somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কেমন ছিল জাতিসংঘের সদ্য নির্বাচিত মহাসচিব এন্তোনিও গুত্তেরেসের রাজনৈতিক ও পেশাজীবন

১৪ ই অক্টোবর, ২০১৬ রাত ৮:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে তাঁর পড়াশুনা এবং বেড়ে ওঠা। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পড়াশুনা করছেন পদার্থ বিজ্ঞান এবং ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ। অধ্যাপনা করেছেন বছর তিনেক, শেষ পর্যন্ত রাজনীতিতে থিতু হয়েছিলেন। সমাজ তান্ত্রিক দলের প্রধান হিসেবে বিরোধী দলীয় নেতা থেকে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন।

এন্তোনিও গুত্তেরেস কে নিয়ে কানাঘুষা শুরু হয় মূলত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে। পার্টির মধ্যেই তিনি সমালোচিত ছিলেন এই বলে যে তিনি সমাজতান্ত্রিক গণতন্ত্র থেকৈ পুঁজিবাদী গণতন্ত্রের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন।

কর্মজীবন পর্যালোচনা করলে সে সাক্ষ্য পাওয়া যায়। দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রধানও হয়েছিলেন। এরপর বছর দশেক জাতিসংঘের উব্দাস্তু সংস্থায় কাজ করে শেষ পর্যন্ত বিশ্ব সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বগুরুত্বপূর্ণ ফোরামের মহাসচিব নির্বাচিত হলেন আনুষ্ঠানিকভাবে গত বৃহস্পতিবার। অবশ্য একজন মহিলা জাতিসংঘের মহাসচিব হতে পারেন বলে একটি আলোচনা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। ইউনেস্কো মহাসচিব ইরিনা বোকোভা এবং ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের মানব সম্পদ বিভাগের প্রধান ক্রিস্টালিনা ইভানোভা আলোচনায় ছিলেন। গুত্তেরেসের পক্ষেই নিরাপত্তা পরিষদ থেকে শেষ সুপারিশ আসে। পোলে আরো ছিলেন লাটভিয়ার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ভাইরা ভাইক-ফ্রেইবারগা, ইউনিফেমের অন্যতম পরামর্শক, চেয়ার জায়েদ আল-হুসেইন, শ্রীলংকার রাষ্ট্রপতির অন্যতম জৈষ্ঠ উপদেষ্টা জয়ান্তা ধানাপালা। ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা প্রতিযোগিতা থেকে নিজেকে উইড্রো করেছিলেন শেষ মুহূর্তে। ধারণা করা হচ্ছে ইয়েমেন, সিরিয়া, সাউথ সুদানের মত ঝঞ্জাপীড়িত এবং সংঘাতময় দেশের উদ্বাস্তু সমস্যা নিয়ে ‘সফলভাবে’ কাজ করায় গুত্তেরেসের পক্ষে ১৩টি ভোট পড়েছে। শান্তি রক্ষায় গুত্তেরেস নতুন ধারণাও এনেছেন, তিনি বলে থাকেন- “শুধু ‘শান্তিরক্ষা শান্তিরক্ষা’ করে কিছুই রক্ষা করা যাবে না, প্রতিরোধ করেতে হবে। শান্তি রক্ষার প্রয়োজন যেন না হয়।”

১ জানুয়ারি ২০১৭ থেকে গুত্তেরেস (৬৭) বর্তমান মহাসচিব বান কি মুনের স্থালাভিষিক্ত হবেন নবম মহাসচিব হিসেবে। এর আগে তিনি ১৯৯৫ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী এবং ২০০৫ থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একজন সংস্কারবাদী হিসেবে তাঁর পরিচিতি রয়েছে।

গুত্তেরেস Instituto Superior Técnico বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ বিজ্ঞান এবং ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়াশুনা করেছেন। ১৯৭১ সালে শিক্ষাজীবন শেষ করে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। এরপর শিক্ষকতা জীবন ছেড়ে ১৯৭৪ সালে Socialist Party তে যোগ দেন। ১৯৭৪ সাল থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে তিনি পার্টির অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

Aníbal António Cavaco Silva সরকারের আমলে তিনি পার্টিতে মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন এবং বিরোধীদলীয় প্রধান হিসেবে বিবেচিত হন। ১৯৯২ সালের দিকে তিনি Socialist International এ সহসভাপতির পদ লাভ করেন।

১৯৯৫ সালের নির্বাচনে গুত্তেরেস -এর দল জয়লাভ করে এবং তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। গুত্তেরেস পর্তুগালে খুব জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। বাজেট ঘাটতি কমিয়ে কল্যানমুলক অর্থনীতিতে ব্যয় বাড়াতে তিনি সমর্থ হয়েছিলেন।

১৯৯৯ সালে তিনি আবার নির্বাচিত হয়েছিলেন কিন্তু দলের অভ্যন্তরীণ অনেক সমস্যার ফলে সফল হতে পারেননি, এরমাঝে ১৯৯৯ থেকে ২০০০ European Counci এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০০১ সাল তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব হতে পদত্যাগ করেন। এরপর রাষ্ট্রপতি জার্গো সামপাইয়ো সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন ঘোষণা করেন। পদত্যাগকালে গুত্তেরেসের উক্তিটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেছিলেন, “দেশকে রাজনৈতিক কর্দমাক্ততার মধ্যে পতিত হওয়া থেকে রক্ষা করতে আমি পদত্যাগ করলাম।”

নিরাপত্তা পরিষদে ভোটাভুটির মাধ্যমে এবং ১৫দেশের পরামর্শে ১৩অক্টোবর ২০১৬ সাধারণ পরিষদের ১৯৩টি দেশের চূড়ান্ত মনোনয়নের মধ্য দিয়ে গুত্তেরেস পরবর্তী মেয়াদে জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন।

আশা করা হচ্ছে, জাতিসংঘে গিয়েও তিনি বিশেষ কিছু করে দেখাবেন, কারণ, গুত্তেরেসবাদীরা মনে করছেন, জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক সংস্থায় কাজ করার সময় তিনি বেশ সফলই ছিলেন। এছাড়া গুত্তেরেসের মধ্যে সমাজতন্ত্র এবং পুঁজিবাদের সমন্বয় খুঁজে পেতে চাচ্ছেন অনেকে। তাই, শেষ প্রশ্ন হিসেবে দেখা দিয়েছে, জাতিসংঘের আগামী মহাসচিব কি নিজেকে কোনোভাবে পরিচিত করাবেন, নাকি একজন কূটনীতিক হয়েই থাকবেন শুধু?

উল্লেখ করার মত বিষয় হচ্ছে সিরিয়ার শরাণার্থী বিষয়ক সংকট নিয়ে কাজ করার সময় তিনি ওয়াশিংটন এবং ওবামা সরকারের কড়া সমালোচনা করেছিলেন। মনে রাখতে হবে, জাতিসংঘে রাশিয়ার এম্বাসেডর গুত্তেরেসের পক্ষে সাফাই রেখেছেন বেশ সরবেই। গুত্তেরেসের মহাসচিব হওয়ার ঘোষণাটিও এসেছে পদাধিকার বলে রাশিয়ার এম্বাসেডর ভিতালি চারকিনের কাছ থেকেই। মনে রাখতে হবে, একমাত্র যুক্তরাষ্ট্র নিয়োজিত জাতিসংঘের এম্বাসেডর গুত্তেরেসকে ভোট দেননি।
সূত্র: vox, huffingtonpost, leadership, উইকিপিডিয়া, ভক্স
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই অক্টোবর, ২০১৬ রাত ৮:২৬
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২


একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা
শুধু ২১ আগস্টের সেই ভয়াল গ্রেনেড হামলাই নয- বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে ১৯৮৮ সাল থেকে আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা - প্রমাণ

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:১২



ব্লগার সাহেব আমেরিকা থেকে লিখেছেন, “অমুক আসলে মুক্তিযোদ্ধা নন।”

আমি বন্ধুকে ফোন করলাম।
বললাম, “তুমি নাকি ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা?”

সে বলল, “বুঝতে পারছি না।”

“কেন?” আমি প্রশ্ন করলাম।

“১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন লা-মাযহাবিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কারণ কী ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৩২


আজকে নতুন চারটি মুখ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলো। এর মধ্যে একজনকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে । বলছি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনের কথা। তিনি একজন লা মাযহাবি বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×