মহামারির কবলে পড়ে বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য সেক্টরে নাজুক পরিস্থিতি বিদ্যমান। অপ্রতুল জনবল কিংবা চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে প্রকৃতির এই তাণ্ডব মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে সকল দেশ।
স্বাভাবিক অবস্থাতেই বাংলাদেশে জনগণের অনুপাতে যে পরিমাণ চিকিৎসক দরকার ছিলো সে তুলনায় সর্বসাকূল্যে আছে প্রায় এক অর্ধেক। সেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকের সংখ্যা নিতান্ত নগন্য।
সাধারণ অবস্থায় WHO এর মতে প্রতি হাজার জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজন ১ জন চিকিৎসক। সে মোতাবেক বাংলাদেশে মোট ১ লক্ষ ৭০ হাজারের মত চিকিৎসক প্রয়োজন ছিলো। সেখানে সর্বসাকূল্যে চিকিৎসক আছেন ১ লাখের মত, এবং সরকারি খাতে সেটা ২৮ হাজারের কাছাকাছি। বলাবাহুল্য বর্তমান পরিস্থিতিতে এই মামুলি জনবল নিয়ে তুমুল চাপ অনুভব করছে স্বাস্থ্যখাত। যেখানে কয়েকদিনের ডিউটি শেষে কোয়ারানটাইনের প্রয়োজনে জনবল যা ছিলো তাও অনেকাংশে কমে যাচ্ছে।
গেলো কয়েকবছরে শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি, নতুন প্রতিষ্ঠান নির্মান কিংবা অবকাঠামোগত নানান উন্নয়ন সত্ত্বেও জনবলের অভাবে ধুঁকে চলেছে স্বাস্থ্যখাত। সরকার সাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বেশ কিছু নিয়োগের সদুপায় গ্রহণ করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ একসময়ের সকল নার্সকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ৩৯ বিসিএসের পর আরেকটি বিসিএস তথা ৪২ এর মাধ্যমে চিকিৎসক নিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও তা মহামারির কবলে পড়ে থমকে গেছে। দেখা যাবে নিয়োগ হতে হতে পরিস্থিতি আরো বেশি নাজুক হয়ে পড়েছে। তথাপি এ নিয়োগও যথেষ্ট নয় তা বলা বাহুল্য।
এরকম নাজুক পরিস্থিতিতে কিছুটা আশার সঞ্চার করতে পারে, সরকারের হাতে কোয়ালিফাইড ৬ হাজার চিকিৎসক সেবাদানের সুযোগের অপেক্ষায় আছে। ৩৯ তম বিসিএসের মাধ্যমে উত্তীর্ণ এই চিকিৎসকগোষ্ঠী পদস্বল্পতার কারনে নিয়োগ না পেলেও সময়ের প্রয়োজনে তাঁরায় হতে পারে সরকারের বড় হাতিয়ার। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে এসকল চিকিৎসক নিয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবেলায় গতি সঞ্চারই হবে সকল পক্ষের বিশেষত জনগণের জন্য লাভের।

সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুলাই, ২০২১ রাত ১১:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




