somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক সময় আমাদের সবই সয়ে যায়, অবচেতন মন ভেবে নেয়- “এরকম তো ঘটেই”

০৫ ই আগস্ট, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বাসে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারার ঘটনা আমাদের সয়ে গেছে। এখন এরকম ঘটনার খবর শুনলে নিজের অজান্তেই শ্রবণন্দ্রীয় অন্যদিকে কর্ণপাত করে। পত্রিকায় এরকম খবর পড়তে এখন আর কেউ আগ্রহ বোধ করে না।অর্থাৎ, ভয়ঙ্কর একটি বিষয় স্বাভাবিকতা পেয়েছে।
গণজাগরণ মঞ্চের উত্তাল দিনে ব্লগার রাজীব হায়দার যখন খুন হল, তখন অনেক কিছু হল, প্রধানমন্ত্রী রাজীব হায়দারের পিতা-মাতাকে স্বান্তনা জানাতে বাসায় ছুটে গিয়েছিলেন। শাহবাগে রাজীব হায়দারের জানাজা হয়েছিল। গণজাগরণ মঞ্চ আরো উত্তাল হয়েছিল।
এরপরের ঘটনাগুলো ওরকমভাবে আর গুরুত্ব পায়নি, এমনকি অভিজিৎ রায়ের মত একজন গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞান লেখক খুন হওয়ার ঘটনায়ও তেমন কোন আলোড়ন সৃষ্টি হয়নি।
কিছুদিন আগে নৃশংসভাবে শিশু রাজন খুন হওয়াতে ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল কেঁপে উঠল। হয়ত ঘটনাটির ভিডিও এক্ষেত্রে টনিক হিসেবে কাজ করেছে।
এরপর মাগুরায় গর্ভবতী নারী গুলিবিদ্ধ হল, গতকালকে রাকীব নামে আরেক শিশুকে নজীরবিহীন বর্বরভাবে মলদ্বার দিয়ে কম্পেসারের পাইপ ঢুকিয়ে বাতাস ছেড়ে দিয়ে হত্যা করা হল।
এবার কিন্তু জনগণ তেমন কোন প্রতিক্রিয় দেখাচ্ছে না।
জনগণের প্রতিক্রিয়ার ব্যাখ্যা তাহলে কী? কখন জনগণ প্রতিক্রিয়া দেখায়? ঘটনার ভয়াবহতা, নাকি একে অন্যকে ছুঁয়ে দেয় বলে ছোঁয়াছে রোগের মত প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়? এক্ষেত্রে মব ফিলিংস কাজ করে নাতো? সেটি তো ভয়ের বিষয়। মবের যে ফিলিংস ‘অপরাধীকে’ গণপিটুনি দেয়, সেই একই ফিলিংসই কী তাহলে রাজন-রাকীব-মিলনের হত্যাকারীদের বিচার চায়, নাকি আসলেই জনগণ এক্ষেত্রে সচেতন? সচেতন হলে তো প্রতিটি ঘটনায় প্রতিবাদ জানানোর কথা, এবং এরকম ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেজন্য সোচ্চার হওয়ার কথা। যে জনগণ প্রতিবাদী, সেই জনগণই, অর্থাৎ আমাদেরই কেউ আবার হত্যাকারী নয় তো? সেক্ষেত্রে বৃহত্তর দায় কিন্তু নির্দিষ্ট ঐ খুনীর নয়, দায়টা সমাজের। দায় নিতে কি আমরা প্রস্তুত, নাকি খুনীকে খুন করে দায় এড়াব এবং এরকম আরেকটি ঘটনার খবর শোনার জন্য অপেক্ষায় থাকব?
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ৮:৩৪
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটি মুমূর্ষু কবিতা

লিখেছেন সালমান মাহফুজ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১১



আমি আর কবিতা লিখব না বলেও
লিখে ফেলি একটি মুমূর্ষু কবিতা–
জন্ম নেয়ার আগেই যারা অবিরাম
মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে, লাথি মারছে
পদ্যের চিরায়ত চোয়ালে !
পঙক্তিতে পঙক্তিতে পথ হেঁটে
প্রচণ্ড পিপাসায় আমি পান করি
কবিতার স্নিগ্ধ জল; আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম হিসেবে গর্ব করার কিছু নেই......

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আমরা যারা আপাত দৃষ্টিতে হায়েনা নই কিন্তু নিরবে স্বচক্ষে হিন্দুদের সর্বনাশ দেখে যাচ্ছি তারা সবচেয়ে বেশি দায়ী। অথচ বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রীষ্টান, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙ্গালী-এই বৈষম্যহীনতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অল্প একটু পাশে থেকো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১০



আমাকে খুব বেশি কিছু দিতে হবে না,
এক মুঠো আকাশও নয়,
আচেনা কোনো বিকেলও নয়।

শুধু কখনো কখনো
আমার নির্জন ঘরের দরজায়
টোকা দিয়ে দাঁড়িয়ো, যেন বুঝতে পারি
ফুরিয়ে যাবার বেলা এখনো আসেনি ।

আমাকে প্রতিদিন মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ এসেছে শরৎ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৩১



শরৎ-প্রাতে শিউলি ঝরা ক্ষণে
দিবাকর ছড়ায় হাসি।
দিঘির জলে রক্তিম পদ্ম
ফুটেছে রাশি রাশি।

ছাতিম গাছের নিভৃত নির্জনে
সবুজ পাতার ঘ্রাণ।
সুখ আহ্লাদে ডাকছে নিসর্গ
উচাটন মন প্রাণ। 

স্নিগ্ধ  বাতাস দোলা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইনকা চিপা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৬


এখন পর্যন্ত জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকা ছেড়ে বাড়িতে চলে আসা। যে সময়ে শ্রেণীকক্ষে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান করার কথা, সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×