললাম, না না তার দরকার হবে না, ইটস ওকে! আর এ এমন কি আর বৃষ্টি...

আহহা, ভাই, বৃষ্টি বাড়ছে, ছাতাটা শেয়ার করছি, আপনি ছাতার নিচে আশ্রয় গ্রহণ করুন।

কি আর করার!? এরকম সুন্দর করে করা অনুরোধ ফেলতে পারলাম না!
দুজন অপিরিচিত মানুষ শাহবাগ বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে একই ছাতার নীচে! একি স্বপ্ন নাকি বাস্তব....!

আমি কৃতজ্ঞতা ভরে ধন্যবাদ জানালাম!

মেয়েটা আমাকে বললো, ভাইয়া আমি এখানে ঢাকায় নতুন, আগে যশোর থাকতাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআর এ ভর্তি হয়েছি, আজকে প্রথম ক্লাস ছিলো।

ওহ, অভিনন্দন ও শুভ কামনা রইলো।

ধন্যবাদ ভাইয়া, আচ্ছা মিরপুর ১০এর বাস আসলে আমাকে দেখিয়ে দিবেন।

কোনো চিন্তা করবেন না বাসের গায়েই লেখা থাকবে আপনি দেখলেই বুঝতে পারবেন।

একটু চিন্তা মুক্ত হয়ে মেয়েটা বললো, ও আচ্ছা।

বলতে না বলতেই একটা বাস এসে পরলো, মেয়েটা কে বললাম, নিন উঠে পরুন বাসের সিটও খালি আছে।

মেয়েটা বাসে উঠবে এমন সময়, আপনি কোথায় যাবেন জিজ্ঞেস করতে তো ভুলে গেছি! আর বৃষ্টিতে ভিজে যাবেন তো।

ব্যাপার না, আমি উত্তরা যাবো। বাস এখুনি এসে পরবে। আপনি নিশ্চিন্তে সিটে বসে পরুন।

এরপর আস্তে আস্তে বাসটা সামনে চলে যেতে লাগলো, আমিও একটা বাস পেয়ে উত্তরার উদ্দেশ্যে উঠে পরলাম...

এভাবেই দুজনের পরিচয়; আসলে পরিচয় নাকি শুধু আলাপচারিতার মত কিছু! দুইদিন কথা হল, অথচ আমি মেয়েটার নাম জিজ্ঞেস করতেই ভুলে গেছি!!

.
আজকেও ঝিরিঝিরি বৃষ্টি অবিরত এই অবেলায়! অফিসের ছুটির সময়ও হয়ে গেছে। জানালার গ্লাস বৃষ্টির ছাটে ঘোলা হয়ে যায়। পরদিন সকালে আবার জানালা মোছা হবে। ঘোলা গ্লাস দিয়েই বাইরের বৃষ্টি মুখর পরিবেশ দেখছি। ভাবছি, মেয়েটার সাথে কি আজ দেখা হবে!? কি অপরূপ মেয়েটা, কি সুন্দর তার চোখ, তার কণ্ঠস্বর, তার কথা বলার ভঙ্গি! এক কথায় মায়াবী!

অফিস থেকে বের হলাম বরাবরের মতই ছাতা নেই হাতে। শাহবাগ বাসস্ট্যান্ডে এসে হাজির হলাম কুতকুত খেলার মতন টুকিটাকি লাফিয়ে লাফিয়ে, রাস্তায় কয়েক অংশ পানি জমে গেছে; কি আর করার! বৃষ্টিপাতের কোনো পরিবর্তন নেই; কমছেও না বাড়ছেও না।

কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে থেকে এদিক ওদিক তাকালাম। মনে মনে ভাবছি দেরি হয়ে গেলো নাকি! মেয়েটার সাথে কি দেখা হবে না আজ, নাকি এসে চলে গেছে?!
বুকের বাঁ'পাশে একটা চিনচিন অনুভূতি অনুভব করলাম!
মনে শুধু একটাই কথা প্রতিদ্ধনি হচ্ছে, আজ কি দেখা হবে তার সাথে? সে কই..?

বিকেল অস্তগামী হচ্ছে, ঝিরিঝিরি বৃষ্টি ঝরছে, রাস্তায় প্রতিনিয়তর জ্যাম বাড়ছে, ব্যস্ততা বাড়ছে আর আমার অপেক্ষাও বাড়ছে....

অগাস্ট ১৯, ২০১৭.
টঙ্গী, গাজীপুর।

.
*প্রিয় ব্লগার ভাই বোনেরা এই গল্পের সাথে বাস্তবের আদৌ কোনো মিল আছে কিনা তা আমার জানা নেই। যদি কেউ মিল খুঁজে পেয়ে থাকেন তাহলে এর জন্য নিজ দায়িত্বে দায়ী থাকিবেন

**আর ফেসবুক ও ব্লগ কপি-পেষ্টারদের বলছি, এইটা একটা একদম ফালতু গল্প, এরকম ফালতু বাজে একটা গল্প কপি করে নিজের নামে চালিয়ে দেয়ার কোনও মানেই হয় না!


লেখা সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
ছবি :- অন্তর্জাল।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা নভেম্বর, ২০১৭ সকাল ১১:৩৪
২৭টি মন্তব্য ২৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাও সে তুং-এর 'পিপলস কমিউন' ব্যবস্থা যেভাবে ৩-৪ কোটি মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬



চীনের আধুনিকায়নে মাও সে তুং-এর নেওয়া সবচেয়ে বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরীক্ষাগুলোর একটি ছিল কৃষির সমবায়িকরণ এবং "পিপলস কমিউন" ব্যবস্থা, ১৯৫০-এর দশকে শুরু হওয়া এই ব্যবস্থার মূল... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার রিসাচ পেপার পাবলিশভ

লিখেছেন মোঃ মােজদুল ইসলাম, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:৩৪

Hailstorm, Rain, Dust The effect of Climate Change in Bangladesh
XXXX
IOSR Journal of Environmental Science, Toxicology and Food Technology
2319-2402
International Organization of Scientific Research
www.iosrjournals.org
Open Access Publishing
Blind Peer Review Process
Indexed Refereed Journal
20
06
10.9790/2402-2006020106 ...বাকিটুকু পড়ুন

সংস্কৃতি হারালে, বাংলাদেশ শুধু মানচিত্রে থাকবে- আত্মায় থাকবে না

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৫৯

সংস্কৃতি হারালে, বাংলাদেশ শুধু মানচিত্রে থাকবে- আত্মায় থাকবে না

একটি জাতিকে ধ্বংস করতে সব সময় যুদ্ধ লাগে না।
তার ভাষা, সাহিত্য, গান, নাটক, ইতিহাস আর সংস্কৃতিকে ধীরে ধীরে নিশ্চিহ্ন করে দিলেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুমুখোচিন্তা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:১৬

সব মৃত্যু গণনায় আসে না। রাজনৈতিক সহিংসতার একটি পুরনো নিয়ম আছে। মৃত্যু সমান মৃত্যু নয়। কোনো মৃত্যু পত্রিকার প্রথম পাতায় যায়, কোনো মৃত্যু জয়পুরহাটেই থেকে যায়। এই বাছাইটা দৈবাৎ হয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিটিজেন ভিজিল্যান্টি থেকে কালেমার মিছিল: সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কতগুলো অশনি সংকেত - প্রথম পর্ব

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৮


গত মাসে আমেরিকায় "সিটিজেন ভিজিল্যান্টি" নামে মুসলিম ও অভিবাসীবিদ্বেষী একটি সিনেমা মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটি প্রথমদিকে দর্শকদের মধ্যে তেমন জনপ্রিয় হয়নি। পরে যখন ইলন মাস্ক এক্স প্ল্যাটফর্মে তার ২৪ কোটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×