somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমরা শোকাহত

২০ শে মার্চ, ২০১৬ রাত ১০:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


১৯৬৫ সালের ৩১ মার্চ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে দিতির জন্ম। ১৯৮৪ সালে নতুন মুখের সন্ধানের মাধ্যমে দেশীয় চলচ্চিত্রে পদার্পণ করেন তিনি। তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র উদয়ন চৌধুরী পরিচালিত ‘ডাক দিয়ে যাই’। যদিও ছবিটি শেষ মুক্তি পায়নি। দিতি অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম চলচ্চিত্র ছিল আজমল হুদার ‘আমিই ওস্তাদ’।
৩১ বছরের অভিনয়জীবনে দুই শতাধিক ছবিতে কাজ করেছেন দিতি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে আছে এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘হীরামতি’, ‘দুই জীবন’, ‘ভাই বন্ধু’, ‘উছিলা’, ‘লেডি ইন্সপেক্টর’, ‘খুনের বদলা’, ‘দুর্জয়’, ‘আজকের হাঙ্গামা’, ‘স্নেহের প্রতিদান’, ‘শেষ উপহার’, ‘চরম আঘাত’, ‘স্বামী-স্ত্রী’, ‘অপরাধী’, ‘কালিয়া’, ‘কাল সকালে’, ‘মেঘের কোলে রোদ’, ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’, ‘মুক্তি’, ‘কঠিন প্রতিশোধ’, ‘জোনাকীর আলো’, ‘তবুও ভালোবাসি’, ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী’, ‘হৃদয় ভাঙা ঢেউ’, ‘মাটির ঠিকানা’, ‘নয় নম্বর বিপদ সংকেত’ ও ‘সুইটহার্ট। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে ‘ধূমকেতু’ ছবিটি।
সিনেমার পাশাপাশি টিভি নাটকেও অভিনয় করেছেন দিতি। নাটক পরিচালনাও করেছেন। এ ছাড়া রান্নাবিষয়ক অনুষ্ঠানও উপস্থাপনা করেছেন। অভিনয়ের বাইরে মাঝে-মধ্যে গান গাইতেও দেখা গেছে তাঁকে। প্রকাশিত হয়েছে তাঁর একক গানের অ্যালবামও। বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেলও হন তিনি।
চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরীকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন দিতি। তাঁদের সংসারে লামিয়া ও দীপ্ত নামের দুই সন্তান রয়েছে। সোহেল চৌধুরীর মৃত্যুর পর চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনকে বিয়ে করে সংসার শুরু করেন দিতি, সে বিয়ে টেকেনি।
জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী ঢাকার এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন।
মস্তিষ্কে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ায় ২০১৫ সালের ২৫ জুলাই থেকে ভারতের চেন্নাইয়ের মাদ্রাজ ইনস্টিটিউট অব অর্থোপেডিকস অ্যান্ড ট্রমাটোলজি (এমআইওটি) হাসপাতালে নেয়া হয়। মাঝে কিছুটা সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে আসেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে সেই বছরের নভেম্বরে আবারও একই হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তাঁকে। বেশ কিছুদিন চিকিৎসাধীন থাকার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ৮ জানুয়ারি তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। দেশে ফেরার পরপরই তাঁকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের আইসিইউতে থাকাকালীন ২০১৬ সালের ২০ মার্চ বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যগ করেন।
পারভিন সুলতানা দিতির মৃত্যুতে আমরা শোকাহত । সামু ব্লগাররা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।
প্রিয় ব্লগার প্রবাসী পাঠক তার ফেসবুকে লিখেন-
চিঠি কেন আসে না,
আর ভালো লাগে না
ভুলেছো কি তুমি
আমাকে?
ভুলেছো কি নাম ঠিকানা?
অনন্ত কালের যাত্রায় ওপারে বসে হয়ত এভাবেই আক্ষেপ করছেন আমাদের প্রিয় নায়িকা দিতি! ভালোবাসার চিঠিগুলো না পেয়ে হয়ত ভাবছেন আমরা আপনাকে ভুলে গিয়েছি! কিন্তু না তা তো হবার নয়। আমরা কখনোই ভুলতে পারব না আপনাকে। ভালোবাসা মোড়ানো চিঠিগুলো আমরা ঠিকই পাঠিয়ে যাব আপনাকে। কিন্তু সেই চিঠিগুলো আপনার কাছে পৌঁছে দেয়ার মত পোস্ট অফিস যে আমাদের জানা নেই। তাই ভালোবাসার রঙ্গিন চিঠিগুলো আকাশের ঠিকানাতেই পাঠিয়ে দেব। আপনি সবসময় থাকবেন আমাদের, ভালবাসায়, শ্রদ্ধায় এবং দোয়ায়। মহান আল্লাহ্‌ তায়ালার কাছে আপনার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।


সংক্ষিপ্ত দিতি পরিচিত এবং কিছু ছবি[



পারভীন সুলতানা দিতি
জন্ম -৩১ মার্চ ১৯৬৫,সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ
মৃত্যু - মার্চ ২০, ২০১৬ (৫০ বছর) ঢাকা
জাতীয়তা-বাংলাদেশী
বংশোদ্ভূত-বাঙালি
নাগরিকত্ব-বাংলাদেশী
পেশা-অভিনেত্রী, মডেল, টিভি উপস্থাপক
কার্যকাল-১৯৮৪ – ২০১৬
যে জন্য পরিচিত-চলচ্চিত্র অভিনেত্রী
ধর্ম-ইসলাম
দম্পতি-সোহেল চৌধুরী, ইলিয়াস কাঞ্চন (তালাকপ্রাপ্ত)

ছবি ১



ছবি ২



ছবি-৩



ছবি-৪



ছবি-৫



ছব ৬


ছবি-৭


ছবি-৮



দিতি যখন অসুস্থ ছিলেন




প্রত শুক্রবার বাংলা মুভি দেখার সময় বিজ্ঞাপন বিরতিতে দেখা দিতির সেই বিজ্ঞাপন -পাকিজা প্রিন্ট শাড়ি


দিতি অভিনীত প্রিয় শত্রু সিনেমার রুনা লায়লার কণ্ঠে একটি গান


পোষ্ট সহায়তায়- বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম এবং গুগুল মামু
পোষ্টে ঘুরে যাবার জন্য সবাই কে ধন্যবাদ ।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মার্চ, ২০১৬ রাত ১০:৩২
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্পঃ যখন মানুষটা চলে যায়

লিখেছেন সামিয়া, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৩




স্ত্রী বাসা থেকে চলে যাওয়ার পর মানুষের মাথায় কী কী চিন্তা আসে আমি জানি না। কেউ হয়তো প্রথমে রাগ করে। কেউ ভেঙে পড়ে। কেউ সঙ্গে সঙ্গে আত্মীয়স্বজনকে ফোন করে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

দশ বছরের ব্লগিং—মিষ্টি মুখ হোক সবার

লিখেছেন কাওসার_সিদ্দিকী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৯

আজ আমার ব্লগিং যাত্রার দশ বছর দুই মাস পূর্ণ হলো। এই দীর্ঘ সময়ে পাঠকদের ভালোবাসা, মন্তব্য আর সমর্থন আমাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

এই আনন্দ ভাগাভাগি করতে চাই আপনাদের সবার সাথে—তাই আজকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেতন বৃদ্ধি পাওয়ায় এত উত্তেজিত হওয়ার কিছু নেই ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:০২


নতুন পে স্কেল নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। বেতন কত বাড়বে এবং নতুন কাঠামো বাস্তবে কেমন হবে, এসব প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে। নতুন বেতন কাঠামোয় ১ থেকে ১১... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপেল নিয়ে যত গল্প পর্ব - ০১

লিখেছেন অধীতি, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:১১

আপেল, আমাদের পরিচিত ফল সমুহের ভেতরে অন্যতম। দেখতে সুন্দর, খেতে মিষ্টি এই ফলটির আমাদের জীবনের সঙ্গে মিশে গেছে। আপেল এক অদ্ভুত ফল। বাসায় মেহমানকে আপ্যায়ন থেকে শুরু করে রোগী দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ অদৃশ্য পাতায় লেখা ছিল যে

লিখেছেন সামিয়া, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২১



আমি একটা বায়িং হাউসে চাকরি করতাম। তখন জীবনটা খুব সাধারণ ছিল। সকালবেলা অফিস, সারাদিন কাজের চাপ, সন্ধ্যায় বাসায় ফেরা। ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা ছিল না। বিয়ে নিয়ে তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×