somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফ্রেন্ডশিপ ডে তে লিখেছিলাম কিছু

০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ১১:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফ্রেন্ডশিপ ডে তে সবাই বফ গফ নিয়ে লিখে।
হ্যাঁ আমারো দুইটা ভাল বন্ধু আছে।
একেবারে কাছের।
আজ ঘুম থেকে উঠলাম খুব সকালে,
ঘুম থেকে উঠেই আম্মুর কাছে চলে গেলাম।
_আম্মু
_হুম
_কেমন আছ?
_ঐতুই ঠিক আসস ত?
আজকে ঘুম থেকে এত তাড়াতাড়ি?
আমার ছেলে ত ৯টার আগে ঘুম থেকে উঠে না?
আজ এত তাড়াতাড়ি?
_আম্মু
_কি হয়ছে? বাজে স্বপ্ন দেখছিস মনে হয়?
কত বার বলি নামায পড়তে তাও পড়িস না।
_আম্মু আমাকে কথাটা বলতে দাও।
_হুম বলেন।
_এক্টু আগেই ত তুই করে বলছিলা?এখন আপনি করে বলতেছে?
_হুম বলব না ছেলে আমার লায়েক হয়ছে।কিছু দিন দেখতেছি মাকে সকাল সকাল শুভ সকাল ও বলতেছে।
_আম্মু হ্যাপী ফ্রেন্ডশিপ ডে।
_নিশ্চয় ছেকা খাইছিস?
_না আম্মু তুমার ছেলে ছেকা খাবে এটা বিলিভ কর?
_হুম করি।এত ফ্রেন্ড গাল ফ্রেন্ড থাকতে সবার আগে আমাকে উইস?তারমানে ত তাই দাড়ায় যে তুই ছেকা খাইসিস।
_আম্মু ছোট থেকে এত বড় করলা তুমার চেয়ে বড় বন্ধু আর কে আছে?
_আমি ত আজকে জানতাম না যে আজকে ফ্রেন্ডশিপ ডে।
_সারপ্রাইজ :-D
_কি খাবি?
_তুমার হাতের সেই ফেভারিট মুড়িখন্ড।সাথে রুই মাছের মাথা।
_ফ্রিজে রুই মাছ নেই,ইলিশ মাছ আছে।দাড়া তোর। বাবাকে কল দেই।
___________________________
_এই বিজি নাকি?
_হুম বিজি।
_রাখ তুমার বিজি তুমার কাছে।দেখ ত খিলগাও মাছ বাজারে রুই মাছ উঠছে কি না?
_আজিব!মাছ বাজারে মাছ থাকব না তা কি হয়?
_রুই মাছ নিয়া আস বাসায় ১হালি।
_এত মাছ দিয়া করবে টা কি?
_মাছের খামার দিব।নিয়া আসতে বলছি নিয়া আস।
১০টায় বাবা আসল,
এই নাও রুই মাছ।
_আজকে কি বাসায় মেহমান আসছে?
_নাহ আজকে বাসায় আমরাই মেহমান।
আম্মু তুমি মাছ নিয়ে রান্না ঘরে যাও।
বাবা তুমি এদিকে এক্টু আস ত?
_কিরে আজকে বাসায় কি হয়ছে?
_বাবা,কেমন আছ?
_আমার ছেলে আমাকে বলে আমি কেমন আছি নিশ্চয় ঘাবলা আছে?টাকা লাগব বুঝতে পারছি।আমার কাছে টাকা নাই।
_বাবা আমি কি তুমার কাছে টাকা চাইছি?
_না।
_তাহলে বুঝ না ত কিছু পরের লাইন কমুনা। :-P
_বাবা হ্যাপী ফ্রেন্ডশিপ ডে।
_আমার ক্যাটবেরী কই?
_আজকে ফ্রেন্ডশিপ ডে!আমি জানতামই না।
_আগে চকলেট বাইর কর।
_তুর চকলেট খাওয়া বয়স আছে?চকলেট খাইব আমার নাতি নাত কর।
_ :O
দেখ ত সাইফ তোর আম্মুকে কি করে রান্না ঘরে?
_মুড়িখন্ড রান্না করতেছে।
_মুড়ি যেন বেসি দেয়। আমি কিন্তু একাই সবার করে ফেলমু কম মুড়ি দিলে।
ঐ দিক থেকে আম্মু রান্না ঘর থেকে,
_তুমি এখনো অফিসে যাও নাই?
_ছুটি নিয়া আইসা পড়ছি :-D
_ছুটি কে নিতে বলছে?
_ছুটি না নিলে এখন কি বাসায় আসতে দিত?
_হয়ছে আর অজুহাত দেখাতে হবে না।
এই হল আমার পরিবার সদস্য সংখ্যা মাত্র ৫জন।
এইভাবেই প্রতিদিন চলতে থাকে।
পরিবারে বাবার চেয়ে মাকেই বেসি গুরুত্ব দেই।
কেননা জন্মের পর থেকে চাওয়া পাওয়া থেকে শুরু করে আজ পযন্ত মাকেই সব কথা বলছি।
কেন জানি ব অক্ষরের বাবাকে বলতে পারি না।
কারন ছোট থেকেই বাবার সাসন টাই বেশি পেয়েছি।
এক দিন রাগ করে ছিলাম,
অনেক রাগ।
নাওয়া খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিয়ে ছিলাম।
বাবা নামের মানুষ গুলো একটু বেশিই উপদেশ দেয়।
কেন দেয়?
আজ বুঝি।
কারন সেদিন না বুঝেই রাগ করতাম।
সেদিন না বুঝে রাগ করে একলা রুমে খাওয়া দাওয়া ছেড়ে পড়ে আছি।
আম্মু ভাবছে আমি আম্মুর উপর রাগ করছি,
আর বাবা ভাবছে বাবা যেহেতু এত উপদেশ দেয় সেহেতু তার ছেলের রাগ টা বাবার উপরেই।
রুমে বসে আছি।
বাসার কেউ এক ফুটা পানিও মুখে নেয়নি।
বাড়ির বড় ছেলেই না খেয়ে আছে।
সবাই নিরব।
রাত অনেক হয়ছে,অনেক খিদাও লাগছিল।
এমন সময় বাবা আসছে,
আমি দেখেও না দেখার বান করে ঘুমের ভাব ধরলাম।
_এই উঠ অনেক রাত হয়ছে,
_নাহ ইচ্ছা নাই।
_বাসায় কিছু রান্না করে নাই।আমি বাহির থেকে বিরিয়ানি আনছি উঠ খেয়ে নে।
_বললাম না খেতে ইচ্ছা করছে না।
_বাবা অনেক কথাই বলে।কেন বলে? ছেলেদের ভালর জন্যই বলে।
_বাবা আবার উপদেশ।খাবই না।যাও এখান থেকে।
_ আমি খাইয়ে দিতেছি হা কর, হা হা আর বড় হা কর।
_বাবা গাল ত ছিড়ে যাবে।
_যাক তুবু পেট ত ভরবে।
_বাবা তুমি খাইছ?
_হুম খাইছি।
_আমি জানি তুমি কিছু খাও নাই।
_খাইছি।
_আমি জানি আম্মু আজকে কিছু রান্না করে নাই।তুমি কিছু খাও নাই।ফিফটি ফিফটি বাবা হাফ হাফ ভাগ ভাগ :-D
_আচ্ছা আচ্ছা টিক আছে।
খাওয়া শেষ।
_এই ঘুমিয়ে পড়।
_আচ্ছা বাবা।
আর শুন আমি যে আসছি তোর আম্মুকে বলবি না।
_আচ্ছা বাবা।
এক টু পর মা আসছে,
_ছোট সাহেব,
আমি দেখেও না দেখার বান করে শুয়ে আচ্ছি।
_এই উঠতে হবে না।শুয়ে থাক,আমি খাইয়ে দিচ্ছি।মোরগ পোলাও।
_আম্মু আজকে ত কিছুই রান্না করনি তুমি। আমি তোদের ৩ ভাই বোনের জন্য রান্না করে ফ্রিজে রেখে দিসি।
তোর বাবা ফ্রিজ খুলেও না জানেও না।
আমি খাইয়ে দিচ্ছি।
_আম্মু তুমি খাবা না?
_ইচ্ছা করছে না রে।তুই খাইলেই আমার পেটে যাবে।
_আম্মু তুমি নিজেও খাও আমাকেও খাইয়ে দাও।ফিফটি ফিফটি হাফ হাফ ভাগ ভাগ :-D
_লায়েক হয়ছে ছেলে আমার।
খাওয়া শেষ।
শুয়ে পড় এখন।
_আচ্ছা আম্মু।
আর শুন আমি যে আসছি তোর বাবাকে বলবি না।
আজ ফ্রেন্ডশিপ ডে।
আজ আম্মু মুড়িখন্ড বানিয়েছে।
খাওয়ার টেবিলে বসে সেই আগের কথা গুলই বলতে ছিল আম্মু আর বাবা।
আর সবচেয়ে হাসির বিষয় হল সেই দিনের রাতে বেলা বাবা এসে খাইয়ে দিয়ে চলে,যাওয়া।
আম্মু এসে খাইয়ে দিয়ে চলে যাওয়া আর যাওয়ার সময় বলা আমি যে আসছি তোর মাকে বলবি না,
আমি যে আসছি তোর বাবাকে বলবি না।
এই কথাগুলা জানা জানি হওয়ার পর খাওয়ার টেবিলে অনেক হাসাহাসি হয়তেছিল।
এই রকম আরো অনেক কাহিনী হয়ে থাকে আমার পরিবারে।
আমার কি ভাগ্য?
তাই না?
মাঝে মাঝে মনে হয়,
আমি মরার আগেই সর্গ পেয়ে গেছি।
আচ্ছা আমার না হয় কোনো গালফ্রেন্ড নেই।
তবে আমার যে দুইটা বন্ধু আছে,
তোমাদের কি আছে?
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ১১:৪৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×